দিন দিন দুষণ বাড়ছে ঢাকার বায়ুতে। রবিবার সকাল ১০টায় বায়ু দূষণের মাত্রা ৬৬১ পিএম২.৫ ছুঁয়েছে। এই মাত্রাকে ভয়াবহ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী, বায়ু দূষণের মাত্রা ৩০০ পেরোলেই যেকেউ অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ অবস্থায় সবার বাইরে বের হওয়া নিষেধ। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দূষণ চলতে থাকলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বেন ঢাকার বাসিন্দারা। এছাড়া করোনাভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি, চর্ম রোগ, ফুসফুসের ক্যানসার, শ্বাসকষ্টের ঝুঁকিও আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুতে ছয় ধরনের পদার্থ ও গ্যাসের কারণে দূষণের মাত্রা বেড়েছে। এর মধ্যে সালফার ডাইঅক্সাইড, নাইট্রোজেন, কার্বন মনোক্সাইড, সিসা এবং দুইটি ক্ষুদ্রতিক্ষুদ্র কনা, যেগুলো খালি চোখে দেখা যায় না। এগুলোর উপস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই বায়ু মান যাচাই করা হয়। আর শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে এই পদার্থগুলোই শরীরে প্রবেশ করে। ফলে শুরুতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুসফুস। এ বিষয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মোকতেল হোসেন বলেন, ‘বায়ু দূষণের মাধমে বায়ু বাহিত রোগ হতে পারে। শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, ক্রনিক অ্যাজমা, ব্রংক্রাইটিস হতে পারে। অন্যদিকে দূষিত বায়ুর মাধ্যমে ক্ষতিকর পদার্থ নাক ও মুখ দিয়ে ফুসফুসে প্রবেশ করে। ফুসফুসে অক্সিজেনের মাধ্যমে সারা শরীরের রক্ত এসে পিওর হয়ে সাপ্লাই হয়। যখন আমরা অক্সিজেন নিচ্ছি তখন বায়ুর মাধ্যমে অন্যান্য ক্ষতিকর বস্তুগুলোও ফুসফুসে গিয়ে জমা হয়। ফলে ফুসফুস দুর্বল হয়ে যাবে, ইনফেকশন হতে পারে। ধীরে ধীরে এর কার্যক্ষমতা কমে যাবে, পরিণতিতে ফুসফুসে ক্যানসার হতে পারে। বর্তমানে করোনাভাইরাসের সময় এই ঝুঁকি আরও বেশি। কারণ যখন ফুসফুস রক্ত সঠিকভাবে পরিষ্কার করতে না পারবে তখন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে। আর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর মৃত্যু ঝুঁকি স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাবে। বিশেষ করে বয়স্ক, গর্ভবতী মা ও শিশুদের এই ঝুঁকি অন্যান্যদের চেয়ে অনেক বেশি। তবে যারা নিয়মিত মাস্ক পড়েন তারা একটু কম ঝুঁকিতে থাকবেন’। তিনি বলেন, ‘যারা বাইরে বের হচ্ছে, তাদের শরীরে ক্ষতিকর ধূলিকণা লেগে যায় এতে চুলকানিসহ চর্ম রোগ হতে পারে, যদি কেউ নিয়মিত গোছল না করেন’। বায়ু দূষণের কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে, কয়েকটি প্রধান উপায়ে বায়ু দূষণ হচ্ছে, সেগুলো হলো- ঢাকা শহরে চলমান পুরনো গাড়ি। সমন্বয়হীন রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও উন্নয়ন কাজ। শহরের আশেপাশে ইটভাটা ও শিল্প-কলকারখানার দূষণ। শহরের ভেতরে জমা ময়লা-আবর্জনা পোড়ানোর ধোঁয়া। ঢাকার বায়ু দূষণের বিষয়ে পরিবেশ অধিদফতরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান বলেন, ভয়াবহ! ভয়াবহ! এই দূষণ মানুষকে তাৎক্ষণিক মেরে ফেলে না, ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। আবদুস সোবহান বলেন, মেগা প্রকল্পগুলো চলছে প্রায় পুরো শহর নিয়ে। তাদের কাজ হচ্ছে প্রতিদিন সেখানে পানি দেয়া। কিন্তু কিছুই দিচ্ছে না। যারা দেখভাল করার দায়িত্বে তারা নিষ্ক্রিয়। বেশ কয়েক দিন ধরেই বায়ুর মান মারাত্মক অবনতি হলেও এখন পর্যন্ত পরিবেশ অধিদফতর এ সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা জারি করেনি। তাদের ওয়েবসাইটে গিয়েও এ সংক্রান্ত কোনো সাম্প্রতিক নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে পরিবেশ অধিদফতরের সদর দফতরের উপ-পরিচালক (বায়ুমান ব্যবস্থাপনা) বেগম শাহানাজ রহমানকে ফোন করা হলে তিনি জানান, তার কথা বলার এখতিয়ার নাই। এছাড়া পরিবেশ অধিদফতরের বায়ুমান শনাক্তের প্রক্রিয়া এনালগ। ফলে তারা রিয়েল টাইম বা তাৎক্ষণিক বায়ুর মান প্রকাশ করতে পারে না। তারা ২৪ ঘণ্টা পরপর বায়ুর মান প্রকাশ করে থাকে। ২০ মার্চের বায়ুর মান আজ ২১ মার্চ প্রকাশ করেছে পরিবেশ অধিদফতর। এতে দেশজুড়ে বায়ু দূষণের চিত্র উঠে এসেছে। তাদের তথ্যানুযায়ী, শনিবার বায়ু দূষণ সবচেয়ে বেশি ছিল ময়মনসিংহে ৪৪৮ পিএম২.৫। এছাড়া ঢাকায় বায়ু দূষণের পরিমাণ ছিল ৪০৩, গাজীপুরে ৩৫৪, নারায়ণগঞ্জে ৪০২, চট্টগ্রামে ২১৫, সিলেটে ২৩৫, খুলনায় ২৫৬, রাজশাহীতে ৩২১, বরিশালে ২২০, রংপুরে ৪২৭ ও নরসিংদীতে ৩১১ পিএম২.৫।
১২:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম :
ভয়াবহ রূপে ঢাকার বায়ু
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - প্রকাশিত : ১২:০১:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ মার্চ ২০২১
- 52
ট্যাগ :
জনপ্রিয়





















