১০:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

আঞ্চলিক যোগাযোগ কেন্দ্র হচ্ছে বাংলাদেশ

সংযুক্ত আরব আমিরাত যেমন মধ্যপ্রাচ্যের যোগাযোগ কেন্দ্র, তেমনি দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের যোগাযোগ কেন্দ্র হয়ে উঠতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এই অঞ্চলের রেল, নৌ ও বিমান যোগাযোগের কেন্দ্র হয়ে উঠবে বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে ভারতের ওপর দিয়ে সরাসরি রেলপথ নির্মাণ করবে বাংলাদেশ। ফরিদপুরে আঞ্চলিক বিমানবন্দর গড়ে তোলা হবে। সৈয়দপুরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি পায়রা, মংলা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে সংযুক্ত করে নৌসংযোগ গড়ে তুলবে বাংলাদেশ। এই আঞ্চলিক সংযোগের বিষয়ে ঢাকা সফরকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একমত হয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, এখানকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের কূটনৈতিক দক্ষতার কারণে আগামি কয়েক বছরের মধ্যেই আঞ্চলিক যোগাযোগের কেন্দ্র বা ‘রিজিওনাল কানেকটিভিটি হাব’ হয়ে উঠতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ঢাকা সফরকালে নেপাল ও ভুটানের রাষ্ট্র এবং সরকারপ্রধানগণ বাংলাদেশ কেন্দ্রীক যোগাযোগ গড়ে তুলতে বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছেন। তারা ঢাকার সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগের ওপর জোর দিয়েছেন। ঢাকা ছাড়াও সৈয়দপুর, চট্টগ্রাম, সিলেটের সঙ্গে সরাসরি বিমান চলাচলের ওপর জোর দিয়েছেন তারা। পাশাপাশি, তারা ঢাকার সঙ্গে চালু থাকা ফ্লাইটের সংখ্যা আরও বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি স্থলবেষ্টিত দেশ দুটি বাংলাদেশের সঙ্গে নৌপথে যোগাযোগ সহজ ও সম্ভবপর করারও আহ্বান জানিয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশকেন্দ্রীক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দক্ষিণ এশিয়ার প্রভাবশালী দেশ ভারতকে রাজি করানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দায়িত্ব দিয়েছেন নেপাল ও ভুটানের রাষ্ট্র এবং সরকারপ্রধান। কারণ তারা মনে করেন, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় দেশ ভারত না চাইলে এই অঞ্চলের সার্বিক যোগাযোগ ও উন্নয়ন সফল করা সম্ভব নয়। দেশ দুটির অনুরোধ রক্ষা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে নেপাল ও ভুটানের বাংলাদেশ কেন্দ্রীক সংযোগের বিষয়টি তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে আঞ্চলিক সংযোগে সম্মতি জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সমতাভিত্তিক উন্নয়নে একমত হয়েছে ভারত ও বাংলাদেশ। এ জন্য তারা একসঙ্গে কাজ করবে এবং কাউকে বাদ রেখে এককভাবে উন্নতি করা যাবে না মর্মেও ঐকমত্য হয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, “আমরা নেপাল ও ভুটানে সরাসরি রেল নিয়ে যেতে চাই। এটা কেবল মালবাহী রেলই নয়, যাত্রীবাহী রেলের বিষয়েও দেশ দুইটির সঙ্গে একমত হয়েছি। এখন আপনাদের ভূমি ও অবকাঠামো ব্যবহারের বিষয়ে কেবল দ্বিপাক্ষিক নয়, বহুপাক্ষিক চুক্তি করতে চাই। একই ধরনের চুক্তি করতে চাই বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও।” নরেন্দ্র মোদি এতেও সম্মত হয়েছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, “আমরা রিজিওনাল কানেকটিভিটি হাব হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলছি। আমাদের মাতারবাড়ি, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে উঠছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের উন্নয়নের কাজ চলছে। আমরা ফরিদপুরে একটি আন্তর্জাতিক মানের এয়ার হাব তৈরি করব।” পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলে সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে রিজিওনাল এয়ারপোর্ট হিসেবে গড়ে তুলছি যা ভারত, নেপাল, ভুটান ব্যবহার করে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ ও সহনীয় করতে পারে। ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলো সহজেই সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারে। নেপাল ও ভুটান সৈয়দপুর বিমানবন্দর নিয়ে বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে।’ পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেছেন, হাসিনা-মোদির ঢাকা বৈঠকে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আঞ্চলিক কানেকটিভিটির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে মাল্টিমোডাল কানেকটিভিটির মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী উদ্যোগসমূহের প্রশংসা করেছেন মোদি। ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড ত্রিপক্ষীয় প্রকল্পে যুক্ত হতে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা ভারতকে জানানো হয়েছে। বিবিআইএন মোটর ভেহিকেল এগ্রিমেন্ট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের মধ্যে ‘ত্রিদেশীয় এনাব্লিং এমওইউ’ দ্রুত সইয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর দুই নেতা বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানে আরও বৃহত্তর পরিসরে প্রবেশের লক্ষ্যে নতুন কিছু রুট অনুমোদনের জন্য ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ থেকে নেপালে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে দূরত্ব, সময় ও ব্যয় অনেকাংশে কমে যাবে এবং বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বেড়ে যাবে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি উদ্বোধন হয়েছে ‘চিলাহাটি-হলদিবাড়ী রেল রুট’। এটি ব্যবহার করে ভুটানের সঙ্গে রেল সংযোগ স্থাপন করতে চায় বাংলাদেশ। ফেনী নদীর ওপর সম্প্রতি উদ্বোধন হয়েছে মৈত্রী সেতু। এতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে পরিবহন সংযোগ স্থাপন হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় কেবল ভারত, নেপাল ও ভুটানই নয়, বাংলাদেশের কানেকটিভিটি লিংকে যুক্ত হতে বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা। দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশ দুটি চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের সঙ্গে কোস্টাল ও পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরুর আগ্রহের কথা জানিয়েছে। এ ছাড়া, ঢাকার সঙ্গে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো ও সহজ করার কথা বলেছে দেশ দুটি। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ বিমান ঢাকা-মালে ফ্লাইট শুরু করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিক পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নিচ্ছে ভারত

আঞ্চলিক যোগাযোগ কেন্দ্র হচ্ছে বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ১২:০১:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ এপ্রিল ২০২১

সংযুক্ত আরব আমিরাত যেমন মধ্যপ্রাচ্যের যোগাযোগ কেন্দ্র, তেমনি দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের যোগাযোগ কেন্দ্র হয়ে উঠতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এই অঞ্চলের রেল, নৌ ও বিমান যোগাযোগের কেন্দ্র হয়ে উঠবে বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে ভারতের ওপর দিয়ে সরাসরি রেলপথ নির্মাণ করবে বাংলাদেশ। ফরিদপুরে আঞ্চলিক বিমানবন্দর গড়ে তোলা হবে। সৈয়দপুরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি পায়রা, মংলা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে সংযুক্ত করে নৌসংযোগ গড়ে তুলবে বাংলাদেশ। এই আঞ্চলিক সংযোগের বিষয়ে ঢাকা সফরকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একমত হয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, এখানকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের কূটনৈতিক দক্ষতার কারণে আগামি কয়েক বছরের মধ্যেই আঞ্চলিক যোগাযোগের কেন্দ্র বা ‘রিজিওনাল কানেকটিভিটি হাব’ হয়ে উঠতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ঢাকা সফরকালে নেপাল ও ভুটানের রাষ্ট্র এবং সরকারপ্রধানগণ বাংলাদেশ কেন্দ্রীক যোগাযোগ গড়ে তুলতে বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছেন। তারা ঢাকার সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগের ওপর জোর দিয়েছেন। ঢাকা ছাড়াও সৈয়দপুর, চট্টগ্রাম, সিলেটের সঙ্গে সরাসরি বিমান চলাচলের ওপর জোর দিয়েছেন তারা। পাশাপাশি, তারা ঢাকার সঙ্গে চালু থাকা ফ্লাইটের সংখ্যা আরও বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি স্থলবেষ্টিত দেশ দুটি বাংলাদেশের সঙ্গে নৌপথে যোগাযোগ সহজ ও সম্ভবপর করারও আহ্বান জানিয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশকেন্দ্রীক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দক্ষিণ এশিয়ার প্রভাবশালী দেশ ভারতকে রাজি করানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দায়িত্ব দিয়েছেন নেপাল ও ভুটানের রাষ্ট্র এবং সরকারপ্রধান। কারণ তারা মনে করেন, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় দেশ ভারত না চাইলে এই অঞ্চলের সার্বিক যোগাযোগ ও উন্নয়ন সফল করা সম্ভব নয়। দেশ দুটির অনুরোধ রক্ষা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে নেপাল ও ভুটানের বাংলাদেশ কেন্দ্রীক সংযোগের বিষয়টি তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে আঞ্চলিক সংযোগে সম্মতি জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সমতাভিত্তিক উন্নয়নে একমত হয়েছে ভারত ও বাংলাদেশ। এ জন্য তারা একসঙ্গে কাজ করবে এবং কাউকে বাদ রেখে এককভাবে উন্নতি করা যাবে না মর্মেও ঐকমত্য হয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, “আমরা নেপাল ও ভুটানে সরাসরি রেল নিয়ে যেতে চাই। এটা কেবল মালবাহী রেলই নয়, যাত্রীবাহী রেলের বিষয়েও দেশ দুইটির সঙ্গে একমত হয়েছি। এখন আপনাদের ভূমি ও অবকাঠামো ব্যবহারের বিষয়ে কেবল দ্বিপাক্ষিক নয়, বহুপাক্ষিক চুক্তি করতে চাই। একই ধরনের চুক্তি করতে চাই বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও।” নরেন্দ্র মোদি এতেও সম্মত হয়েছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, “আমরা রিজিওনাল কানেকটিভিটি হাব হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলছি। আমাদের মাতারবাড়ি, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে উঠছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের উন্নয়নের কাজ চলছে। আমরা ফরিদপুরে একটি আন্তর্জাতিক মানের এয়ার হাব তৈরি করব।” পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলে সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে রিজিওনাল এয়ারপোর্ট হিসেবে গড়ে তুলছি যা ভারত, নেপাল, ভুটান ব্যবহার করে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ ও সহনীয় করতে পারে। ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলো সহজেই সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারে। নেপাল ও ভুটান সৈয়দপুর বিমানবন্দর নিয়ে বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে।’ পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেছেন, হাসিনা-মোদির ঢাকা বৈঠকে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আঞ্চলিক কানেকটিভিটির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে মাল্টিমোডাল কানেকটিভিটির মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী উদ্যোগসমূহের প্রশংসা করেছেন মোদি। ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড ত্রিপক্ষীয় প্রকল্পে যুক্ত হতে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা ভারতকে জানানো হয়েছে। বিবিআইএন মোটর ভেহিকেল এগ্রিমেন্ট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের মধ্যে ‘ত্রিদেশীয় এনাব্লিং এমওইউ’ দ্রুত সইয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর দুই নেতা বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানে আরও বৃহত্তর পরিসরে প্রবেশের লক্ষ্যে নতুন কিছু রুট অনুমোদনের জন্য ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ থেকে নেপালে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে দূরত্ব, সময় ও ব্যয় অনেকাংশে কমে যাবে এবং বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বেড়ে যাবে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি উদ্বোধন হয়েছে ‘চিলাহাটি-হলদিবাড়ী রেল রুট’। এটি ব্যবহার করে ভুটানের সঙ্গে রেল সংযোগ স্থাপন করতে চায় বাংলাদেশ। ফেনী নদীর ওপর সম্প্রতি উদ্বোধন হয়েছে মৈত্রী সেতু। এতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে পরিবহন সংযোগ স্থাপন হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় কেবল ভারত, নেপাল ও ভুটানই নয়, বাংলাদেশের কানেকটিভিটি লিংকে যুক্ত হতে বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা। দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশ দুটি চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের সঙ্গে কোস্টাল ও পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরুর আগ্রহের কথা জানিয়েছে। এ ছাড়া, ঢাকার সঙ্গে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো ও সহজ করার কথা বলেছে দেশ দুটি। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ বিমান ঢাকা-মালে ফ্লাইট শুরু করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।