০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

বেড়েছে সরিষার চাষ : বাম্পার ফলনের আশা কৃষকের

নীলফামারী জেলায় বেড়েছে সরিষার চাষ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, চলতি মৌসমে জেলায় এবার ৩ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

সেখানে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ১৩০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হবে ৫ হাজার ৩৬৯ মেট্রিক টন। সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের চড়চড়াবাড়ি গ্রামের কৃষক মানিক হোসেন (৪৫)জানান, তিনি এবার সরিষা আবাদ করেছেন চার বিঘা জমিতে। গতবার দুই বিঘায় আবাদ করে বেশী লাভ হওয়ায় দ্বিগুণ আবাদ করেছেন তিনি।

তিনিআরো জানান, ‘অন্য ফসলের চেয়ে সরিষা আবাদে ঝুঁকি কম, লাভ বেশি। পাশাপাশি সরিষা উঠিয়ে ওই জমিতে অন্য ফসল আবাদে খরচ হয় কম।’ একই ইউনিয়নের বাহালিপাড়া গ্রামের বাবুল হোসেন (৪০) বলেন, ‘সরিষা চাষের পর ওই জমিতে বোরো ধান আবাদে কম খরচ হয়, ফলনও বেশি পাওয়া যায়।’ একই উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের চৌধুরি পাড়া গ্রামের খোকন মিয়া (৫৫)জানান,‘অন্য ফসলের চেয়ে সরিষা ক্ষেতে সার, কীটনাশক কম লাগে, ফলনও ভালো হয়।

বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা দিন দিন সরিষা আবাদে আগ্রহী হচ্ছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল কাশেম আযাদ জানান, আমন ধান আবাদের পর ওই জমিতে সরিষা আবাদ করা যায়। ৮০ থেকে ৮৫ দিনের মধ্যে সরিষা তুলে একই জমিতে বোরা ধানের আবাদ করা সম্ভব। সরিষা আবাদের ফলে জমি উর্বর থাকে এবং বোরো আবাদে সার কম লাগে। সরিষা আবাদে ঝুঁকি কম থাকায় দিন দিন কৃষরা আগ্রহী হচ্ছেন।

তিনি আরো জানান,‘বারি সরিষা ১৪ এবং ১৫ জাত এলাকায় আবাদ বেশি হচ্ছে। প্রতি হেক্টরে ফলনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১ দশমিক ৩ মেট্রিক টন। আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে, শীতে সরিষা আবাদের কোন ক্ষতি হয় না।’

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

বেড়েছে সরিষার চাষ : বাম্পার ফলনের আশা কৃষকের

প্রকাশিত : ০৯:৪২:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জানুয়ারী ২০১৮

নীলফামারী জেলায় বেড়েছে সরিষার চাষ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, চলতি মৌসমে জেলায় এবার ৩ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

সেখানে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ১৩০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হবে ৫ হাজার ৩৬৯ মেট্রিক টন। সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের চড়চড়াবাড়ি গ্রামের কৃষক মানিক হোসেন (৪৫)জানান, তিনি এবার সরিষা আবাদ করেছেন চার বিঘা জমিতে। গতবার দুই বিঘায় আবাদ করে বেশী লাভ হওয়ায় দ্বিগুণ আবাদ করেছেন তিনি।

তিনিআরো জানান, ‘অন্য ফসলের চেয়ে সরিষা আবাদে ঝুঁকি কম, লাভ বেশি। পাশাপাশি সরিষা উঠিয়ে ওই জমিতে অন্য ফসল আবাদে খরচ হয় কম।’ একই ইউনিয়নের বাহালিপাড়া গ্রামের বাবুল হোসেন (৪০) বলেন, ‘সরিষা চাষের পর ওই জমিতে বোরো ধান আবাদে কম খরচ হয়, ফলনও বেশি পাওয়া যায়।’ একই উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের চৌধুরি পাড়া গ্রামের খোকন মিয়া (৫৫)জানান,‘অন্য ফসলের চেয়ে সরিষা ক্ষেতে সার, কীটনাশক কম লাগে, ফলনও ভালো হয়।

বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা দিন দিন সরিষা আবাদে আগ্রহী হচ্ছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল কাশেম আযাদ জানান, আমন ধান আবাদের পর ওই জমিতে সরিষা আবাদ করা যায়। ৮০ থেকে ৮৫ দিনের মধ্যে সরিষা তুলে একই জমিতে বোরা ধানের আবাদ করা সম্ভব। সরিষা আবাদের ফলে জমি উর্বর থাকে এবং বোরো আবাদে সার কম লাগে। সরিষা আবাদে ঝুঁকি কম থাকায় দিন দিন কৃষরা আগ্রহী হচ্ছেন।

তিনি আরো জানান,‘বারি সরিষা ১৪ এবং ১৫ জাত এলাকায় আবাদ বেশি হচ্ছে। প্রতি হেক্টরে ফলনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১ দশমিক ৩ মেট্রিক টন। আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে, শীতে সরিষা আবাদের কোন ক্ষতি হয় না।’