১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ ভোট ডাকাতি হতে দেবে না। নেতা-কর্মীদের ভোটকেন্দ্রের সামনে গিয়ে জামাতে ফজরের নামাজ পড়ার পরামর্শ দেন তিনি। বলেন, কেউ ষড়যন্ত্র করে আগেই কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে বসে না থাকে যেন।
নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাতে গাজীপুরে ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে এক জনসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের দিন ধানের শীষের ভোটারদের নিয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ফজরের জামায়াত পড়ার পর ভোট দিতে হবে। যেন কেউ ষড়যন্ত্র করে আগে থেকে কিছু করতে না পারে। গত ১৫-১৬ বছর এদেশের মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। যে অধিকার আদায় করার জন্য হাজার হাজার মানুষ জীবন দিয়েছে, সেই অধিকার কেউ যেন হরণ করতে না পারে।
তিনি বলেন, গাজীপুর হচ্ছে গার্মেন্টস শিল্পের রাজধানী। এখানে লাখ লাখ মা-বোনেরা কাজ করেন। এই গার্মেন্টস শিল্প এনেছিলেন জিয়াউর রহমান। এর মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। আগামী ১২ তারিখে নির্বাচনে বিজয়ী হলে এই গার্মেন্টস শিল্পের মত আরো অনেক নতুন নতুন শিল্প নিয়ে আসব। পোশাক কারখানায় অনেক মা-বোনেরা কাজ করেন। তাদের জন্য বিশেষ করে খেটে খাওয়া মা বোনদের সন্তানদের জন্য ডে কেয়ার সেন্টার করা হবে। তাদের জন্য কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া শ্রমিকরা যাতে স্বল্পমূল্যে আবাসন পায় সেই ব্যবস্থা করা হবে। মা এবং সন্তানদের স্বাস্থ্য সেবায় প্রতিটি ওয়ার্ডে হেলথ কেয়ার সেন্টার করা হবে।
গাজীপুর উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী হলে রেল গেট এলাকায় ওভারপাস নির্মাণ, বিআরটি প্রকল্প চালু করে যানজট নিরসনে ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া লবনদহ, চিলাই খাল সহ তিনটি খালকে দূষণের হাত থেকে খাল খননের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা হবে যেন স্বচ্ছ পানি প্রবাহিত হয়।
শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, আমার ছোটবেলা গাজীপুরের এই জায়গায় কেটেছে এই মাঠে আমি অনেক দৌড়াদৌড়ি করেছি, খেলেছি। কাজেই গাজীপুরের মানুষের কাছে আমার হক আছে। আপনাদের কাছে আমার একটাই দাবি থাকলো ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে।
বিএনপির চেয়ারম্যান আরো বলেন, আন্দোলন হয়েছে, সংগ্রাম হয়েছে, স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে, এখন হচ্ছে দেশ গড়ার পালা। এখন হচ্ছে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করার সময়। কাজেই আমাদের পরিশ্রম করতে হবে, কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি কাজ করি পরিশ্রম করি ইনশাল্লাহ আমরা প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলে সক্ষম হব। করব কাজ গর্ব দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ।
গাজীপুর মহানগর বিএনপি সভাপতি শওকত হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, সাবেক সংসদ সদস্য হাসান উদ্দিন সরকার, ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছাইয়্যেদুল আলম বাবুল, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও গাজীপুর-৫ আসনের প্রার্থী একেএম ফজলুল হক মিলন, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর-২ আসনের প্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করমি রনি, গাজীপুর-৩ আসনের প্রার্থী ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর-৪ আসনের প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান, গাজীপুর -১ আসনের প্রার্থী মজিবুর রহমান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাজহারুল আলম প্রমুখ।
ডিএস./.



















