যুক্তরাজ্যের ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল টিম ছয় সপ্তাহ পর বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবির ছাড়লো।দায়িত্ব পালনকালে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে ৫০০ মানুষকে ডিপথেরিয়ার চিকিৎসা দিয়েছেন টিমের ৪০ জন চিকিৎসক, নার্স ও প্যারামেডিক। এখন সেখানে রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশি চিকিৎসাকর্মীরা। খবর বিবিসি
বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ভয়াবহতায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে যেন ডিপথেরিয়ার প্রকোপ ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য প্রায় দেড় মাস ধরে কাজ করেছেন যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের টিমের সদস্যরা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুরোধে এই হেলথ টিম পাঠায় ব্রিটিশ সরকার। মেডিসিনস স্যান ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর চিকিৎসা কর্মীদের সঙ্গে যোগ দেন ব্রিটিশ স্বাস্থ্যকর্মীরা।
২০১৭ সালের শেষদিকে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবিরে ডিপথেরিয়ার প্রকোপের বিষয়টি সামনে আসে। এতে আক্রান্ত হয়ে ৩৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তখন এ রোগে আক্রান্ত হন কমবেশি পাঁচ হাজার মানুষ। অথচ ভ্যাকসিন প্রয়োগের মাধ্যমে ডিপথেরিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।
বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবিরে ছয় সপ্তাহের দায়িত্ব পালনকালে তিনটি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র স্থাপন করেছে যুক্তরাজ্যের ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল টিম। নিজ ভিটেমাটি থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত এসব মানুষদের সতর্কতামূলক এন্টিবায়োটিক সরবরাহ করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে বর্তমানে ডিপথেরিয়া প্রায় বিরল রোগে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এখনও দুনিয়ার নানা জায়গায় এর প্রকোপ রয়ে গেছে। এ রোগের ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির নাক ও গলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ এবং পক্ষাঘাতের মতো মারাত্মক সমস্যা হতে পারে।
ব্রিটিশ আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা (ডিএফআইডি) বলছে, প্রথম দফার ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন শেষ হয়েছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ছয় সপ্তাহ থেকে শুরু করে ১৫ বছর বয়সী সাড়ে তিন লাখেরও বেশি শিশুর ডিপথেরিয়া থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রামের ব্যয়ের ৩ দশমিক ৪ মিলিয়নের মধ্যে প্রায় ২ মিলিয়ন এসেছে ডিএফআইডি’র বাংলাদেশে মানবিক সহায়তা বাজেট থেকে।

























