০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

বড়পুকুরিয়া নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনা

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ইউনিট প্রায় সব সময়ই বন্ধ থাকে। অপর ইউনিটটি আংশিকভবে চালানো হয়। পিডিবি বলছে, কয়লা সংকটের কারণে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালানো সম্ভব হয় না। এদিকে আগামী চার বছরের মধ্যে কয়লাখনির প্রথম পর্যায়ের কয়লা শেষ হয়ে যাবে। এরপর কেন্দ্রটির জ্বালানির সংস্থান হবে কোত্থেকে, তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। ফলে কেন্দ্রটি চালাতে হলে নতুন করে খনির সম্প্রসারণ করতে হবে। এ অবস্থায় বড়পুকুরিয়া নিয়ে নতুন পরিকল্পনার কথা ভাবছে সরকার। এ বিষয়ে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, ‘আমরা বড়পুকুরিয়া নিয়ে পরিকল্পনা করছি।’ বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কর্তৃপক্ষের সূত্র বলছে, এখন খনির যে চুক্তির মেয়াদ রয়েছে, তা শেষ হবে আগামী ১০ আগস্ট। এরপর খনির কয়লা উত্তোলন অব্যাহত রাখতে নতুন চুক্তি করা হবে। সেই উদ্যোগও এরইমধ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে মূল সংকট শুরু হবে চার বছর পর। তখন নতুন চুক্তিতে খনির যে স্তর থেকে কয়লা তোলা হচ্ছে, সেই স্তরের কয়লা শেষ হয়ে যাবে। সম্প্রতি এক বৈঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেছে, বড়পুকুরিয়া খনি যখন সম্প্রসারণের প্রয়োজন পড়বে, তখন নতুন এলাকা থেকে কয়লা তুলতে হবে। তবে নতুন করে খনি খনন করা সময় সাপেক্ষ বিষয়। গ্রাউন্ড ওয়াটার মডেলিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, বড়পুকুরিয়ার বর্তমান কয়লাখনির উত্তর দিকে স্বল্প গভীরতায় কয়লা রয়েছে। সেখানে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা যেতে পারে। এরই মধ্যে ওই এলাকায় আইডব্লিউএম ওয়াটার মডেলিংয়ের কাজ শেষ করেছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখানে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব। ওই এলাকায় উন্মুক্ত খনি পদ্ধতিতে প্রায় ১০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লা উৎপাদন হতে পারে। বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা উত্তোলন নিয়ে জ্বালানি বিভাগ এর আগে জানিয়েছিল, এখন খনির তৃতীয় স্তর থেকে কয়লা আহরণের কাজ চলছে। কিন্তু ভূতাত্ত্বিক জটিলতা এবং কারিগরি সীমাবদ্ধতায় খনির চতুর্থ স্তর থেকে কয়লা তোলা দুরূহ হবে। এজন্য খনির উত্তর এবং দক্ষিণাংশ থেকে কয়লা তোলা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। পিডিবি বলছে, তারা কয়লার সরবরাহ না পাওয়ার কারণে বড়পুকুরিয়ায় ১২৫ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট প্রায় সারা বছরই বন্ধ রাখছে। কয়লাখনির পাশেই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির তৃতীয় ইউনিটি থেকে এখন ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। তাও বছরের সব সময় সমানহারে উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। খনি থেকে তুলে রাখা কয়লা মজুত রেখে গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় কেন্দ্রটি থেকে কিছুটা বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। অন্য সময়ে গড়ে ১০০ মেগাওয়াট লোডে চলে এই ইউনিটটি। এ বিষয়ে জানতে বড়পুকুরিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, ‘আমরা বড়পুকুরিয়া নিয়ে পরিকল্পনা করছি। এভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়ে রাখতে আমরাও চাই না। তাই নতুন করে খননের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে সেখানে কয়লা তোলার কোনও চিন্তা আমাদের নেই।’ যেহেতু আগেই ভুগর্ভস্থ পদ্ধতিতে কয়লা তোলা হচ্ছে, তাই নতুন এলাকায় কয়লা তোলা হলে, সেখানেও ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতেই যাবার সম্ভাবনা বেশি বলে তিনি জানান।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বগুড়ায় নির্বাচন পর্যবেক্ষন করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধি দল

বড়পুকুরিয়া নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনা

প্রকাশিত : ১২:০১:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ এপ্রিল ২০২১

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ইউনিট প্রায় সব সময়ই বন্ধ থাকে। অপর ইউনিটটি আংশিকভবে চালানো হয়। পিডিবি বলছে, কয়লা সংকটের কারণে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালানো সম্ভব হয় না। এদিকে আগামী চার বছরের মধ্যে কয়লাখনির প্রথম পর্যায়ের কয়লা শেষ হয়ে যাবে। এরপর কেন্দ্রটির জ্বালানির সংস্থান হবে কোত্থেকে, তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। ফলে কেন্দ্রটি চালাতে হলে নতুন করে খনির সম্প্রসারণ করতে হবে। এ অবস্থায় বড়পুকুরিয়া নিয়ে নতুন পরিকল্পনার কথা ভাবছে সরকার। এ বিষয়ে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, ‘আমরা বড়পুকুরিয়া নিয়ে পরিকল্পনা করছি।’ বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কর্তৃপক্ষের সূত্র বলছে, এখন খনির যে চুক্তির মেয়াদ রয়েছে, তা শেষ হবে আগামী ১০ আগস্ট। এরপর খনির কয়লা উত্তোলন অব্যাহত রাখতে নতুন চুক্তি করা হবে। সেই উদ্যোগও এরইমধ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে মূল সংকট শুরু হবে চার বছর পর। তখন নতুন চুক্তিতে খনির যে স্তর থেকে কয়লা তোলা হচ্ছে, সেই স্তরের কয়লা শেষ হয়ে যাবে। সম্প্রতি এক বৈঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেছে, বড়পুকুরিয়া খনি যখন সম্প্রসারণের প্রয়োজন পড়বে, তখন নতুন এলাকা থেকে কয়লা তুলতে হবে। তবে নতুন করে খনি খনন করা সময় সাপেক্ষ বিষয়। গ্রাউন্ড ওয়াটার মডেলিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, বড়পুকুরিয়ার বর্তমান কয়লাখনির উত্তর দিকে স্বল্প গভীরতায় কয়লা রয়েছে। সেখানে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা যেতে পারে। এরই মধ্যে ওই এলাকায় আইডব্লিউএম ওয়াটার মডেলিংয়ের কাজ শেষ করেছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখানে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব। ওই এলাকায় উন্মুক্ত খনি পদ্ধতিতে প্রায় ১০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লা উৎপাদন হতে পারে। বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা উত্তোলন নিয়ে জ্বালানি বিভাগ এর আগে জানিয়েছিল, এখন খনির তৃতীয় স্তর থেকে কয়লা আহরণের কাজ চলছে। কিন্তু ভূতাত্ত্বিক জটিলতা এবং কারিগরি সীমাবদ্ধতায় খনির চতুর্থ স্তর থেকে কয়লা তোলা দুরূহ হবে। এজন্য খনির উত্তর এবং দক্ষিণাংশ থেকে কয়লা তোলা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। পিডিবি বলছে, তারা কয়লার সরবরাহ না পাওয়ার কারণে বড়পুকুরিয়ায় ১২৫ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট প্রায় সারা বছরই বন্ধ রাখছে। কয়লাখনির পাশেই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির তৃতীয় ইউনিটি থেকে এখন ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। তাও বছরের সব সময় সমানহারে উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। খনি থেকে তুলে রাখা কয়লা মজুত রেখে গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় কেন্দ্রটি থেকে কিছুটা বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। অন্য সময়ে গড়ে ১০০ মেগাওয়াট লোডে চলে এই ইউনিটটি। এ বিষয়ে জানতে বড়পুকুরিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, ‘আমরা বড়পুকুরিয়া নিয়ে পরিকল্পনা করছি। এভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়ে রাখতে আমরাও চাই না। তাই নতুন করে খননের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে সেখানে কয়লা তোলার কোনও চিন্তা আমাদের নেই।’ যেহেতু আগেই ভুগর্ভস্থ পদ্ধতিতে কয়লা তোলা হচ্ছে, তাই নতুন এলাকায় কয়লা তোলা হলে, সেখানেও ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতেই যাবার সম্ভাবনা বেশি বলে তিনি জানান।