০৫:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

ভারত ও নেপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করবে বাংলাদেশ

দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে এবার দেশের গন্ডি পেরিয়ে প্রতিবেশি ভারত ও নেপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ভারতে স্থাপন করা হবে কয়লা অথবা সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র আর নেপালে হবে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।

ইতোমধ্যে ভারতে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি চুড়ান্ত হয়েছে। নেপালের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ ও নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামসের কাছে জানাগেছে এ তথ্য। বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ কোম্পানির (বি আইএফসিএল) মাধ্যমে ভারতে স্থাপন করা হবে বিদ্যুৎকেন্দ্র। এতে কয়লা অথবা সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ জন্য দুই দেশের প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি কমিটির করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নয়াদিল্লিতে দুই দেশের বিদ্যুতের বিষয়ে গঠিত যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক শেষে সম্প্রতি দেশে ফিরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ সংবাদ মাধ্যমকে এই তথ্য জানান। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও ভারতের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (এনটিপিসি) যৌথভাবে এই কেন্দ্রটি পরিচালনা করবে। বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পর বাংলাদেশ সেখান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারবে।

এ বিষয়ে পিডিবি চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কয়লা অথবা নবায়নযোগ্য জ্বালানি অর্থাৎ সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র হতে পারে। এই বিষয়ে একটি কমিটি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরপর ওই কমিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করবে। রামপালে যে প্রক্রিয়ায় বি আইএফসিএল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে, একই প্রক্রিয়ায় ভারতে আমরা কেন্দ্র নির্মাণ করবো। তিনি বলেন, ‘ভারত এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। এখন আমরা ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করছি। ওই কেন্দ্রর বিদ্যুৎও বাংলাদেশ আমদানি করবে।

ভারতে সৌর বিদ্যুতের দাম খুব বেশি নয়। এই দাম কম কেন জানতে চাইলে ভারতের প্রতিনিধিরা জানান, ভারত সরকার জমি ও গ্রিড লাইন করে দেয়। উদ্যোক্তাদের কেবল প্যানেল বসালেই চলে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হচ্ছে জমি।’ জমি সংস্থান না করতে পারায় তা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি। পিডিবি সূত্র জানায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনে রামপালের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। এক্ষেত্রে কোম্পানি গঠনের বিষয়ে নতুন করে আলোচনার কোনও প্রয়োজন হবে না।

শুধু ভারতে কোম্পানিটির রেজিস্ট্রেশন করলেই কেন্দ্র স্থাপন করা যাবে। কেন্দ্রটি যেহেতু বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রফতানি করবে, তাই বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে সুবিধাজনক কোনও জায়গায় তৈরি করা হতে পারে। এনটিপিসি’র এক প্রতিবেদন উল্লেখ করে বলা হয়, বর্তমানে ভারতে সরকারি-বেসরকারি মিলে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ৩ লাখ ১৯ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। এরমধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে ভারতের বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ৫০ হাজার মেগাওয়াট। এর মধ্যে সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াটের মতো সৌরবিদ্যুৎ। ২০২৭ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৬ লাখ ৫০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীতের লক্ষ্য হাতে নিয়েছে ভারত। এর মধ্যে ৩ লাখ ৭২ হাজার মেগাওয়াট বা ৫৭ শতাংশ উৎপাদন হবে নবায়নযোগ্য ও দূষণমুক্ত অজীবাশ্ম জ্বালানি থেকে। এদিকে নিজেদের জ্বালানি চাহিদার কথা বিবেচনা করে নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।

জ্বালানির উৎস আরও বাড়ানোর চিন্তা থেকে ভুটানে এক বিলিয়ন ডলার ব্যায়ের পর নেপালকে এই প্রস্তাব দিলো বাংলাদেশ। নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস সম্প্রতি বলেন, ‘আমাদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর জন্য আমরাভারতের কাছ থেকে ৬৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি ছাড়াও পারমানবিক প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা করছি। নেপালকে আমরা একটা বড় বাজার মনে করি, যারা আমাদের জ্বালানির চাহিদা মেটাতে পারবে।’ নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ প্রস্তাব দেয়ার পর নেপাল সরকার এক বছরেরও আগে সাতটি সম্ভাব্য প্রকল্পের তালিকা দিয়েছিল। কিন্তু, এরপর এ ব্যাপারে আর কোন অগ্রগতি হয়নি।

তিনি বলেন, ‘নেপালের জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগ করার পর আশা করি বেসরকারী উদ্যোক্তারাও এগিয়ে আসবেন।’ নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রফতানির জন্য কোন তাড়াহুড়া বা বাধা নেই বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না, নেপাল থেকে বিদ্যুৎ রফতানির ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হবে। ভারত এ ব্যাপারে ইতিবাচক এবং নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যাপারে তারা সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। নেপালের শর্ত পূরণের পর তাদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।’ এর আগে খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য গ্রিড নির্মাণে বাধা দিতে পারে ভারত।

তবে পরিস্থিতি এখন বদলেছে। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল (বিবি আইএন) এর মতো উপ-আঞ্চলিক জোট গঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে এ চারটি দেশের মধ্যে সংযোগ স্থাপন, বাণিজ্য, শিল্প, ট্রানজিট, মোটর যান, জ্বালানি ও গ্রিড সম্প্রসারণের দুয়ার উন্মুক্ত হয়ে গেছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘নেপাল ও বাংলাদেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ বাড়ানো উচিত যাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বাড়ানো যায়।’ বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বর্তমানে তিনটি নিয়মিত ফ্লাইট চালু রয়েছে- এ তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে যাত্রী আনাগোনার সংখ্যা কম। এ বিষয়টির দিকে নজর দিলে পর্যটন সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, নেপাল বর্তমানে বাংলাদেশে শুধুই নির্মাণ ব্লক (লিন্টেল) রফতানি করছে।

নেপালি ব্যবসায়ীরা কেন কফি, অলঙ্কার, হস্তশিল্প এবং অন্যান্য জিনিস রফতানি করছেন না, যখন বাংলাদেশ থেকে ৫৮টিরও বেশি পণ্য আমদানি করছে নেপাল।’ গত বছর বাংলাদেশ থেকে ৪৭.৫ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি আমদানি করেছে নেপাল।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে সেনাবাহিনী প্রধানের পটুয়াখালী ও খুলনা পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভা

ভারত ও নেপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করবে বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ১০:৪০:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে এবার দেশের গন্ডি পেরিয়ে প্রতিবেশি ভারত ও নেপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ভারতে স্থাপন করা হবে কয়লা অথবা সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র আর নেপালে হবে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।

ইতোমধ্যে ভারতে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি চুড়ান্ত হয়েছে। নেপালের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ ও নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামসের কাছে জানাগেছে এ তথ্য। বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ কোম্পানির (বি আইএফসিএল) মাধ্যমে ভারতে স্থাপন করা হবে বিদ্যুৎকেন্দ্র। এতে কয়লা অথবা সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ জন্য দুই দেশের প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি কমিটির করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নয়াদিল্লিতে দুই দেশের বিদ্যুতের বিষয়ে গঠিত যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক শেষে সম্প্রতি দেশে ফিরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ সংবাদ মাধ্যমকে এই তথ্য জানান। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও ভারতের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (এনটিপিসি) যৌথভাবে এই কেন্দ্রটি পরিচালনা করবে। বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পর বাংলাদেশ সেখান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারবে।

এ বিষয়ে পিডিবি চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কয়লা অথবা নবায়নযোগ্য জ্বালানি অর্থাৎ সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র হতে পারে। এই বিষয়ে একটি কমিটি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরপর ওই কমিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করবে। রামপালে যে প্রক্রিয়ায় বি আইএফসিএল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে, একই প্রক্রিয়ায় ভারতে আমরা কেন্দ্র নির্মাণ করবো। তিনি বলেন, ‘ভারত এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। এখন আমরা ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করছি। ওই কেন্দ্রর বিদ্যুৎও বাংলাদেশ আমদানি করবে।

ভারতে সৌর বিদ্যুতের দাম খুব বেশি নয়। এই দাম কম কেন জানতে চাইলে ভারতের প্রতিনিধিরা জানান, ভারত সরকার জমি ও গ্রিড লাইন করে দেয়। উদ্যোক্তাদের কেবল প্যানেল বসালেই চলে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হচ্ছে জমি।’ জমি সংস্থান না করতে পারায় তা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি। পিডিবি সূত্র জানায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনে রামপালের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। এক্ষেত্রে কোম্পানি গঠনের বিষয়ে নতুন করে আলোচনার কোনও প্রয়োজন হবে না।

শুধু ভারতে কোম্পানিটির রেজিস্ট্রেশন করলেই কেন্দ্র স্থাপন করা যাবে। কেন্দ্রটি যেহেতু বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রফতানি করবে, তাই বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে সুবিধাজনক কোনও জায়গায় তৈরি করা হতে পারে। এনটিপিসি’র এক প্রতিবেদন উল্লেখ করে বলা হয়, বর্তমানে ভারতে সরকারি-বেসরকারি মিলে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ৩ লাখ ১৯ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। এরমধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে ভারতের বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ৫০ হাজার মেগাওয়াট। এর মধ্যে সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াটের মতো সৌরবিদ্যুৎ। ২০২৭ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৬ লাখ ৫০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীতের লক্ষ্য হাতে নিয়েছে ভারত। এর মধ্যে ৩ লাখ ৭২ হাজার মেগাওয়াট বা ৫৭ শতাংশ উৎপাদন হবে নবায়নযোগ্য ও দূষণমুক্ত অজীবাশ্ম জ্বালানি থেকে। এদিকে নিজেদের জ্বালানি চাহিদার কথা বিবেচনা করে নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।

জ্বালানির উৎস আরও বাড়ানোর চিন্তা থেকে ভুটানে এক বিলিয়ন ডলার ব্যায়ের পর নেপালকে এই প্রস্তাব দিলো বাংলাদেশ। নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস সম্প্রতি বলেন, ‘আমাদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর জন্য আমরাভারতের কাছ থেকে ৬৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি ছাড়াও পারমানবিক প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা করছি। নেপালকে আমরা একটা বড় বাজার মনে করি, যারা আমাদের জ্বালানির চাহিদা মেটাতে পারবে।’ নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ প্রস্তাব দেয়ার পর নেপাল সরকার এক বছরেরও আগে সাতটি সম্ভাব্য প্রকল্পের তালিকা দিয়েছিল। কিন্তু, এরপর এ ব্যাপারে আর কোন অগ্রগতি হয়নি।

তিনি বলেন, ‘নেপালের জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগ করার পর আশা করি বেসরকারী উদ্যোক্তারাও এগিয়ে আসবেন।’ নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রফতানির জন্য কোন তাড়াহুড়া বা বাধা নেই বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না, নেপাল থেকে বিদ্যুৎ রফতানির ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হবে। ভারত এ ব্যাপারে ইতিবাচক এবং নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যাপারে তারা সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। নেপালের শর্ত পূরণের পর তাদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।’ এর আগে খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য গ্রিড নির্মাণে বাধা দিতে পারে ভারত।

তবে পরিস্থিতি এখন বদলেছে। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল (বিবি আইএন) এর মতো উপ-আঞ্চলিক জোট গঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে এ চারটি দেশের মধ্যে সংযোগ স্থাপন, বাণিজ্য, শিল্প, ট্রানজিট, মোটর যান, জ্বালানি ও গ্রিড সম্প্রসারণের দুয়ার উন্মুক্ত হয়ে গেছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘নেপাল ও বাংলাদেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ বাড়ানো উচিত যাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বাড়ানো যায়।’ বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বর্তমানে তিনটি নিয়মিত ফ্লাইট চালু রয়েছে- এ তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে যাত্রী আনাগোনার সংখ্যা কম। এ বিষয়টির দিকে নজর দিলে পর্যটন সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, নেপাল বর্তমানে বাংলাদেশে শুধুই নির্মাণ ব্লক (লিন্টেল) রফতানি করছে।

নেপালি ব্যবসায়ীরা কেন কফি, অলঙ্কার, হস্তশিল্প এবং অন্যান্য জিনিস রফতানি করছেন না, যখন বাংলাদেশ থেকে ৫৮টিরও বেশি পণ্য আমদানি করছে নেপাল।’ গত বছর বাংলাদেশ থেকে ৪৭.৫ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি আমদানি করেছে নেপাল।