১০:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

ঋণের টাকা আদায় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন

এনন টেক্সের মালিক ইউনুস বাদলের ২১ টি প্রতিষ্ঠান ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ব্যাংক থেকে ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি বের করে নিয়েছে। এখন এ টাকা আদায়কে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন জনতা ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

ব্যাংকিং খাতে ঋণদানে বিশাল অনিয়ম করেছে জনতা ব্যাংক। এই ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কল্যাণে মাত্র ছয় বছরে সাদামাটা একজন বিশাল বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন। ব্যবসায়ী ইউনুস বাদলের পথচলার শুরু হয়েছিল বাসের কনডাক্টরি দিয়ে। বাসের চাকার সাথে ঘোরে তার ভাগ্যের চাকাও। পুঁথিগত ধারণার বাইরে গিয়ে গড়েছেন একের পর এক নজির।

২০০৪ সালে টঙ্গীর ভাদাম এলাকায় মাত্র দুই একর জায়গায় গড়ে তোলেন এনন টেক্স গ্রুপ। তবে তার ব্যবসা ২০১০ সাল থেকে ফুলে ফেঁপে উঠে। এ গ্রুপের জমির পরিমাণ এখন দেড়শ একরে ছাড়িয়েছে। যার বাজার মূল্য ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এখন নিজ প্রতিষ্ঠানে চাকরি দিয়েছেন কয়েক হাজার কর্মীকে। জনতা ব্যাংকের সিবিএ সভাপতির টাঙ্গাইলের গ্রামের বাড়িতে নির্মাণ করে দিচ্ছেন শত কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১ গম্বুজের মসজিদ।

মাত্র ৪২ বছর বয়সে সবকিছু করেছেন। ২০১০ সালের ২৫ আগস্ট জনতা ব্যাংকের ১৫৪ তম বোর্ড সভায় গ্যালাক্সি সুয়েটারের নামে ৮০ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রকল্প ঋণ দিয়ে শুরু। এরপর কেবলই ছুটে চলা। মাত্র পাঁচ থেকে ছয় বছরের ব্যবধানে গড়ে তোলা এনন গ্রুপের ২১টি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়, সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই বিপুল অংকের ঋণ পাস হয় ২০১০ থেকে ২০১৫ সালের ব্যাংকের ২৪টি বোর্ড সভায়।

এই গ্রুপকে ঋণ দিতে গিয়ে ব্যাংকটির শুধু একক ঋণ গ্রহীতার ঋণ সীমাই অতিক্রম করেনি, অতীতের সব রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে। জনতা ব্যাংকের এমডি আব্দুছ ছালাম আজাদ বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, কিছু গ্রুপ কিছুর বাইরে আছে কিছুদিন পরে বুঝতে পারব। তারপর কিছু নাম হান্ড্রেড হওয়ার পরে পরিবর্তনটা বেড়ে গেছে।

এই ঋণ-ই এখন আলোচনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সবশেষ সবকটি বোর্ড সভায়। ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিজনেস বাংলাদেশকে জানান, এই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টাকা আদায়কে চ্যালেঞ্জিং অ্যাসাইনমেন্ট হিসেবে নিয়েছেন তিনিও। সবশেষ পরিসংখ্যানে বলছে, প্রতিষ্ঠানটির বিপরীতে ব্যাংকের বর্তমান দায় দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১২৯ কোটি টাকা।

এর মধ্যে ফান্ডেড দায় ৪ হাজার আর নন-ফান্ডেড ১ হাজার ১০১ কোটি টাকা। ব্যাংকের এমডি বিজনেস বাংলাদেশকে জানান, বিপুল অংকের এই টাকা আদায়ে গঠন করা হয়েছে একটি কোর কমিটিও। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ সুবিধা নেয়া এননটেক্স গ্রুপের ১১’শ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হয়েছে। নতুন করে আবার নিয়মিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া ইসলামী ব্যাংকেরও বড় অংকের বিনিয়োগ আছে প্রতিষ্ঠানটিতে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

যে কোনো হামলাকে সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করবে ইরান

ঋণের টাকা আদায় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন

প্রকাশিত : ১০:৪৭:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

এনন টেক্সের মালিক ইউনুস বাদলের ২১ টি প্রতিষ্ঠান ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ব্যাংক থেকে ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি বের করে নিয়েছে। এখন এ টাকা আদায়কে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন জনতা ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

ব্যাংকিং খাতে ঋণদানে বিশাল অনিয়ম করেছে জনতা ব্যাংক। এই ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কল্যাণে মাত্র ছয় বছরে সাদামাটা একজন বিশাল বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন। ব্যবসায়ী ইউনুস বাদলের পথচলার শুরু হয়েছিল বাসের কনডাক্টরি দিয়ে। বাসের চাকার সাথে ঘোরে তার ভাগ্যের চাকাও। পুঁথিগত ধারণার বাইরে গিয়ে গড়েছেন একের পর এক নজির।

২০০৪ সালে টঙ্গীর ভাদাম এলাকায় মাত্র দুই একর জায়গায় গড়ে তোলেন এনন টেক্স গ্রুপ। তবে তার ব্যবসা ২০১০ সাল থেকে ফুলে ফেঁপে উঠে। এ গ্রুপের জমির পরিমাণ এখন দেড়শ একরে ছাড়িয়েছে। যার বাজার মূল্য ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এখন নিজ প্রতিষ্ঠানে চাকরি দিয়েছেন কয়েক হাজার কর্মীকে। জনতা ব্যাংকের সিবিএ সভাপতির টাঙ্গাইলের গ্রামের বাড়িতে নির্মাণ করে দিচ্ছেন শত কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১ গম্বুজের মসজিদ।

মাত্র ৪২ বছর বয়সে সবকিছু করেছেন। ২০১০ সালের ২৫ আগস্ট জনতা ব্যাংকের ১৫৪ তম বোর্ড সভায় গ্যালাক্সি সুয়েটারের নামে ৮০ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রকল্প ঋণ দিয়ে শুরু। এরপর কেবলই ছুটে চলা। মাত্র পাঁচ থেকে ছয় বছরের ব্যবধানে গড়ে তোলা এনন গ্রুপের ২১টি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়, সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই বিপুল অংকের ঋণ পাস হয় ২০১০ থেকে ২০১৫ সালের ব্যাংকের ২৪টি বোর্ড সভায়।

এই গ্রুপকে ঋণ দিতে গিয়ে ব্যাংকটির শুধু একক ঋণ গ্রহীতার ঋণ সীমাই অতিক্রম করেনি, অতীতের সব রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে। জনতা ব্যাংকের এমডি আব্দুছ ছালাম আজাদ বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, কিছু গ্রুপ কিছুর বাইরে আছে কিছুদিন পরে বুঝতে পারব। তারপর কিছু নাম হান্ড্রেড হওয়ার পরে পরিবর্তনটা বেড়ে গেছে।

এই ঋণ-ই এখন আলোচনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সবশেষ সবকটি বোর্ড সভায়। ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিজনেস বাংলাদেশকে জানান, এই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টাকা আদায়কে চ্যালেঞ্জিং অ্যাসাইনমেন্ট হিসেবে নিয়েছেন তিনিও। সবশেষ পরিসংখ্যানে বলছে, প্রতিষ্ঠানটির বিপরীতে ব্যাংকের বর্তমান দায় দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১২৯ কোটি টাকা।

এর মধ্যে ফান্ডেড দায় ৪ হাজার আর নন-ফান্ডেড ১ হাজার ১০১ কোটি টাকা। ব্যাংকের এমডি বিজনেস বাংলাদেশকে জানান, বিপুল অংকের এই টাকা আদায়ে গঠন করা হয়েছে একটি কোর কমিটিও। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ সুবিধা নেয়া এননটেক্স গ্রুপের ১১’শ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হয়েছে। নতুন করে আবার নিয়মিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া ইসলামী ব্যাংকেরও বড় অংকের বিনিয়োগ আছে প্রতিষ্ঠানটিতে।