ধান মজুতের ক্ষেত্রে নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করল সরকার। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চালকলের মালিকেরা আগের চেয়ে কম পরিমাণে ধান কম সময়ের জন্য মিলে মজুত রাখতে পারবেন।
সরকার এই উদ্যোগ নিল এমনই এক পরিপ্রেক্ষিতে, যখন বাজারে মোটা চালের কেজি ৫০ টাকায় উঠেছে। অন্যদিকে নতুন আমন মৌসুমের ধান বাজারে আসতে শুরু করলেও চালের দামে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। অবশ্য মিলমালিকেরা বলছেন, সরকারি এই বিধিনিষেধে তাঁদের কোনো অসুবিধা হবে না। কারণ, ধানের দাম এত বেশি যে কেউ বাড়তি পরিমাণে কিনে রাখছেন না।
তবে মজুতের বিষয়ে আরও কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এসব বিষয়ে জানাতে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার আজ রোববার এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনেরও আয়োজন করেছেন।
ধান মজুতে বিধিনিষেধ জারি করা হয় ২১ ডিসেম্বর। আগের একটি আদেশকে সংশোধন করে জারি করা নতুন আদেশে বলা হয়, স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেটিক, মেজর ও হাসকিং চালকলগুলো দৈনিক আট ঘণ্টা হিসেবে পাক্ষিক ছাঁটাই–ক্ষমতার ৩ গুণ ধান ৩০ দিন পর্যন্ত মজুত করতে পারবে। এর আগে তারা পাক্ষিক ছাঁটাই–ক্ষমতার ৫ গুণ ধান ৩০ দিন পর্যন্ত মজুত করতে পারত।
১৯৫৬ সালের কন্ট্রোল অব এসেনশিয়াল কমোডটি অ্যাক্টের অধীনে সরকার খাদ্যশস্য বা খাদ্যসামগ্রী (চাল, ধান, গম, চিনি, ভোজ্যতেল ও ডাল) কত দিন মজুত করা যাবে তা নির্ধারণ করে দিতে পারে। খাদ্যসচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বলেন, কোনো চালকলের মালিক বিধিনিষেধ অমান্য করে অতিরিক্ত মজুত করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকার বাজারে এখন মোটা জাতের গুটি ও স্বর্ণা চালের কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। মাঝারি বিআর-২৮, পাইজামসহ বিভিন্ন চাল মানভেদে ৫৩ থেকে ৫৮ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। আর সরু চালের দাম উঠেছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। চালের এই দাম ২০১৭ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে গত বছরের এই সময়ের তুলনায় মোটা চালের দাম এখন ৪৮ শতাংশ বেশি।
ঢাকার বাজারে এখন মোটা জাতের গুটি ও স্বর্ণা চালের কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। মাঝারি বিআর-২৮, পাইজামসহ বিভিন্ন চাল মানভেদে ৫৩ থেকে ৫৮ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। আর সরু চালের দাম উঠেছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়।
মজুতের সীমা বেঁধে দেওয়ার ফলে কী প্রভাব পড়তে পারে জানতে চারজন মিলমালিকের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা সবাই দাবি করেছেন, এই বিধিনিষেধ কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারণ হলো, ধানের সরবরাহ কম। দামও বেশি।
চালকলের মালিকদের কেন্দ্রীয় সংগঠন বাংলাদেশ অটো, মেজর ও হাসকিং চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রশিদ বলেন, বাজারে ধানের দাম চড়া। মালিকেরা চাহিদা অনুযায়ী ধান কিনতে পারছেন না। ফলে মজুত করার কোনো উপায়ই নেই। তবে তিনি বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত ধানের বাজারকে অস্থিতিশীলও করতে পারে। মিলাররা ধান কিনলে সেটা সরকার নজরদারি করতে পারবে। জানতে পারবে ধান কোথায় আছে। সীমা বেঁধে দিলে ধান কে কিনবে, কোথায় মজুত হবে, তা খুঁজে পাওয়া যাবে না।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর
























