১১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

মন্দা কাটছেনা পোশাক রফতানিতে

দেশের রফতানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাতের রফতানি আয়ে চলমান মন্দা সহসাই কাটছেনা। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সূত্রে এমন তথ্য মিলেছে। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই এই খাতের রফতানি আয়ে যে নেতিবাচক প্রবণতা ছিল তা চলতি মার্চ মাসেও অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতারা জানিয়েছেন, বিশ্বময় করোনা পরিস্থিতির উত্তরণ না ঘটলে পোশাকের রফতানি আয়ে সহসাই সুখবর মিলছে না। তবে আগামী জুন-জুলাই থেকে পোশাক খাতের রফতানি আয় ক্রমাগত বাড়তে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা। তৈরি পোশাক খাতের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ বাজার পরিস্থিতি নিয়ে এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী, এমপি বলেন, করোনার কারণে বিশ্ব বাজার এখন চ্যালেঞ্জের মুখে। বিশ্ব অর্থনীতি এখনও মন্দার দিকেই রয়েছে। পোশাকের চাহিদা না থাকায় ক্রেতাও নেই। আবার প্রতিযোগিতাও বাড়ছে। এ সব কারণে রফতানি আয় বাড়ছে না। তিনি বলেন, রফতানি আয় বাড়াতে আমাদের পণ্যের গুণগত মান বাড়াতে হবে। প্রতিযোগিতা বাড়াতে হবে। আমাদের ডিজাইন, স্টাইল ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি ও বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, করোনা আজ এখানে বাড়ছে, কাল ওখানে কমছে। সারাবিশ্বে এখনও করোনা পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটেনি। বিনিয়োগ হচ্ছে না। ইউরোপে দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। করোনা পরিস্থিতির উত্তরণ না ঘটলে রফতানি আয় আগের অবস্থায় ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। আমরা এখনও করোনা পরিস্থিতিই পর্যবেক্ষণ করছি। মন্তব্য জানতে চাইলে বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিবিএ) সভাপতি কাজী ইফতেখার হোসেন বলেন, ইউরোপের সমস্ত দেশ এখনও লকডাউনে। আমাদের রফতানির বড় পার্ট ইউরোপ, সেখানের প্রতিটি দেশ করোনায় আক্রান্ত। ইউরোপের ক্রেতারা এখন পোশাক কিনছে না। আমেরিকার মার্কেটেও সেভাবে ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। ছোট ছোট যেসব দেশে আমাদের ক্রেতা আছে সেখানেও সেই অর্থে এখন চাহিদা নেই। আবার নতুন মার্কেটের সন্ধানও পাচ্ছি না। তিনি বলেন, যেহেতু বিভিন্ন দেশে আমরা ভ্রমণ করতে পারছি না তাই ক্রেতাদের সঙ্গে আমরা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারছি না। ফেইস টু ফেইস যোগাযোগ করতে না পারায় আগের মতো অর্ডারও পাওয়া যাচ্ছে না। আর আমরা সেই অর্থে এখনও তেমন ডিজিটাল হয়নি, বিশ্ব যেভাবে ডিজিটালি এগিয়ে গেছে, আমরা এখনও অন্যান্য দেশের মতো ডিজিটাল ফেয়ার করতে পারছি না। কারণ ইন্ডাস্ট্রি করা যত সহজ মার্কেটিং করা তত সহজ নয়। মূলত এসব কারণে রফতানি আয় আগের অবস্থায় পৌঁছাতে পারছে না। বিজিবিএ সভাপতি আরও বলেন, রফতানি আয় না বাড়ার এসব কারণের সঙ্গে সুতার দাম বেড়েছে। জাহাজের ভাড়া বেড়েছে। এ সব কারণে প্রাথমিক উপকরণের দাম বেড়েছে। ফলে খরচও বেড়ে গেছে। এ সব কারণও রফতানি আয় না বাড়ার অনুঘটক হিসাবে কাজ করছে। বিজিএমইএ’র পরিচালক (শ্রম) রেজওয়ান সেলিম এ প্রসঙ্গে বলেন, ইউরোপের বাজারের বেশিরভাগ এখন বন্ধ। আমাদের বাজারের ৬০ ভাগ ইউরোপে, ৩০ ভাগ আমেরিকায় ও ১০ শতাংশ অন্যান্য দেশে। আমাদের হাতে অর্ডার আছে, কিন্তু কাজ শুরু করার অনুমতি নেই। আমার কারখানারই ৭০ শতাংশ ক্যাপাসিটি এখন ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, যারা টি শার্ট ও আন্ডারওয়ারের কাজ করছে তাদের হাতে প্রচুর কাজ আছে। কিন্তু যারা ফরমাল শার্ট, স্যুট, সোয়েটারের কাজ করে তাদের হাতে তেমন কাজ নেই। আপাতত বাজারের অবস্থা বা রফতানি আয় একই থাকবে। জুন-জলাইয়ের দিকে রফতানি আয় বাড়তে পারে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্য রফতানি করে আয় হয়েছে ২ হাজার ৫৮৬ কোটি ২৩ লাখ ডলার। এ আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩.৬১ ও গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১.৪৫ শতাংশ কম। এ ছাড়া জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পোশাক খাতে রফতানি আয় হয়েছে ২ হাজার ১০৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার, এ আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪.৮৭ ও গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩.৭৩ শতাংশ কম। এদিকে একক মাস হিসাবে ফেব্রুয়ারির মাসে রফতানি আয় ৩১৯ কোটি ৯২ লাখ ডলার, এ আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪.৮৩ ও গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩.৯২ শতাংশ কম। গত অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাসের রফতানি আয় ছিল ৩৩২ কোটি ২৩ লাখ ডলার। আর একক মাস হিসাবে জানুয়ারি মাসের রফতানি আয় ৩৪৩ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, এ আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯.৫৮ ও গত অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে ৪.৯৯ শতাংশ কম। গত বছর জানুয়ারিতে আয় হয়েছিল ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে গত বছরের এপ্রিলে পোশাক পণ্যের রফতানি তলানিতে ঠেকে। মাসটিতে মাত্র ৩৭ কোটি মার্কিন ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছিল, যা ছিল গেল কয়েক দশকের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। অবশ্য পরের দুই মাস মে ও জুনে রফতানি আয় ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। তবে সেটাও ছিল গত বছরের চেয়ে কম। তথ্য বলছে, মহামারি শুরুর পর গত অর্থবছরের মার্চে রফতানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশ, এপ্রিলে ৮২ দশমিক ৮৫ শতাংশ, মে মাসে ৬১ শতাংশ, জুনে ২৫ শতাংশ কমে যায়। আর চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) রফতানি আয় এসেছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। একক মাস হিসেবে ডিসেম্বরে ৩৩১ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে যার পরিমাণ ছিল ৩৫৩ কোটি ডলার। আর ডিসেম্বরে ৬ দশমিক ১১ শতাংশ কম রফতানি দিয়ে শেষ হয়েছে বছর। জানা গেছে, ২০২০ সালের শুরুটিই হয় ২ শতাংশ রফতানি আয় কম দিয়ে। পরে মার্চ মাসে করোনার প্রথম ধাক্কা আসে। ওই মাসে আগের বছরের চেয়ে ১৮ দশমিক ২৯ শতাংশ রফতানি আয় কম হয়। রফতানি খাতে পতনের রেকর্ড সৃষ্টি হয় লকডাউনের সময়ে। এপ্রিল মাসে রফতানি কম হয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৩ শতাংশ। ওই মাসে মাত্র ৫২ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়। পরে অবস্থা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলেও রফতানি আয়ে সার্বিকভাবে খুব একটা ইতিবাচক ধারা ফিরে আসেনি। বছরের প্রায় ৯ মাসই রফতানি আয়ে নেতিবাচক প্রবণতা ছিল। নতুন বছরেও ইতিবাচক ধারা ফিরে আসেনি পোশাক রফতানিতে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

৮০০ কোটি টাকার জমি ৪০০ কোটিতে বিক্রির ছক: স্বার্থান্বেষী চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

মন্দা কাটছেনা পোশাক রফতানিতে

প্রকাশিত : ১২:০১:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ মার্চ ২০২১

দেশের রফতানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাতের রফতানি আয়ে চলমান মন্দা সহসাই কাটছেনা। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সূত্রে এমন তথ্য মিলেছে। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই এই খাতের রফতানি আয়ে যে নেতিবাচক প্রবণতা ছিল তা চলতি মার্চ মাসেও অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতারা জানিয়েছেন, বিশ্বময় করোনা পরিস্থিতির উত্তরণ না ঘটলে পোশাকের রফতানি আয়ে সহসাই সুখবর মিলছে না। তবে আগামী জুন-জুলাই থেকে পোশাক খাতের রফতানি আয় ক্রমাগত বাড়তে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা। তৈরি পোশাক খাতের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ বাজার পরিস্থিতি নিয়ে এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী, এমপি বলেন, করোনার কারণে বিশ্ব বাজার এখন চ্যালেঞ্জের মুখে। বিশ্ব অর্থনীতি এখনও মন্দার দিকেই রয়েছে। পোশাকের চাহিদা না থাকায় ক্রেতাও নেই। আবার প্রতিযোগিতাও বাড়ছে। এ সব কারণে রফতানি আয় বাড়ছে না। তিনি বলেন, রফতানি আয় বাড়াতে আমাদের পণ্যের গুণগত মান বাড়াতে হবে। প্রতিযোগিতা বাড়াতে হবে। আমাদের ডিজাইন, স্টাইল ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি ও বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, করোনা আজ এখানে বাড়ছে, কাল ওখানে কমছে। সারাবিশ্বে এখনও করোনা পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটেনি। বিনিয়োগ হচ্ছে না। ইউরোপে দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। করোনা পরিস্থিতির উত্তরণ না ঘটলে রফতানি আয় আগের অবস্থায় ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। আমরা এখনও করোনা পরিস্থিতিই পর্যবেক্ষণ করছি। মন্তব্য জানতে চাইলে বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিবিএ) সভাপতি কাজী ইফতেখার হোসেন বলেন, ইউরোপের সমস্ত দেশ এখনও লকডাউনে। আমাদের রফতানির বড় পার্ট ইউরোপ, সেখানের প্রতিটি দেশ করোনায় আক্রান্ত। ইউরোপের ক্রেতারা এখন পোশাক কিনছে না। আমেরিকার মার্কেটেও সেভাবে ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। ছোট ছোট যেসব দেশে আমাদের ক্রেতা আছে সেখানেও সেই অর্থে এখন চাহিদা নেই। আবার নতুন মার্কেটের সন্ধানও পাচ্ছি না। তিনি বলেন, যেহেতু বিভিন্ন দেশে আমরা ভ্রমণ করতে পারছি না তাই ক্রেতাদের সঙ্গে আমরা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারছি না। ফেইস টু ফেইস যোগাযোগ করতে না পারায় আগের মতো অর্ডারও পাওয়া যাচ্ছে না। আর আমরা সেই অর্থে এখনও তেমন ডিজিটাল হয়নি, বিশ্ব যেভাবে ডিজিটালি এগিয়ে গেছে, আমরা এখনও অন্যান্য দেশের মতো ডিজিটাল ফেয়ার করতে পারছি না। কারণ ইন্ডাস্ট্রি করা যত সহজ মার্কেটিং করা তত সহজ নয়। মূলত এসব কারণে রফতানি আয় আগের অবস্থায় পৌঁছাতে পারছে না। বিজিবিএ সভাপতি আরও বলেন, রফতানি আয় না বাড়ার এসব কারণের সঙ্গে সুতার দাম বেড়েছে। জাহাজের ভাড়া বেড়েছে। এ সব কারণে প্রাথমিক উপকরণের দাম বেড়েছে। ফলে খরচও বেড়ে গেছে। এ সব কারণও রফতানি আয় না বাড়ার অনুঘটক হিসাবে কাজ করছে। বিজিএমইএ’র পরিচালক (শ্রম) রেজওয়ান সেলিম এ প্রসঙ্গে বলেন, ইউরোপের বাজারের বেশিরভাগ এখন বন্ধ। আমাদের বাজারের ৬০ ভাগ ইউরোপে, ৩০ ভাগ আমেরিকায় ও ১০ শতাংশ অন্যান্য দেশে। আমাদের হাতে অর্ডার আছে, কিন্তু কাজ শুরু করার অনুমতি নেই। আমার কারখানারই ৭০ শতাংশ ক্যাপাসিটি এখন ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, যারা টি শার্ট ও আন্ডারওয়ারের কাজ করছে তাদের হাতে প্রচুর কাজ আছে। কিন্তু যারা ফরমাল শার্ট, স্যুট, সোয়েটারের কাজ করে তাদের হাতে তেমন কাজ নেই। আপাতত বাজারের অবস্থা বা রফতানি আয় একই থাকবে। জুন-জলাইয়ের দিকে রফতানি আয় বাড়তে পারে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্য রফতানি করে আয় হয়েছে ২ হাজার ৫৮৬ কোটি ২৩ লাখ ডলার। এ আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩.৬১ ও গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১.৪৫ শতাংশ কম। এ ছাড়া জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পোশাক খাতে রফতানি আয় হয়েছে ২ হাজার ১০৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার, এ আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪.৮৭ ও গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩.৭৩ শতাংশ কম। এদিকে একক মাস হিসাবে ফেব্রুয়ারির মাসে রফতানি আয় ৩১৯ কোটি ৯২ লাখ ডলার, এ আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪.৮৩ ও গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩.৯২ শতাংশ কম। গত অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাসের রফতানি আয় ছিল ৩৩২ কোটি ২৩ লাখ ডলার। আর একক মাস হিসাবে জানুয়ারি মাসের রফতানি আয় ৩৪৩ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, এ আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯.৫৮ ও গত অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে ৪.৯৯ শতাংশ কম। গত বছর জানুয়ারিতে আয় হয়েছিল ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে গত বছরের এপ্রিলে পোশাক পণ্যের রফতানি তলানিতে ঠেকে। মাসটিতে মাত্র ৩৭ কোটি মার্কিন ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছিল, যা ছিল গেল কয়েক দশকের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। অবশ্য পরের দুই মাস মে ও জুনে রফতানি আয় ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। তবে সেটাও ছিল গত বছরের চেয়ে কম। তথ্য বলছে, মহামারি শুরুর পর গত অর্থবছরের মার্চে রফতানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশ, এপ্রিলে ৮২ দশমিক ৮৫ শতাংশ, মে মাসে ৬১ শতাংশ, জুনে ২৫ শতাংশ কমে যায়। আর চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) রফতানি আয় এসেছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। একক মাস হিসেবে ডিসেম্বরে ৩৩১ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে যার পরিমাণ ছিল ৩৫৩ কোটি ডলার। আর ডিসেম্বরে ৬ দশমিক ১১ শতাংশ কম রফতানি দিয়ে শেষ হয়েছে বছর। জানা গেছে, ২০২০ সালের শুরুটিই হয় ২ শতাংশ রফতানি আয় কম দিয়ে। পরে মার্চ মাসে করোনার প্রথম ধাক্কা আসে। ওই মাসে আগের বছরের চেয়ে ১৮ দশমিক ২৯ শতাংশ রফতানি আয় কম হয়। রফতানি খাতে পতনের রেকর্ড সৃষ্টি হয় লকডাউনের সময়ে। এপ্রিল মাসে রফতানি কম হয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৩ শতাংশ। ওই মাসে মাত্র ৫২ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়। পরে অবস্থা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলেও রফতানি আয়ে সার্বিকভাবে খুব একটা ইতিবাচক ধারা ফিরে আসেনি। বছরের প্রায় ৯ মাসই রফতানি আয়ে নেতিবাচক প্রবণতা ছিল। নতুন বছরেও ইতিবাচক ধারা ফিরে আসেনি পোশাক রফতানিতে।