গত বছরের জানুয়ারি থেকেই করোনা মহামারির কারণে বিশ্বব্যাপী স্থগিত হয়ে যায় সকল অর্থনৈতিক কর্মকান্ড। মার্চ থেকে এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। এর প্রভাবে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় কমে যায় ব্যাপক হারে। বিপুল পরিমাণ প্রবাসী চাকরি হারালেও গত পুরো অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স আসে অনেক বেশি পরিমাণে। মূলত দেশে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে তাদের কাছে সঞ্চিত অর্থ পাঠিয়ে দেয়। যে কারণে বেড়ে যায় রেমিট্যান্সের পরিমাণ।
আমদানি ব্যয় কমে যাওয়া এবং রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ফুলে ফেঁপে ওঠে বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ। রেকর্ড ৪৩ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা সঞ্চিত হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হিসাবে। এর প্রভাব পড়ার কথা ছিল দেশীয় মুদ্রামানে ও রফতানিতে। কিন্তু মহামারির কঠিন সময়েও রফতানি বাণিজ্য ও দেশিয় মুদ্রা টাকা নিজ নিজ অবস্থান ধরে রেখেছে। এর পেছনে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার ব্যবস্থাপনা।
২০২০ সালের জুলাই থেকে নভেম্বর মাসে দেশে আমদানি ব্যয় কমেছে ১৯৬ কোটি ৫ লাখ ডলার। ওই বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরে প্রায় ৩৪১ কোটি ডলার রেমিট্যান্স বেশি আসে। এসব কারণে দেশে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা সঞ্চিত হয়। অর্থনৈতিক হিসাব অনুযায়ী, এই সময়ে ডলারের মূল্যমান কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু কঠিন এই সময়ে হাল ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাজার থেকে সঠিক সময়ে সঠিক পরিমাণ ডলার কিনে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যে কারণে ডলারের বিপরীতে দেশিয় মুদ্রা টাকার মূল্যমান অনেকটাই স্থির থাকে। এর সুফল হাতেনাতে পায় রফতানিকারকরা। সারাবিশ্বের অর্থনীতি স্থব্ধ হয়ে গেলেও ২০১৯ সালে বাংলাদেশের রফতানি আয় বেড়েছে। কারণ, মুদ্রামান স্থির থাকায় বাণিজ্যে সুবিধা পেয়েছে বাংলাদেশের রফতানিকারকরা। ডলারের বিনিময় মূল্য কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই রফতানি আয় কমে যেত বাংলাদেশের। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হতো প্রবাসীদের পারিবারগুলো। কারণ, তারা রেমিট্যান্সের বিপরীতে তুলনামূলক কম অর্থ পেত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কিনেছে প্রায় ৫৫০ কোটি ডলার। এর ফলে ডলারের বিপরীতে টাকার মানে বড় কোনো হেরফের হয়নি। গত ১ জুলাই আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮৫ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। গত ৩১ ডিসেম্বর লেনদেন হয়েছে ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায়। অথচ কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার না কিনলে ৮০ টাকার নিচে নেমে যেত ডলারের বিনিময় মূল্য। ডলার কেনায় ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ৪৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে; যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
ডলার ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক করোনা পরিস্থিতির সময় যদি বাজার থেকে ডলার না কিনতো তাহলে ডলারের মান পড়ে যেত। এতে দেশিয় মুদ্রা টাকা শক্তিশালী হতো। এটা হলে প্রবাসী ও রফতানিকারকগণ ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। অন্যদিকে করোনা পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় কমে যাওয়ায় টাকা শক্তিশালি হলেও উৎপাদন ব্যবস্থায় কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলতো না। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনে সময়োপযোগী ভূমিকা পালন করেছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর
























