প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি ভারত শ্রদ্ধাশীল বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা সফররত দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর।
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন ড. এস জয়শঙ্কর। বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জয়শঙ্কর বলেন, আপনাদের নিকটতম প্রতিবেশী এবং বন্ধু হিসেবে স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা থেকে বাংলাদেশের প্রত্যাশিত উত্তরণের জন্য আমরা প্রশংসা ও গর্ব করি। আমরা আপনাদের অভাবনীয় আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
এটি সন্তুষ্টির বিষয় যে, কোভিড মহামারি সত্ত্বেও, আমাদের মিথস্ক্রিয়া এবং পরামর্শ অব্যাহত ছিল। আমরা ডিসেম্বরে ভার্চ্যুয়াল শীর্ষ সম্মেলন করেছি, সেপ্টেম্বর মাসে যৌথ পরামর্শক কমিশন, পররাষ্ট্র, জ্বালানি ও স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক, পুলিশ প্রধানদের বৈঠক, বিএসএফ-বিজিবি আলোচনা এবং প্রতিরক্ষা সফর করেছি। আমাদের বাণিজ্য, পানিসম্পদ এবং নৌ পরিবহন সচিব পর্যায়ের বৈঠক শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে। এসব বৈঠক উভয়পক্ষের প্রতিশ্রুতিই তুলে ধরে। ’
তিনি বলেন, এমনকী এই মহামারি আমাদের বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করার সুযোগ দিয়েছে। ভারতে উৎপাদিত কোভিড ভ্যাকসিনের সবচেয়ে বড় গ্রহীতা বাংলাদেশ। এছাড়াও বন্ধুদের মধ্যে আমাদের ভ্যাকসিনের সবচেয়ে বড় উপহারটিও (২ মিলিয়ন) এদেশের জন্য ছিল।
জয়শঙ্কর বলেন, আমাদের সাম্প্রতিক কার্যক্রমগুলি সাধারণ পরামর্শ ও প্রস্তাবের ঊর্ধ্বে, তা যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন। আমরা মাঠপর্যায়ে বাস্তব অগ্রগতি অর্জন করেছি। সাম্প্রতিক কয়েকটি উদাহরণ হলো- চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আগরতলায় পরীক্ষামূলকভাবে পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনা, ত্রিপুরাকে আপনাদের জাতীয় নৌপথে সংযুক্ত করার জন্য অভ্যন্তরীণ নৌপথে দু’টি নতুন প্রোটোকল রুট যুক্ত করা, ১০টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ হস্তান্তর, কন্টেইনার ও পার্সেল ট্রেন চলাচল শুরু করা এবং জ্বালানিখাতে একটি যৌথ উদ্যোগ গঠন।
আপনাদের নিকটতম প্রতিবেশী ও বন্ধু হিসেবে স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা থেকে বাংলাদেশের প্রত্যাশিত উত্তরণের জন্য আমরা প্রশংসা ও গর্ব প্রকাশ করি। আমরা আপনাদের অভাবনীয় আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
আপনাদের এই গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিকীগুলো উপলক্ষে আমি বাংলাদেশের সমস্ত বন্ধুকে শুভেচ্ছা জানাতে চাই। আপনাদের সকল স্বপ্ন সত্যি হোক এবং আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি যে, ভারত সর্বদা নির্ভরযোগ্য বন্ধু হিসেবে আপনাদের পাশে থাকবে। এ বছরের ২৬ জানুয়ারি আমাদের গণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে আপনাদের অংশগ্রহণ আমাদের অভিন্ন ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করে। এটি আমাদের গভীর সংহতিরও একটি অভিব্যক্তি যা আমাদের সম্পর্ককে সর্বদা দিক নির্দেশনা দেবে।
বৃহস্পতিবার সকালে একদিনের সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সকালে বিশেষ ফ্লাইটে দিল্লি থেকে ঢাকায় পৌঁছান। বঙ্গবন্ধু এয়ারবেজে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর























