০৩:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

হাসপাতালে মারধরে নিহত পুলিশ কর্মকর্তার দাফন গাজীপুরে সম্পন্ন

ঢাকায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে হাসপাতাল কর্মীদের মারধরে নিহত বরিশালের এএসপি মো. আনিসুল করিমের মরদেহ গাজীপুর সিটি কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় ভাওয়াল রাজবাড়ি মাঠে জানাজা শেষে দাফন করা হয় তাকে। এর আগে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বজনরা ফুলেল শ্রদ্ধা জানান তাকে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আজাদ মিয়া, কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আমানত হোসেন খান, মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তারাসহ রাজনৈতিক নেতা এবং সর্বস্তরের জনগণ নিহত পুলিশ কর্মকর্তার জানাজায় অংশ নেন। পরে তাকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।

পুলিশের সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিমের মৃত্যুতে তার পরিবার, এলাকাবাসী ও নিহতের বন্ধুদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যু খবরে তারা নিহতের বাড়িতে জড়ো হন এবং জানাজায় শরিক হন।

নিহত আনিসুল করিমের বড় ভাই রেজাউল করিম জানান, চার ভাইবোনের মধ্যে আনিসুল করিম সবার ছোট। বাবা ফাইজুদ্দিন আহমেদ বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাদের গ্রামের বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সম্মানিয়া ইউনিয়নের আড়াল গ্রামে। তারা সিটি করপোরেশনের বরুদা এলাকায় প্রায় ৪০ বছর যাবৎ বসবাস করছেন। আনিসুল করিমের পড়ালেখা জেলা শহরের রাণী বিলাসমনি সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়, কাজী আজিম উদ্দীন কলেজ এবং জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি ৩১তম বিসিএস ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন।

তিনি জানান, আনিসুল করিম এক ছেলে সন্তানের জনক। ছেলে সাফ্রান বারবার বলছে বাবা কখন আসবে? শোকে তার স্ত্রী শারমিন সুলতানা কিছুক্ষণ পর পরই মুর্ছা যাচ্ছেন।

রেজাউল করিম জানান, আনিসুল করিমকে চিকিৎসার জন্য তিনি ও তার বোন সোমবার (৯ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর আদাবর এলাকার মাইন্ড এইড হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নাম লেখানোর সময় কয়েকজন কর্মচারী তাকে টেনেহিঁচড়ে দোতলার একটি রুমে নিয়ে যায়। সেখানে তারা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়ে এ ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও আইজিপির হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

 

জনপ্রিয়

১৪ বছর পর বাংলাদেশ থেকে সরাসরি পাকিস্তানে নামলো বিমান

হাসপাতালে মারধরে নিহত পুলিশ কর্মকর্তার দাফন গাজীপুরে সম্পন্ন

প্রকাশিত : ০৩:০৬:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ নভেম্বর ২০২০

ঢাকায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে হাসপাতাল কর্মীদের মারধরে নিহত বরিশালের এএসপি মো. আনিসুল করিমের মরদেহ গাজীপুর সিটি কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় ভাওয়াল রাজবাড়ি মাঠে জানাজা শেষে দাফন করা হয় তাকে। এর আগে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বজনরা ফুলেল শ্রদ্ধা জানান তাকে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আজাদ মিয়া, কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আমানত হোসেন খান, মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তারাসহ রাজনৈতিক নেতা এবং সর্বস্তরের জনগণ নিহত পুলিশ কর্মকর্তার জানাজায় অংশ নেন। পরে তাকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।

পুলিশের সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিমের মৃত্যুতে তার পরিবার, এলাকাবাসী ও নিহতের বন্ধুদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যু খবরে তারা নিহতের বাড়িতে জড়ো হন এবং জানাজায় শরিক হন।

নিহত আনিসুল করিমের বড় ভাই রেজাউল করিম জানান, চার ভাইবোনের মধ্যে আনিসুল করিম সবার ছোট। বাবা ফাইজুদ্দিন আহমেদ বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাদের গ্রামের বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সম্মানিয়া ইউনিয়নের আড়াল গ্রামে। তারা সিটি করপোরেশনের বরুদা এলাকায় প্রায় ৪০ বছর যাবৎ বসবাস করছেন। আনিসুল করিমের পড়ালেখা জেলা শহরের রাণী বিলাসমনি সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়, কাজী আজিম উদ্দীন কলেজ এবং জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি ৩১তম বিসিএস ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন।

তিনি জানান, আনিসুল করিম এক ছেলে সন্তানের জনক। ছেলে সাফ্রান বারবার বলছে বাবা কখন আসবে? শোকে তার স্ত্রী শারমিন সুলতানা কিছুক্ষণ পর পরই মুর্ছা যাচ্ছেন।

রেজাউল করিম জানান, আনিসুল করিমকে চিকিৎসার জন্য তিনি ও তার বোন সোমবার (৯ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর আদাবর এলাকার মাইন্ড এইড হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নাম লেখানোর সময় কয়েকজন কর্মচারী তাকে টেনেহিঁচড়ে দোতলার একটি রুমে নিয়ে যায়। সেখানে তারা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়ে এ ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও আইজিপির হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ