০২:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

বার্থিং জটিলতায় দাম বাড়ছে রডের

বার্থিং জটিলতায় চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙ্গরে দীর্ঘ সময় স্ক্র্যাপবাহী জাহাজগুলো আটকে থাকার কারণে ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে আমদানিকারকদের। এ কারণে বেড়ে যাচ্ছে রডের দাম; বেড়ে যাচ্ছে দেশের মেগাপ্রকল্পগুলো সহ উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয়। কারণ, স্ক্র্যাপ থেকেই রড উৎপাদন করে দেশের কারখানাগুলো। জটিলতা নিরসনে দুটি বার্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন আমদানিকারকরা।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি হওয়া স্ক্যাপবাহী জাহাজগুলো বার্থিং পেতে ২৬ দিন পর্যন্ত অপে¶া করতে হচ্ছে। ফলে একটি জাহাজের আকার ভেদে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে আমদানিকারকদের। ২৬ দিন অপে¶ার জন্য একটি জাহাজকে ৩ লাখ ৯০ হাজার ইউএস ডলার জরিমানা গুনতে হয়েছে। এই জরিমানার কারণে বাজারে রডের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ৬ মাসে স্থানীয় বাজারে গ্রেড ভেদে টন প্রতি রডের দাম বেড়েছে ১১ হাজার ৫ শ টাকা। গত বছরের সেপ্টেম্বরে গ্রেড ভেদে রড ৪৮ হাজার থেকে ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬৯৫০০ টাকায়।
বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) তথ্য মতে, ২০২০ সাল্রে সেপ্টেম্বরে বর্হিনোঙ্গরে আসার পর একটি স্ক্র্যাপবাহী জাহাজকে বার্থিং পেতে সময় লাগত ২ থেকে ৯ দিন। এরপর থেকে প্রতি মাসেই নোঙ্গরজনিত বিলম্ব বাড়তে থাকে। গত বছরের অক্টোবরে ৩ থেকে ১৫ দিন, নভেম্বরে ১১ থেকে ২১ দিন, ডিসেম্বরে ৭ থেকে ১৮ দিন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ২১ থেকে ২৩ দিন এবং ফেব্রুয়ারিতে ১৩ থেকে ২৬ দিন পর্যন্ত অপে¶া করতে হয়েছে।
এই সংকট নিরসনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপ¶ের চেয়ারম্যানের কাছে স্ক্র্যাপ পরিবহনকারী জাহাজের জন্য ২টি বার্থ বরাদ্দ চেয়েছেনে বিএসএমএ নেতৃবৃন্দ। বিএসএমএ’র চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন স্বা¶রিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরে স্টিল স্ক্র্যাপের জন্য সুনির্দিষ্ট কোন বার্থ (নোঙ্গর) স্থান এর ব্যবস্থা না থাকার কারণে জাহাজবাহিত বিপুল পরিমাণ স্টিল স্ক্র্যাপ খালাসে মাত্রাতিরিক্ত বিলম্ব হচ্ছে । ফলে স্টিল পণ্য উৎপাদনের জন্য দেশের স্টিল মিলগুলিকে সময়মতো স্টিল কাঁচামাল স্ক্র্যাপ প্রদানে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে নোঙ্গরজনিত বিলম্বের কারণে বার্থিং ডিলে জাহাজগুলিকে বিরাট অংকের বিলম্ব মাশুল (ডেমারেজ) পরিশোধ করার ফলে স্টিলের কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয় বাংলাদেশের স্টিল উৎপাদনকারী মিলগুলো বর্তমানে পদ্মা ব্রিজ, মেট্রো রেল, কর্ণফুলী টানেল, রূপপুর পারমানবিক প্রকল্পের ন্যায় বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প সমূহের স্টিল পণ্যের চাহিদা পূরণ করছে। ভবিষ্যতে দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন আরো বৃদ্ধি পাবে, সেই সঙ্গে স্টিলের ব্যবহারও বৃদ্ধি পাবে। ডেমারেজ বাবদ বিপুল অর্থ ব্যয় হওয়ার কারণে রডের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে অন্তর্বর্তীকালীন অন্তত ৩ মাসের জন্য ২টি বার্থ সুনির্দিষ্টভাবে বরাদ্দ করার দাবি জানিয়েছে বিএসএমএ। সংকটের স্থায়ী সমাধানের ল¶ে পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে দুটি বার্থ বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানানো হয় ওই চিঠিতে।
এ প্রসেঙ্গ দেশের শীর্ষ রড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিএসআরএমএ’র হেড অব সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট সঞ্জয় কুমার ঘোষ বলেন, বন্দরে জেটি স্বল্পতার কারণে বর্হিনোঙ্গরে জাহাজ পৌছানোর পরও পণ্য খালাস শুরু করতে প্রায় ১ মাস সময় লেগে যাচ্ছে। এতে বিলম্ব মাশুল বাবদ প্রচুর অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এ কারণে রড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে রডের দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে।
এদিকে পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘ দিন আটকে থাকায় জাহাজের মেইন লাইন অপারেটরদের (এমএলও) কাছে জবাবদিহি করতে হচ্ছে। অনেক এমএলও বাংলাদেশে জাহাজ পাঠাতে চায়না বলে জানিয়েছে শিপিং এজেন্ট সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল আলম জুয়েল বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে ১৮ জেটির মধ্যে ১২টিতে কন্টেইনার এবং ৬টি জেনারেল কার্গো খালাস হয়। কার্গো পণ্য আমদানি বেড়ে যাওয়ায় সীমিত সংখ্যক জেটি দিয়ে দ্রুত পণ্য খালাস সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কন্টেইনারবাহী জাহাজের গড় অবস্থান সময় কমে এলেও স্ক্র্যাপ এবং অন্যান্য কার্গোবাহী জাহাজের পণ্য খালাসে অপে¶ার সময় প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বার্থিং জটিলতায় দাম বাড়ছে রডের

প্রকাশিত : ১২:০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ এপ্রিল ২০২১

বার্থিং জটিলতায় চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙ্গরে দীর্ঘ সময় স্ক্র্যাপবাহী জাহাজগুলো আটকে থাকার কারণে ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে আমদানিকারকদের। এ কারণে বেড়ে যাচ্ছে রডের দাম; বেড়ে যাচ্ছে দেশের মেগাপ্রকল্পগুলো সহ উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয়। কারণ, স্ক্র্যাপ থেকেই রড উৎপাদন করে দেশের কারখানাগুলো। জটিলতা নিরসনে দুটি বার্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন আমদানিকারকরা।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি হওয়া স্ক্যাপবাহী জাহাজগুলো বার্থিং পেতে ২৬ দিন পর্যন্ত অপে¶া করতে হচ্ছে। ফলে একটি জাহাজের আকার ভেদে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে আমদানিকারকদের। ২৬ দিন অপে¶ার জন্য একটি জাহাজকে ৩ লাখ ৯০ হাজার ইউএস ডলার জরিমানা গুনতে হয়েছে। এই জরিমানার কারণে বাজারে রডের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ৬ মাসে স্থানীয় বাজারে গ্রেড ভেদে টন প্রতি রডের দাম বেড়েছে ১১ হাজার ৫ শ টাকা। গত বছরের সেপ্টেম্বরে গ্রেড ভেদে রড ৪৮ হাজার থেকে ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬৯৫০০ টাকায়।
বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) তথ্য মতে, ২০২০ সাল্রে সেপ্টেম্বরে বর্হিনোঙ্গরে আসার পর একটি স্ক্র্যাপবাহী জাহাজকে বার্থিং পেতে সময় লাগত ২ থেকে ৯ দিন। এরপর থেকে প্রতি মাসেই নোঙ্গরজনিত বিলম্ব বাড়তে থাকে। গত বছরের অক্টোবরে ৩ থেকে ১৫ দিন, নভেম্বরে ১১ থেকে ২১ দিন, ডিসেম্বরে ৭ থেকে ১৮ দিন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ২১ থেকে ২৩ দিন এবং ফেব্রুয়ারিতে ১৩ থেকে ২৬ দিন পর্যন্ত অপে¶া করতে হয়েছে।
এই সংকট নিরসনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপ¶ের চেয়ারম্যানের কাছে স্ক্র্যাপ পরিবহনকারী জাহাজের জন্য ২টি বার্থ বরাদ্দ চেয়েছেনে বিএসএমএ নেতৃবৃন্দ। বিএসএমএ’র চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন স্বা¶রিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরে স্টিল স্ক্র্যাপের জন্য সুনির্দিষ্ট কোন বার্থ (নোঙ্গর) স্থান এর ব্যবস্থা না থাকার কারণে জাহাজবাহিত বিপুল পরিমাণ স্টিল স্ক্র্যাপ খালাসে মাত্রাতিরিক্ত বিলম্ব হচ্ছে । ফলে স্টিল পণ্য উৎপাদনের জন্য দেশের স্টিল মিলগুলিকে সময়মতো স্টিল কাঁচামাল স্ক্র্যাপ প্রদানে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে নোঙ্গরজনিত বিলম্বের কারণে বার্থিং ডিলে জাহাজগুলিকে বিরাট অংকের বিলম্ব মাশুল (ডেমারেজ) পরিশোধ করার ফলে স্টিলের কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয় বাংলাদেশের স্টিল উৎপাদনকারী মিলগুলো বর্তমানে পদ্মা ব্রিজ, মেট্রো রেল, কর্ণফুলী টানেল, রূপপুর পারমানবিক প্রকল্পের ন্যায় বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প সমূহের স্টিল পণ্যের চাহিদা পূরণ করছে। ভবিষ্যতে দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন আরো বৃদ্ধি পাবে, সেই সঙ্গে স্টিলের ব্যবহারও বৃদ্ধি পাবে। ডেমারেজ বাবদ বিপুল অর্থ ব্যয় হওয়ার কারণে রডের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে অন্তর্বর্তীকালীন অন্তত ৩ মাসের জন্য ২টি বার্থ সুনির্দিষ্টভাবে বরাদ্দ করার দাবি জানিয়েছে বিএসএমএ। সংকটের স্থায়ী সমাধানের ল¶ে পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে দুটি বার্থ বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানানো হয় ওই চিঠিতে।
এ প্রসেঙ্গ দেশের শীর্ষ রড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিএসআরএমএ’র হেড অব সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট সঞ্জয় কুমার ঘোষ বলেন, বন্দরে জেটি স্বল্পতার কারণে বর্হিনোঙ্গরে জাহাজ পৌছানোর পরও পণ্য খালাস শুরু করতে প্রায় ১ মাস সময় লেগে যাচ্ছে। এতে বিলম্ব মাশুল বাবদ প্রচুর অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এ কারণে রড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে রডের দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে।
এদিকে পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘ দিন আটকে থাকায় জাহাজের মেইন লাইন অপারেটরদের (এমএলও) কাছে জবাবদিহি করতে হচ্ছে। অনেক এমএলও বাংলাদেশে জাহাজ পাঠাতে চায়না বলে জানিয়েছে শিপিং এজেন্ট সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল আলম জুয়েল বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে ১৮ জেটির মধ্যে ১২টিতে কন্টেইনার এবং ৬টি জেনারেল কার্গো খালাস হয়। কার্গো পণ্য আমদানি বেড়ে যাওয়ায় সীমিত সংখ্যক জেটি দিয়ে দ্রুত পণ্য খালাস সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কন্টেইনারবাহী জাহাজের গড় অবস্থান সময় কমে এলেও স্ক্র্যাপ এবং অন্যান্য কার্গোবাহী জাহাজের পণ্য খালাসে অপে¶ার সময় প্রতিনিয়ত বাড়ছে।