০৯:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চায়ের রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন

একটা সময় ছিল যখন চায়ের ক্রেতা ছিল উচ্চবিত্ত। খুব কম মধ্যবিত্তরা চা পান করত। বিভিন্ন উৎসব কিংবা বাসায় অতিথি এলে আপ্যায়নে অন্যান্য খাবারের সঙ্গে চায়ের আয়োজন থাকত। সেটাও খুব বেশি দিন আগে নয়, আশির দশকের কথা। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মানুষের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের কারণে এখন সব শ্রেণি-পেশার মানুষই চা পান করে। এখন এই শিল্পের বাজার ২০ হাজার কোটি টাকার ওপরে। উৎপাদনের প্রায় পুরোটাই ভোগ হয় দেশে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ও চা বোর্ডের তথ্যে দেখা যায়, ১৯৮০ সালে চা উৎপাদন ছিল তিন কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার কেজি। আর সর্বশেষ ২০১৯ সালে উৎপাদন হয়েছে ৯ কোটি ৬০ লাখ কেজি। অর্থাৎ চার দশকে চায়ের উৎপাদন বেড়েছে তিন গুণ। ২০১৯ সালে এই উৎপাদন দেশে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন।

বিবিএসের এই উৎপাদন তথ্যে দেখা যায়, ২০১৬-১৭ সালে দেশে চা উৎপাদন ছিল আট কোটি ১৮ লাখ কেজি। ২০১৭-১৮ সালে ছিল সাত কোটি আট লাখ ১১ হাজার কেজি। এর আগের তিন বছরে (২০১৩-২০১৫) গড় উৎপাদন ছিল ছয় কোটি ৫৮ লাখ কেজি। ২০১৬-১৭ সালে চা উৎপাদন হয়েছিল এক লাখ ৩৩ হাজার একর জমিতে। পরের বছর তা দাঁড়ায় এক লাখ ৬৫ হাজার একর। ২০১৮-১৯ সালে দাঁড়ায় এক লাখ ৩৩ হাজার একরে।

লন্ডনভিত্তিক ‘ইন্টারন্যাশনাল টি কমিটি’ প্রকাশিত ২০১৯ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চা উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে নবম। তাদের হিসাবে বিশ্বের মোট চায়ের ২ শতাংশই উৎপাদন হয় বাংলাদেশে। একটানা কয়েক বছর ধরেই দশম অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। গত শতাব্দীর শেষে চা উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১১তম, ১৯৮৯ সালে ছিল ১২তম। সংস্থাটির হিসাবে চা উৎপাদনে এখন শীর্ষে রয়েছে চীন। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ভারত। উৎপাদনে বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে কেনিয়া, শ্রীলঙ্কা, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশের নিচে আছে জাপান, উগান্ডা, নেপাল, ইরান, মিয়ানমারের মতো দেশগুলো।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :

ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তপু রায়হানের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় দায়িত্ববোধ, উত্তরাধিকার ও নাগরিক প্রত্যাশার রাজনীতি

চায়ের রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন

প্রকাশিত : ০৫:২৬:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২০

একটা সময় ছিল যখন চায়ের ক্রেতা ছিল উচ্চবিত্ত। খুব কম মধ্যবিত্তরা চা পান করত। বিভিন্ন উৎসব কিংবা বাসায় অতিথি এলে আপ্যায়নে অন্যান্য খাবারের সঙ্গে চায়ের আয়োজন থাকত। সেটাও খুব বেশি দিন আগে নয়, আশির দশকের কথা। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মানুষের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের কারণে এখন সব শ্রেণি-পেশার মানুষই চা পান করে। এখন এই শিল্পের বাজার ২০ হাজার কোটি টাকার ওপরে। উৎপাদনের প্রায় পুরোটাই ভোগ হয় দেশে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ও চা বোর্ডের তথ্যে দেখা যায়, ১৯৮০ সালে চা উৎপাদন ছিল তিন কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার কেজি। আর সর্বশেষ ২০১৯ সালে উৎপাদন হয়েছে ৯ কোটি ৬০ লাখ কেজি। অর্থাৎ চার দশকে চায়ের উৎপাদন বেড়েছে তিন গুণ। ২০১৯ সালে এই উৎপাদন দেশে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন।

বিবিএসের এই উৎপাদন তথ্যে দেখা যায়, ২০১৬-১৭ সালে দেশে চা উৎপাদন ছিল আট কোটি ১৮ লাখ কেজি। ২০১৭-১৮ সালে ছিল সাত কোটি আট লাখ ১১ হাজার কেজি। এর আগের তিন বছরে (২০১৩-২০১৫) গড় উৎপাদন ছিল ছয় কোটি ৫৮ লাখ কেজি। ২০১৬-১৭ সালে চা উৎপাদন হয়েছিল এক লাখ ৩৩ হাজার একর জমিতে। পরের বছর তা দাঁড়ায় এক লাখ ৬৫ হাজার একর। ২০১৮-১৯ সালে দাঁড়ায় এক লাখ ৩৩ হাজার একরে।

লন্ডনভিত্তিক ‘ইন্টারন্যাশনাল টি কমিটি’ প্রকাশিত ২০১৯ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চা উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে নবম। তাদের হিসাবে বিশ্বের মোট চায়ের ২ শতাংশই উৎপাদন হয় বাংলাদেশে। একটানা কয়েক বছর ধরেই দশম অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। গত শতাব্দীর শেষে চা উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১১তম, ১৯৮৯ সালে ছিল ১২তম। সংস্থাটির হিসাবে চা উৎপাদনে এখন শীর্ষে রয়েছে চীন। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ভারত। উৎপাদনে বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে কেনিয়া, শ্রীলঙ্কা, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশের নিচে আছে জাপান, উগান্ডা, নেপাল, ইরান, মিয়ানমারের মতো দেশগুলো।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর