চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পাহাড় ও কৃষি জমির টপ সয়েল কাটায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ। হুমকির মুখে পড়ছে কৃষি জমি ও খাদ্য উৎপাদন। অবৈধভাবে কাটা এসব মাটি যাচ্ছে উপজেলার অসংখ্য ইটভাটায়। প্রশাসনের মাঝে মধ্যে অভিযানের পরও রাতের আঁধারে থামছে না মাটি কাটা , এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা কর্তৃপক্ষ।
কৃষি জমির ওপরের এই উর্বর মাটি কেটে নেওয়ায় জমি হারাচ্ছে উৎপাদন ক্ষমতা, বাড়ছে পরিবেশগত ঝুঁকি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব মাটি সরাসরি সরবরাহ করা হচ্ছে অবৈধ ইটভাটায়। উপজেলা প্রশাসনের তথ্য মতে এখানে রয়েছে বৈধ অবৈধ শতাধিক ইটভাটা, এর মধ্যে ৪৫টির বেশি ইটভাটা অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে বলে জানান তারা।
অবৈধ ইটভাটার বিষয়ে জানতে চাইলে ইটভাটা সমিতির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি তারা।
ঢেমশা এলাকার কৃষক বাদশা বলেন, এখানে বিগত ৩০/৪০ বছর ধরে চাষাবাদ করছেন তিনি ,প্রতিবছর কয়েক কাণি জমিতে চাষ করে থাকেন, তবে কয়েক বছর ধরে কমছে চাষাবাদের জমি, জমির মাটি কেটে নেওয়ার কারণে এখন আর ফসল হয় না। জমি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে, এখন যেটুকু জমি রয়েছে সেগুলো রক্ষা করার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান তিনি।
অবৈধ ইটভাটা ও কৃষি জমির মাটিকাটা নিয়ে শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন ,অবৈধ ইটভাটা ও কৃষি জমির টপ সয়েল কাটার কারনে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ , জমির যে টপ সয়েল কাটা হচ্ছে সেটি পুরণ হতে অনেক বছর সময় লাগবে ,এটি শুধু আইন বিরোধী কাজ নয়,এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকি স্বরূপ।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসন চাই সকল অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করতে, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে, এছাড়া ইতিমধ্যে কয়েকটি ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, জমির টপ সয়েল কাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলছে , এছাড়া মাটি কাটার খবর পেলেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের সাথে কথা বলার জন্য কয়েক বার মোবাইল ফোনে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, ফোন রিসিভ করেননি তারা।
এদিকে মাটি ব্যবসায়ীরা ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে গেলেও তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে না কৃষক ও সাধারণ মানুষ,এরা বিভিন্ন দলীয় নেতার প্রভাব দেখিয়ে প্রতিনিয়ত মাটি কেটে সাগরে পরিণত করছে কৃষি জমি।
কৃষি জমির মাটিকাটা বন্ধ এবং অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এমনটাই প্রত্যাশা করেন কৃষক ও সাধারন মানুষ।
ডিএস./



















