০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

সংকটে ছোট কোম্পানিগুলো

বড় ওষুধ কোম্পানিগুলো করোনা মহামারির মধ্যেও ফুলে-ফেপে আরও বড় হয়েছে। উল্টো চিত্র এই খাতের ছোট ও নতুন কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে। করোনা মহামারির মধ্যে কোম্পানিগুলোকে টিকে থাকার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কোম্পানি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, বেঙ্মিকো ফার্মাসিউটিক্যালস, রেনেটা লিমিটেড, রেকিট বেনকিজার, মেরিকো বাংলাদেশ, একমি ল্যাবরেটরিজ তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। ভালো মুনাফা করার পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর সম্পদ মূল্যও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। কিন্তু ছোট কোম্পানিগুলোর মধ্যে অধিকাংশেরই অবস্থা খারাপের দিকে। লোকসানের মধ্যে পড়েছে তিনটি। আরও ১১টির মুনাফা গত বছরের তুলনায় কমে গেছে। একটির সম্পদমূল্য ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে। আরও পাঁচটির সম্পদমূল্য গত বছরের তুলনায় কমে গেছে। ক্যাশ ফ্লো ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে দুটির। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানিগুলোর সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে।
টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে একাধিক কোম্পানির জন্য। সবচেয়ে খারাপ অবস্থার মধ্যে রয়েছে বেঙ্মিকো সিনথেটিক। ২০২০ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি লোকসান করেছে ১ টাকা ৩২ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয় ১ টাকা ৪০ পয়সা। লোকসানের পাশাপাশি কোম্পানিটির সম্পদমূল্যও ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে ক্যাশ ফ্লো। ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ২ টাকা ৭২ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৪০ পয়সা। অর্থাৎ সময়ের সঙ্গে কোম্পানিটির লোকসানের পাল্লা ভারি হয়েছে। অপরদিকে শেয়ারপ্রতি অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ১ টাকা ৩২ পয়সা। অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো ঋণাত্মক হওয়ায় নগদ অর্থের সংকট দেখা দিয়েছে।
লোকসানের মধ্যে পড়া অপর দুই কোম্পানির মধ্যে ইমাম বাটন ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান করেছে ৫১ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয় ২৯ পয়সা। লোকসানের পাশাপাশি কোম্পানিটির সম্পদমূল্যও কমেছে। সেই সঙ্গে ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে ক্যাশ ফ্লো। ২০২০ সালের মার্চ শেষে শেয়ারপ্রতি সম্পদ দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ৮১ পয়সা, যা ২০১৯ সালের জুনে ছিল ৫ টাকা ৩২ পয়সা।
অপর প্রতিষ্ঠান ফার কেমিক্যাল ২০২০ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান করেছে ৩ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ৩৬ পয়সা মুনাফা করে। লোকসানের পাশাপাশি এই কোম্পানিটিরও সম্পদমূল্য কমে গেছে। ডিসেম্বর শেষে ফার কেমিক্যালের শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ৯৪ পয়সা, যা জুনে ছিল ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা।
অপরদিকে মুনাফা করলেও অ্যাকটিভ ফাইন, অ্যাডভেন্ট ফার্মা, এমবি ফার্মা, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস, ওরিয়ন ইনফিউশন, ওরিয়ন ফার্মা, ফার্মা এইড, সিলকো ফার্মা, সিলভা ফার্মা ও ওয়াটা কেমিক্যালের শেয়ারপ্রতি মুনাফা আগের বছরের তুলনায় কমে গেছে। এছাড়া লিব্রা ইনফিউশন ও কেয়া কসমেটিকের তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষক বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ওষুধ হলো অতিপ্রয়োজনীয় পণ্য। এ কারণে স্বাভাবিকভাবেই ভালো কোম্পানিগুলোর ভালো প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। তাছাড়া ওষুধ হচ্ছে সেনসিটিভ পণ্য। সুতরাং জেনেশুনে কেউ খারাপ কোম্পানির ওষুধ কিনবে না। যে কারণে ভালো কোম্পানিগুলো ধারাবাহিকভাবে ভালো মুনাফা করছে। অপরদিকে ছোট কোম্পানিগুলোকে টিকে থাকার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সংকটে ছোট কোম্পানিগুলো

প্রকাশিত : ১২:০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ মার্চ ২০২১

বড় ওষুধ কোম্পানিগুলো করোনা মহামারির মধ্যেও ফুলে-ফেপে আরও বড় হয়েছে। উল্টো চিত্র এই খাতের ছোট ও নতুন কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে। করোনা মহামারির মধ্যে কোম্পানিগুলোকে টিকে থাকার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কোম্পানি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, বেঙ্মিকো ফার্মাসিউটিক্যালস, রেনেটা লিমিটেড, রেকিট বেনকিজার, মেরিকো বাংলাদেশ, একমি ল্যাবরেটরিজ তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। ভালো মুনাফা করার পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর সম্পদ মূল্যও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। কিন্তু ছোট কোম্পানিগুলোর মধ্যে অধিকাংশেরই অবস্থা খারাপের দিকে। লোকসানের মধ্যে পড়েছে তিনটি। আরও ১১টির মুনাফা গত বছরের তুলনায় কমে গেছে। একটির সম্পদমূল্য ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে। আরও পাঁচটির সম্পদমূল্য গত বছরের তুলনায় কমে গেছে। ক্যাশ ফ্লো ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে দুটির। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানিগুলোর সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে।
টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে একাধিক কোম্পানির জন্য। সবচেয়ে খারাপ অবস্থার মধ্যে রয়েছে বেঙ্মিকো সিনথেটিক। ২০২০ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি লোকসান করেছে ১ টাকা ৩২ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয় ১ টাকা ৪০ পয়সা। লোকসানের পাশাপাশি কোম্পানিটির সম্পদমূল্যও ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে ক্যাশ ফ্লো। ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ২ টাকা ৭২ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৪০ পয়সা। অর্থাৎ সময়ের সঙ্গে কোম্পানিটির লোকসানের পাল্লা ভারি হয়েছে। অপরদিকে শেয়ারপ্রতি অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ১ টাকা ৩২ পয়সা। অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো ঋণাত্মক হওয়ায় নগদ অর্থের সংকট দেখা দিয়েছে।
লোকসানের মধ্যে পড়া অপর দুই কোম্পানির মধ্যে ইমাম বাটন ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান করেছে ৫১ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয় ২৯ পয়সা। লোকসানের পাশাপাশি কোম্পানিটির সম্পদমূল্যও কমেছে। সেই সঙ্গে ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে ক্যাশ ফ্লো। ২০২০ সালের মার্চ শেষে শেয়ারপ্রতি সম্পদ দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ৮১ পয়সা, যা ২০১৯ সালের জুনে ছিল ৫ টাকা ৩২ পয়সা।
অপর প্রতিষ্ঠান ফার কেমিক্যাল ২০২০ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান করেছে ৩ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ৩৬ পয়সা মুনাফা করে। লোকসানের পাশাপাশি এই কোম্পানিটিরও সম্পদমূল্য কমে গেছে। ডিসেম্বর শেষে ফার কেমিক্যালের শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ৯৪ পয়সা, যা জুনে ছিল ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা।
অপরদিকে মুনাফা করলেও অ্যাকটিভ ফাইন, অ্যাডভেন্ট ফার্মা, এমবি ফার্মা, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস, ওরিয়ন ইনফিউশন, ওরিয়ন ফার্মা, ফার্মা এইড, সিলকো ফার্মা, সিলভা ফার্মা ও ওয়াটা কেমিক্যালের শেয়ারপ্রতি মুনাফা আগের বছরের তুলনায় কমে গেছে। এছাড়া লিব্রা ইনফিউশন ও কেয়া কসমেটিকের তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষক বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ওষুধ হলো অতিপ্রয়োজনীয় পণ্য। এ কারণে স্বাভাবিকভাবেই ভালো কোম্পানিগুলোর ভালো প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। তাছাড়া ওষুধ হচ্ছে সেনসিটিভ পণ্য। সুতরাং জেনেশুনে কেউ খারাপ কোম্পানির ওষুধ কিনবে না। যে কারণে ভালো কোম্পানিগুলো ধারাবাহিকভাবে ভালো মুনাফা করছে। অপরদিকে ছোট কোম্পানিগুলোকে টিকে থাকার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে।