০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

আমদানি বাড়ায় ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি

যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে টাকার মান গত এক বছরে ক্রমাগত কমছে। তাতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স এবং রপ্তানি আয়ে ‘ইতিবাচক’ প্রভাব পড়লেও আমদানিতে খরচ বেড়েছে। অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, আমদানি বাড়ার কারণে ডলারের চাহিদা বেড়েছে।

কিন্তু আমদানির তথ্যের আড়ালে বিদেশে অর্থ পাচারকেও এর একটি কারণ বলে মনে করছেন কেউ কেউ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাংকগুলো যে দরে ডলার বা অন্য মুদ্রা কেনাবেচা করে তাকে আন্তঃব্যাংক মুদ্রা বিনিময় হার বলা হয়। ব্যাংকগুলো এর চেয়ে এক থেকে দেড় টাকা বেশি দামে ডলার গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৮২ টাকা ৯০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করলেও অগ্রণী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংক ৮৪ টাকা, জনতা ব্যাংক ৮৪ টাকা ১০ পয়সা, আইএফআইসি ব্যাংক ৮৪ টাকা ৪৫ পয়সা এবং এবি ব্যাংক ৮৪ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি করেছে ডলার। এক বছর আগে এই এক ডলারের জন্য লাগত ৭৮ টাকা ৯০ পয়সা। এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে ৫ শতাংশের বেশি। ছয় মাসের ব্যবধানে কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ ও ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সাড়ে ছয় মাসে (২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি) পর্যন্ত ১২৫ কোটি ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অথচ গত অর্থবছরের এই সময়ে বাজার স্থিতিশীল থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কোনো ডলার বিক্রি করতে বা কিনতে হয়নি। ওই কর্মকর্তা বলেন, “যখন যেটা প্রয়োজন সেটাই আমাদের করতে হয়।

যখন সরবরাহ বেশি ছিল তখন আমরা বাজার থেকে ডলার কিনেছি। এখন চাহিদা বাড়ায় বিক্রি করছি। এটাই স্বাভাবিক।” বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, দেশে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সরঞ্জামের আমদানি বেড়েছে। আমদানি খরচ মেটাতে ডলারের চাহিদাও বেড়েছে, ফলে ‘স্বাভাবিক কারণেই’ বাড়ছে ডলারের বিনিময় হার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) আমদানি ব্যয় যেখানে ২৯ শতাংশ বেড়েছে, সেখানে রপ্তানি আয় ৭ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং রেমিটেন্স ১২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে ডলারের বিপরীতে টাকার মান আরও আগে কমানো দরকার ছিল বলে মনে করেন ফরাসউদ্দিন।
“দীর্ঘদিন ধরে ডলারের বিপরীতে টাকা অতিমূল্যায়িত ছিল। ভারত, ভিয়েতনামসহ বাংলাদেশের প্রতিযোগী বিভিন্ন দেশ আগেই তাদের মুদ্রার মান কমিয়েছে। আমরা অনেক দেরিতে এই কাজটি করছি।”

তবে টাকা যেন খুব বেশি দুর্বল হয়ে না যায়- সে বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন এই অর্থনীতিবিদ। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুরের ধারণা, আমদানি বাড়ার পাশাপাশি ‘প্রচুর অর্থ’ বিদেশে পাচার হচ্ছে। “এ কথা ঠিক যে আমদানি বাড়ার কারণে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। আমদানি ব্যয় যেভাবে বাড়ছে; রপ্তানি আয় তার চেয়ে অনেক কম হারে বাড়ছে। রেমিটেন্স প্রবাহের গতিও খুব বেশি নয়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় স্বাভাবিকভাবেই দর বাড়ছে। “কিন্তু উদ্বেগের বিষয়টি হল, বিরাট একটা অংশ বিদেশে পাচার হচ্ছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।” যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি সংস্থার বরাত দিয়ে ফরাসউদ্দিন গতবছর এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ২০০৪ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে।

আহসান মনসুর বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই এটা হয়ে আসছে। সামনে জাতীয় নির্বাচন। এ কারণে এটা আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সজাগ দৃষ্টি দরকার।” পিআরআই এর নির্বাহী পরিচালকের মতে, কোনো কারণে অনিশ্চয়তা বাড়লে অর্থ পাচারের প্রবণতাও বাড়ে। রাজনৈতিক দলের নেতারা যেমন পাচার করেন, তেমনি ব্যবসায়ী বা আমলারাও অর্থ বাইরে নিয়ে যান। “আর এক শ্রেণির লোক পারিবারিকভাবেই বিদেশে অবস্থানের জন্য অর্থ পাচার করে। এ কারণ আমরা বিদেশে ‘বেগম পাড়া’ গড়ে ওঠার খবর পাই।” আহসান মনসুর বলেন, বিদেশে অর্থ পাচার হচ্ছে মূলত তিন ভাগে। প্রবাসীরাদের মাধ্যমে যে রেমিটেন্স দেশে আসার কথা সেটা না এসে তৃতীয় একটি পক্ষের মাধ্যমে তা কানাডা-আমেরিকায় চলে যাচ্ছে। যে রেমিটেন্স ব্যাংকিং চ্যানেলে এসে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা হওয়ার কথা, তা দেশে না এসে বাইরেই থেকে যাচ্ছে। দেশ থেকে অর্থ পাচারের একটি পথ হচ্ছে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ওভার ইনভয়েস দেখানো। অর্থাৎ যে দামে পণ্য কেনা হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি দাম দেখিয়ে বাড়তি অর্থ বিদেশে পাচার হয়।

আবার যে পণ্য আমদানি হওয়ার কথা, তার বদলে কম দামি পণ্য আনা অথবা খালি কন্টেইনার আনার ঘটনাও ধরা পড়েছে কখনও কখনও। আবার পণ্য রপ্তানিতে আন্ডার ইনভয়েসের মাধ্যমেও অর্থ পাচার হয়। যে পণ্যের দাম ১০০ ডলার, ক্রেতার সঙ্গে বোঝাপড়া করে তা ৭০ ডলার দেখিয়ে রপ্তানি করেন ব্যবসায়ী। বাকি ৩০ ডলার তিনি বেদিশে সেই ক্রেতার কাছ থেকে নিয়ে তা বিদেশেই রেখে দেন। ২০১২ সালের প্রথম দিকে টাকার বিপরীতে ডলারের দর বাড়তে বাড়তে এক পর্যায়ে ৮৫ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। এরপর থেকে তা কমতে কমতে ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে ৮০ টাকার নিচে নেমে আসে। ২০১৭ সালের প্রথম দিকেও ডলারের দর ছিল ৮০ টাকার নিচে।

বছরের মাঝামাঝি সময়ে তা ৮০ টাকা ছাড়ায়; এখনও তা অব্যাহত রয়েছে। ২০০৩ সালে দেশে ভাসমান মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা (ফ্লোটিং) চালু হয়। অর্থ্যাৎ বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। তার আগ পর্যন্ত টাকা-ডলারের বিনিময় হার বাংলাদেশ ব্যাংক ঠিক করে দিত।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

আমদানি বাড়ায় ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি

প্রকাশিত : ০৯:৫৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জানুয়ারী ২০১৮

যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে টাকার মান গত এক বছরে ক্রমাগত কমছে। তাতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স এবং রপ্তানি আয়ে ‘ইতিবাচক’ প্রভাব পড়লেও আমদানিতে খরচ বেড়েছে। অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, আমদানি বাড়ার কারণে ডলারের চাহিদা বেড়েছে।

কিন্তু আমদানির তথ্যের আড়ালে বিদেশে অর্থ পাচারকেও এর একটি কারণ বলে মনে করছেন কেউ কেউ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাংকগুলো যে দরে ডলার বা অন্য মুদ্রা কেনাবেচা করে তাকে আন্তঃব্যাংক মুদ্রা বিনিময় হার বলা হয়। ব্যাংকগুলো এর চেয়ে এক থেকে দেড় টাকা বেশি দামে ডলার গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৮২ টাকা ৯০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করলেও অগ্রণী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংক ৮৪ টাকা, জনতা ব্যাংক ৮৪ টাকা ১০ পয়সা, আইএফআইসি ব্যাংক ৮৪ টাকা ৪৫ পয়সা এবং এবি ব্যাংক ৮৪ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি করেছে ডলার। এক বছর আগে এই এক ডলারের জন্য লাগত ৭৮ টাকা ৯০ পয়সা। এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে ৫ শতাংশের বেশি। ছয় মাসের ব্যবধানে কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ ও ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সাড়ে ছয় মাসে (২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি) পর্যন্ত ১২৫ কোটি ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অথচ গত অর্থবছরের এই সময়ে বাজার স্থিতিশীল থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কোনো ডলার বিক্রি করতে বা কিনতে হয়নি। ওই কর্মকর্তা বলেন, “যখন যেটা প্রয়োজন সেটাই আমাদের করতে হয়।

যখন সরবরাহ বেশি ছিল তখন আমরা বাজার থেকে ডলার কিনেছি। এখন চাহিদা বাড়ায় বিক্রি করছি। এটাই স্বাভাবিক।” বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, দেশে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সরঞ্জামের আমদানি বেড়েছে। আমদানি খরচ মেটাতে ডলারের চাহিদাও বেড়েছে, ফলে ‘স্বাভাবিক কারণেই’ বাড়ছে ডলারের বিনিময় হার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) আমদানি ব্যয় যেখানে ২৯ শতাংশ বেড়েছে, সেখানে রপ্তানি আয় ৭ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং রেমিটেন্স ১২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে ডলারের বিপরীতে টাকার মান আরও আগে কমানো দরকার ছিল বলে মনে করেন ফরাসউদ্দিন।
“দীর্ঘদিন ধরে ডলারের বিপরীতে টাকা অতিমূল্যায়িত ছিল। ভারত, ভিয়েতনামসহ বাংলাদেশের প্রতিযোগী বিভিন্ন দেশ আগেই তাদের মুদ্রার মান কমিয়েছে। আমরা অনেক দেরিতে এই কাজটি করছি।”

তবে টাকা যেন খুব বেশি দুর্বল হয়ে না যায়- সে বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন এই অর্থনীতিবিদ। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুরের ধারণা, আমদানি বাড়ার পাশাপাশি ‘প্রচুর অর্থ’ বিদেশে পাচার হচ্ছে। “এ কথা ঠিক যে আমদানি বাড়ার কারণে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। আমদানি ব্যয় যেভাবে বাড়ছে; রপ্তানি আয় তার চেয়ে অনেক কম হারে বাড়ছে। রেমিটেন্স প্রবাহের গতিও খুব বেশি নয়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় স্বাভাবিকভাবেই দর বাড়ছে। “কিন্তু উদ্বেগের বিষয়টি হল, বিরাট একটা অংশ বিদেশে পাচার হচ্ছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।” যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি সংস্থার বরাত দিয়ে ফরাসউদ্দিন গতবছর এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ২০০৪ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে।

আহসান মনসুর বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই এটা হয়ে আসছে। সামনে জাতীয় নির্বাচন। এ কারণে এটা আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সজাগ দৃষ্টি দরকার।” পিআরআই এর নির্বাহী পরিচালকের মতে, কোনো কারণে অনিশ্চয়তা বাড়লে অর্থ পাচারের প্রবণতাও বাড়ে। রাজনৈতিক দলের নেতারা যেমন পাচার করেন, তেমনি ব্যবসায়ী বা আমলারাও অর্থ বাইরে নিয়ে যান। “আর এক শ্রেণির লোক পারিবারিকভাবেই বিদেশে অবস্থানের জন্য অর্থ পাচার করে। এ কারণ আমরা বিদেশে ‘বেগম পাড়া’ গড়ে ওঠার খবর পাই।” আহসান মনসুর বলেন, বিদেশে অর্থ পাচার হচ্ছে মূলত তিন ভাগে। প্রবাসীরাদের মাধ্যমে যে রেমিটেন্স দেশে আসার কথা সেটা না এসে তৃতীয় একটি পক্ষের মাধ্যমে তা কানাডা-আমেরিকায় চলে যাচ্ছে। যে রেমিটেন্স ব্যাংকিং চ্যানেলে এসে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা হওয়ার কথা, তা দেশে না এসে বাইরেই থেকে যাচ্ছে। দেশ থেকে অর্থ পাচারের একটি পথ হচ্ছে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ওভার ইনভয়েস দেখানো। অর্থাৎ যে দামে পণ্য কেনা হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি দাম দেখিয়ে বাড়তি অর্থ বিদেশে পাচার হয়।

আবার যে পণ্য আমদানি হওয়ার কথা, তার বদলে কম দামি পণ্য আনা অথবা খালি কন্টেইনার আনার ঘটনাও ধরা পড়েছে কখনও কখনও। আবার পণ্য রপ্তানিতে আন্ডার ইনভয়েসের মাধ্যমেও অর্থ পাচার হয়। যে পণ্যের দাম ১০০ ডলার, ক্রেতার সঙ্গে বোঝাপড়া করে তা ৭০ ডলার দেখিয়ে রপ্তানি করেন ব্যবসায়ী। বাকি ৩০ ডলার তিনি বেদিশে সেই ক্রেতার কাছ থেকে নিয়ে তা বিদেশেই রেখে দেন। ২০১২ সালের প্রথম দিকে টাকার বিপরীতে ডলারের দর বাড়তে বাড়তে এক পর্যায়ে ৮৫ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। এরপর থেকে তা কমতে কমতে ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে ৮০ টাকার নিচে নেমে আসে। ২০১৭ সালের প্রথম দিকেও ডলারের দর ছিল ৮০ টাকার নিচে।

বছরের মাঝামাঝি সময়ে তা ৮০ টাকা ছাড়ায়; এখনও তা অব্যাহত রয়েছে। ২০০৩ সালে দেশে ভাসমান মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা (ফ্লোটিং) চালু হয়। অর্থ্যাৎ বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। তার আগ পর্যন্ত টাকা-ডলারের বিনিময় হার বাংলাদেশ ব্যাংক ঠিক করে দিত।