ইচ্ছা, আন্তরিকতা, দেশপ্রেম ও দেশের প্রতি দায়িত্ব বোধ নিয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে সঠিক কাজটি করলেই সব সমালোচনা ও দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব বলে মনে করেন কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) পরিচালক আবু হেনা মোর্শেদ জামান। সম্প্রতি একান্ত আলাপকালে এক সময়ের নানা বিতর্কে আলোচিত প্রতিষ্ঠান সিএমএসডি’র পরিবর্তনের রূপকার আবু হেনা মোর্শেদ জামান আজকের বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, একজন পরিচালকের ল¶্য থাকতে হবে। তাকে প্রকিউরমেন্ট প্রসেস ও ম্যানেজমেন্টে দ¶ হতে হবে। সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ গণতান্ত্রিক সরকার সব সময় সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে। আমিও সরকারের একটি অংশ হিসেবে এ ল¶্যটি বাস্তবায়ন করতে চাইছি। সততার সঙ্গে, সবাইকে নিয়ে সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গিকার বাস্তবায়ন করতে হবে।
নানা কারণেই বিভিন্ন সময়ে সিএমএসডি ছিল গণমাধ্যমসহ দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে সমালোচনা ও অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে। এমনই একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে ২০২০ সালের ২ জুন আবু হেনা মোর্শেদ জামানকে সিএমএসডি’র পরিচলক পদের দায়িত্ব দেয় সরকার। তিনি এখানে যোগদান করেই দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলেন। এর অংশ হিসেবে দর্শনার্থীদের জন্য গেটপাশ প্রথা চালু করেন আবু হেনা মোর্শেদ জামান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি শুরুতেই অবাঞ্ছিত টাউট-বাটপার প্রবেশ বন্ধ করে সিণ্ডিকেট ব্যবস্থা ভেঙ্গে দেই। ফলে অযাচিত লোকজনের প্রবেশ বন্ধ হয়ে গেছে সিএমএসডি’তে।’
এরপরই তিনি পদক্ষেপ নেন দুর্নীতি বন্ধের। এ কাজে প্রথমেই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেন। একই সময় দুর্নীতির অভিযোগে ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জশীট দেয় দুদক। এ প্রসঙ্গে আবু হেনা মোর্শেদ জামান বলেন, ‘এই দুর্নীতিবাজদের জঞ্জাল সরিয়ে সিএমএসডির প্রশাসনে বিশুদ্ধ রক্ত সঞ্চালনের উদ্যোগ নেই। এতে কম দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা সতর্ক হয়ে যায়। তাছাড়া পরিচালক পদে স্বাস্থ্য ক্যাডার সার্ভিসের বাইরে আমি প্রথম প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তা হওয়ায় এখানে কর্মরত কর্মকর্তাদের মাঝে সংশয় ছিলো। কিন্তু আমি তদের বোঝাতে পেরেছি, পরিচালক পদটি আসলে একটি ম্যানেজারিয়াল পদ। একজন এফসিপিএস ডাক্তারের যেমন প্রকিউরমেন্ট স্পেশালিস্ট হওয়ার কথা নয়। তেমনই একজন প্রকিউরমেন্ট স্পেশালিস্টের এফসিপিএস বা এমডি ডাক্তার হওয়ার প্রয়োজন নেই।’
বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তে দেখা গেছে, সিএমএসডির গত নয় মাসে বেশ কিছু ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছে। কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুসরণ করে সততা ও স্বচ্ছতার সাথে গুণগত মান নিশ্চিত করে প্রায় ৫শ ৯৮ কোটি টাকার বিভিন্ন স্বাস্থ্য সুর¶া সামগ্রী ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয় করেছে। ২০২০ সালের জুন থেকে এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ এর বিভিন্ন স্বাস্থ্য সুর¶া সামগ্রী ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সাপ্লাই চেইন নিরবচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। এই সময়ে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা বা সরবরাহকৃত পণ্য নিয়ে দেশের কোথাও কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিএমএসডি স্টোরে বর্তমান বিভিন্ন কোভিড-১৯ মালামালের সন্তোষজনক মজুত রয়েছে । ৭ এপ্রিল পর্যন্ত আরটি পিসিআর টেস্ট কিট মজুত ছিল ৩ লাখ ৫১ হাজার ৮৩৮টি যা দিয়ে প্রায় ২০-২৫ দিনের চাহিদা পূরণ সম্ভব। পাশাপাশি আরো ১ লাখ কিট ক্রয় প্রক্রিয়াধীন।
এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন লাইন ডিরেক্টরের আওতায় পূর্বে ক্রয়কৃত দুই-তিন বছরের পুরনো মালামালের তালিকা করে সেগুলো বিতরণ বা বিতরণের জন্য বরাদ্দ তালিকা প্রেরণের জন্য বিভিন্ন সময়ে আনুষ্ঠানিক/অনানুষ্ঠানিক তাগিদ প্রদান করেছে সিএমএসডি। অনেক দিন ধরে পড়ে থাকা ২০০ মোটরসাইকেল, সাধারণ অ্যাম্বুলেন্স, কার্ডিয়াক অ্যাম্বুলেন্স, এক্স-রে মেশিন ইত্যাদি যন্ত্রপাতি বিতরণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
সিএমএসডি ঘুরে দেখা গেছে, এখানে আর আগের বিজনেস সিন্ডিকেটের একচেটিয়া আধিপত্য নেই। জানা গেছে, নতুন পরিচালক হিসেবে আবু হেনা মোর্শেদ জামান আসার পর এই সিন্ডিকেট ভেঙে গেছে। এর মাধ্যমে সিএমএসডি’তে অন্তর্ভূক্তিমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এতে বিভিন্ন পণ্যের মূল্য বহুগুণ হ্রাস পেয়ে বিপুল সরকারি ব্যয় ও অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে।
এছাড়া জনসম্পৃক্ততা এবং সক্রিয় তথ্য উন্মুক্তকরণ ও অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য প্রথমবারের মত সিএমএসডির নিজস্ব ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইট চালু করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টরদের অপারেশনাল প্ল্যানের (ওপি) আওতায় ২০২০-২০২১ অর্থবছরের ক্রয় কার্যক্রম পূর্ণোদ্যমে চলমান রয়েছে। এ বছরের ৬৮০,৪১,৬২,০০০ টাকা প্রাক্কলিত বাজেটের মোট ৯৬ টি প্যাকেজের মধ্যে ৫৬ টি প্যাকেজের দরপত্র বিজ্ঞপ্তি ইতোমধ্যে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে । ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে আরম্ভ হওয়া সিএমএসডির ৫-তলা স্টোর-কাম-অফিস ভবনের দীর্ঘদিনের অসমাপ্ত নির্মাণকাজ নিবিড় তত্ত্বাবধান ও জোর তাগিদ অব্যাহত রেখে সমাপ্ত করা হয়েছে। গত ২১ মার্চ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী উক্ত ভবন উদ্বোধন করেন। সিএমএসডির নতুন ভবনে একটি মনোমুগ্ধকর মুজিব কর্নার স্থাপন করা হয়েছে, যা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী গত একই দিনে উদ্বোধন করেন। জানা গেছে, সিএমএসডির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মদ¶তা বৃদ্ধির ল¶্যে অভ্যন্তরীন প্রশি¶ণ আয়োজন করা হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্নীতিমূলক পরিবেশ এবং শুদ্ধাচার বাস্তবায়নে নিবিড় পর্যবে¶ণাধীনে সকলকে সক্রিয়ভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
০৮:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম :
বদলে গেছে সিএমএসডি
-
মো. ফারুক হোসাইন - প্রকাশিত : ১২:০১:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১
- 52
ট্যাগ :
জনপ্রিয়





















