১১:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

সাপের বিষের প্রতিষেধক তৈরি : ২ বছরে ৮০ শতাংশ ভেনম সংগ্রহ

সাপের বিষের প্রতিষেধক তৈরির জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে স্থাপন করা হয়েছে ভেনম রিসার্চ সেন্টার। দেশের প্রথম এই ভেনম রিসার্চ সেন্টারে দুই বছরের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৮০ ভাগ ভেনম সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই ভেনমের স্টক তৈরি করা। যা দিয়ে পরবর্তীতে অ্যান্টিভেনম সিনথেসিস করে প্রতিষেধক তৈরির গবেষণার কাজ চালানো হবে। প্রকল্পের কো-ইনভেস্টিগেটর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী বলেন, গবেষণার জন্য ন্যূনতম ৫ গ্রাম করে ভেনম প্রয়োজন। সে হিসেবে আমরা বেশকিছু প্রজাতির ভেনম সংগ্রহ করেছি। তিনি বলেন, গোখরো প্রজাতি সাপের ভেনম পাওয়া গেলেও কেওটে প্রজাতির বেশ কিছু সাপ রয়েছে- যাদের ভেনম পাওয়া যায় খুবই অল্প সংখ্যক। তাদের ভেনম সংগ্রহ করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। ‘সব মিলিয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ ভেনম সংগ্রহ করতে পেরেছি। প্রকল্পের সম্পূর্ণ সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট সংখ্যক ভেনম সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।’ যোগ করেন এই গবেষক। এই গবেষক আরও বলেন, এই ভেনম রিচার্স সেন্টারে দেশের ৯ প্রজাতির প্রায় ১৬৯টি বিষধর সাপ রয়েছে। নিয়ম করে প্রতিটি সাপের কাছ থেকে ভেনম সংগ্রহ করা হয়। এখন পর্যন্ত কি পরিমাণ ভেনম সংগ্রহ করা হয়েছে জানতে চাইলে তথ্যটি অত্যন্ত গোপনী বলে জানান তিনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় ২০১৮ সালের মার্চ মাসে ‘এন্টিভেনম’ বা প্রতিষেধক তৈরির এ প্রকল্প নেওয়া হয়। তার আলোকেই দেশে প্রথমবারের মত প্রতিষ্ঠিত হয় এই গবেষণাগারটি। দুই বছর আগে মাত্র ৫টি সাপ নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের নীচতলায় এই রিসার্চ সেন্টারটি যাত্রা শুরু করে। ৯ প্রজাতির ১৬৯টি সাপ রয়েছে এই ভেনম সেন্টারে। যার মধ্যে ১০৬টি প্রাপ্ত বয়স্ক। এ সাপগুলোকে রাখা হয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে। আর এসব সাপের পেছনে ব্যয় করা হয় মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা। খাবার হিসেবে দেওয়া হয় মুরগীর বাচ্চা, মাছ ও ইঁদুর। ভেনম রিসার্চ সেন্টারের সহকারী গবেষক মিজানুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, কেউ সাপের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দিলে আমরা সাপ সংগ্রহে যাই। সংগ্রহের পর গবেষণাগারে নেওয়ার আগে সাপটিকে দু’মাস রাখা হয় কোয়ারেন্টিন কক্ষে। পরে সেখান থেকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়। তিনি আরও বলেন, এসব সাপের খাবারের যোগান দিতে গবেষণাগারেই ইঁদুর লালন করা হচ্ছে। তাছাড়া কোনো কারণে সাপ অসুস্থ হয়ে পড়লে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা ও ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই জন চিকিৎসক তাদের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। প্রকল্পের প্রধান গবেষক ডা. অনিরুদ্ধ ঘোষ বাংলানিউজকে বলেন, এ ভেনম সেন্টারটি তৈরি করার ফলে অনেকগুলো সাপ সংগ্রহ করতে পেরেছি। কিন্তু আরও সংগ্রহ করা বাকি রয়েছে। তবে এই বছরের মধ্যে যে ভেনম সংগ্রহ করা হয়েছে তা সাপের প্রজাতিগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সাপের বিষের প্রতিষেধক তৈরি : ২ বছরে ৮০ শতাংশ ভেনম সংগ্রহ

প্রকাশিত : ১২:০১:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ মার্চ ২০২১

সাপের বিষের প্রতিষেধক তৈরির জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে স্থাপন করা হয়েছে ভেনম রিসার্চ সেন্টার। দেশের প্রথম এই ভেনম রিসার্চ সেন্টারে দুই বছরের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৮০ ভাগ ভেনম সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই ভেনমের স্টক তৈরি করা। যা দিয়ে পরবর্তীতে অ্যান্টিভেনম সিনথেসিস করে প্রতিষেধক তৈরির গবেষণার কাজ চালানো হবে। প্রকল্পের কো-ইনভেস্টিগেটর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী বলেন, গবেষণার জন্য ন্যূনতম ৫ গ্রাম করে ভেনম প্রয়োজন। সে হিসেবে আমরা বেশকিছু প্রজাতির ভেনম সংগ্রহ করেছি। তিনি বলেন, গোখরো প্রজাতি সাপের ভেনম পাওয়া গেলেও কেওটে প্রজাতির বেশ কিছু সাপ রয়েছে- যাদের ভেনম পাওয়া যায় খুবই অল্প সংখ্যক। তাদের ভেনম সংগ্রহ করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। ‘সব মিলিয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ ভেনম সংগ্রহ করতে পেরেছি। প্রকল্পের সম্পূর্ণ সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট সংখ্যক ভেনম সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।’ যোগ করেন এই গবেষক। এই গবেষক আরও বলেন, এই ভেনম রিচার্স সেন্টারে দেশের ৯ প্রজাতির প্রায় ১৬৯টি বিষধর সাপ রয়েছে। নিয়ম করে প্রতিটি সাপের কাছ থেকে ভেনম সংগ্রহ করা হয়। এখন পর্যন্ত কি পরিমাণ ভেনম সংগ্রহ করা হয়েছে জানতে চাইলে তথ্যটি অত্যন্ত গোপনী বলে জানান তিনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় ২০১৮ সালের মার্চ মাসে ‘এন্টিভেনম’ বা প্রতিষেধক তৈরির এ প্রকল্প নেওয়া হয়। তার আলোকেই দেশে প্রথমবারের মত প্রতিষ্ঠিত হয় এই গবেষণাগারটি। দুই বছর আগে মাত্র ৫টি সাপ নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের নীচতলায় এই রিসার্চ সেন্টারটি যাত্রা শুরু করে। ৯ প্রজাতির ১৬৯টি সাপ রয়েছে এই ভেনম সেন্টারে। যার মধ্যে ১০৬টি প্রাপ্ত বয়স্ক। এ সাপগুলোকে রাখা হয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে। আর এসব সাপের পেছনে ব্যয় করা হয় মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা। খাবার হিসেবে দেওয়া হয় মুরগীর বাচ্চা, মাছ ও ইঁদুর। ভেনম রিসার্চ সেন্টারের সহকারী গবেষক মিজানুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, কেউ সাপের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দিলে আমরা সাপ সংগ্রহে যাই। সংগ্রহের পর গবেষণাগারে নেওয়ার আগে সাপটিকে দু’মাস রাখা হয় কোয়ারেন্টিন কক্ষে। পরে সেখান থেকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়। তিনি আরও বলেন, এসব সাপের খাবারের যোগান দিতে গবেষণাগারেই ইঁদুর লালন করা হচ্ছে। তাছাড়া কোনো কারণে সাপ অসুস্থ হয়ে পড়লে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা ও ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই জন চিকিৎসক তাদের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। প্রকল্পের প্রধান গবেষক ডা. অনিরুদ্ধ ঘোষ বাংলানিউজকে বলেন, এ ভেনম সেন্টারটি তৈরি করার ফলে অনেকগুলো সাপ সংগ্রহ করতে পেরেছি। কিন্তু আরও সংগ্রহ করা বাকি রয়েছে। তবে এই বছরের মধ্যে যে ভেনম সংগ্রহ করা হয়েছে তা সাপের প্রজাতিগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।