পনের বছর পরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি রাঙ্গামাটির জুরাছড়ি উপজেলাধীন ১নং ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে ডেবাছড়ার মেম্বারপাড়া এলাকায়। একটি ব্রীজ না থাকাতে প্রতি বছর ভোগান্তিতে যাতায়াত করতে হয় প্রায় ৮০ পরিবারের গ্রামবাসীর। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি বছর কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে গেলে বাঁশের ভেলা দিয়ে এপার থেকে ওপার হতে হয় এলাকাবাসীদের। মাত্র দুই থেকে তিন মাস পায়ে হেঁেট চলাচলে উপযোগী থাকে রাস্তাটি। অবশিষ্ট মাসগুলো বর্ষার মৌসুমে বাশেঁর ভেলা দিয়ে যাতায়াত করা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। এতে এলাকায় পড়–য়া ছাত্র-ছাত্রীদেরও বিদ্যালয়ে যেতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
এদিকে বর্তমান সরকারের জনপ্রতিনিধিরা পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলের উন্নয়নের কথা মুখে বললেও বাস্তবে কোনো উন্নয়ন হয়নি বলে দাবি করেছেন ভূক্তভোগী গ্রামবাসীরা।
১৯৬০ সালের কাপ্তাই বাঁধের ফলে বসতভিটা হারায় প্রায় ৬ লাখের অধিক পাহাড়ি আদিবাসী পরিবার। কাপ্তাই বাঁধের ফলে পানিতে ডুবে যায় বসতবাড়ির জমি,রাস্তাঘাট। প্রতি বছর বর্ষার মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি যখন বেড়ে যায় তখন বাশেঁর ভেলা দিয়ে পারপার হতে হয় ডেবাছড়ার মেম্বারপাড়া গ্রামবাসীদের। পনের বছরের দাবি পূরণে যেন নেই কোনো বর্তমান সরকারের জনপ্রতিনিধি। তবে ব্রীজের কাজ করার জন্য অনেক আগে থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন, জুরাছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সুরেশ কুমার চাকমা। এছাড়াও রাস্তাঘাট,কালভার্ট,ব্রীজ নির্মাণ করতে হলে জেলা পরিষদ এবং উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান সুরেশ কুমার চাকমা।
ভূক্তভোগী গ্রামবাসী প্রেমরঞ্জন চাকমা বলেন,বর্ষার মৌসুমে পানি ভরপুর হলে আমাদের বাশেঁর ভেলা ছাড়া পারাপারের জন্য কোনো উপায় থাকে না। বাঁশের ভেলা তৈরী করে প্রতি বছর বর্ষার মৌসুমে এপার থেকে ওপার হতে হয়। এলাকায় একটি ব্রীজ নির্মাণ করা হলে এলাকার ছেলে-মেয়েরাও নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারবে।
জুরাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যানন চাকমা বলেন, ব্রীজের বিষয়ে অনেকবার উপজেলা পরিষদকে অবগত করা হয়েছে। সরকারের জনপ্রতিনিধিরা যদি এগিয়ে আসেন তবেই ব্রীজ নির্মাণে সহজ হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ ইএম























