১১:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

আন্তঃবাণিজ্যে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা

আট বছর আগেও শ্রীলঙ্কায় রপ্তানিতে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। পাল্টে গেছে সে চিত্র। এখন রপ্তানির চেয়ে দেশটি থেকে দ্বিগুণ আমদানি হয়। আর সে জন্য শুল্ক বাধাকেই দুষছেন ব্যবসায়ীরা। এক যুগ ধরে ঝুলে থাকা মুক্তবাণিজ্য চুক্তি হলেই বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বহুগুণ বাড়াত বলে মনে করেন তারা। কলম্বো বন্দর ব্যবহারে অগ্রাধিকার পেতে কোস্টাল শিপিং চুক্তি সইয়েও অগ্রগতি নেই। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানালেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আমন্ত্রিত শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার টেবিলে উঠবে এ ইস্যুগুলো। সার্ক অন্তর্ভুক্ত দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা। মানব উন্নয়ন সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় ঈর্ষণীয় অবস্থানে আছে দেশটি। স্বাধীনতার পর থেকে ক্রমশ দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের আকার বাড়লেও পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১১-১২ অর্থবছর পর্যন্ত আমদানির চেয়ে রপ্তানিতে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। এরপর ক্রমশ কমতে থাকে রপ্তানি। ব্যবসায়ীরা এ জন্য শুল্ক বাধার পাশাপাশি রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণ ও যথাযথ ব্র্যান্ডিংয়ের অভাবকে দুষছেন। যদিও শুল্ক বাধা কাটাতে এক যুগ ধরে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও নেই দৃশ্যমান অগ্রগতি। এ জন্য দুপক্ষের কার্যকর যোগাযোগ না থাকাকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি রিজওয়ান রাহমান বলেন, মুক্তবাণিজ্য চুক্তিটা হওয়া জরুরি। এর ফলে আমাদের বিভিন্ন ধরনের পণ্যের পথ খুলে যাবে। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে উপকূলীয় নৌ-বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়াও ঝুলছে তিন বছর ধরে। অর্থনীতিবিদের মতে, আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও সেবা খাতে বিনিয়োগ বাড়লেই প্রসার হবে রপ্তানির বাজার। সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ট্রান্সপোর্ট খাত, সমুদ্রবন্দরের ব্যবহারকে সংযুক্ত করে পণ্য আমদানি রপ্তানি নয়। বিনিয়োগ সৃষ্টি করে পন্য রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মনুশি বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ-শ্রীলকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১০ কোটি ডলারের কম।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

৮০০ কোটি টাকার জমি ৪০০ কোটিতে বিক্রির ছক: স্বার্থান্বেষী চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

আন্তঃবাণিজ্যে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা

প্রকাশিত : ১২:০১:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ মার্চ ২০২১

আট বছর আগেও শ্রীলঙ্কায় রপ্তানিতে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। পাল্টে গেছে সে চিত্র। এখন রপ্তানির চেয়ে দেশটি থেকে দ্বিগুণ আমদানি হয়। আর সে জন্য শুল্ক বাধাকেই দুষছেন ব্যবসায়ীরা। এক যুগ ধরে ঝুলে থাকা মুক্তবাণিজ্য চুক্তি হলেই বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বহুগুণ বাড়াত বলে মনে করেন তারা। কলম্বো বন্দর ব্যবহারে অগ্রাধিকার পেতে কোস্টাল শিপিং চুক্তি সইয়েও অগ্রগতি নেই। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানালেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আমন্ত্রিত শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার টেবিলে উঠবে এ ইস্যুগুলো। সার্ক অন্তর্ভুক্ত দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা। মানব উন্নয়ন সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় ঈর্ষণীয় অবস্থানে আছে দেশটি। স্বাধীনতার পর থেকে ক্রমশ দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের আকার বাড়লেও পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১১-১২ অর্থবছর পর্যন্ত আমদানির চেয়ে রপ্তানিতে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। এরপর ক্রমশ কমতে থাকে রপ্তানি। ব্যবসায়ীরা এ জন্য শুল্ক বাধার পাশাপাশি রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণ ও যথাযথ ব্র্যান্ডিংয়ের অভাবকে দুষছেন। যদিও শুল্ক বাধা কাটাতে এক যুগ ধরে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও নেই দৃশ্যমান অগ্রগতি। এ জন্য দুপক্ষের কার্যকর যোগাযোগ না থাকাকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি রিজওয়ান রাহমান বলেন, মুক্তবাণিজ্য চুক্তিটা হওয়া জরুরি। এর ফলে আমাদের বিভিন্ন ধরনের পণ্যের পথ খুলে যাবে। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে উপকূলীয় নৌ-বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়াও ঝুলছে তিন বছর ধরে। অর্থনীতিবিদের মতে, আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও সেবা খাতে বিনিয়োগ বাড়লেই প্রসার হবে রপ্তানির বাজার। সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ট্রান্সপোর্ট খাত, সমুদ্রবন্দরের ব্যবহারকে সংযুক্ত করে পণ্য আমদানি রপ্তানি নয়। বিনিয়োগ সৃষ্টি করে পন্য রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মনুশি বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ-শ্রীলকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১০ কোটি ডলারের কম।