০১:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

বেড়েছে রাজস্ব আদায়

  • এ. আর আকাশ
  • প্রকাশিত : ১২:০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১
  • 66

স্বাভাবিক সময়ের তুলনায়ও বেশি রাজস্ব আদায় করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। করোনা মহামারির মধ্যেও চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক খাতে এনবিআর আদায় করেছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৮০৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এটা গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ বেশি। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ কোটি ৭ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের তুলনায় এবার রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১০ হাজার ৬৯১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। তবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত দুই লাখ ২৭ হাজার ৭৬৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা রাজস্বের ল¶্যমাত্রা ছিল এনবিআরের সামনে।
করোনা প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট প্রতিকূল পরিবেশে রাজস্ব আহরণে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। না হলে লক্ষ্যমাত্রার আরও কাছে যেতে পারতো প্রতিষ্ঠানটি, এমনটিই দাবি করেছেন এনবিআর কর্মকর্তারা। চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বাকি তিন মাসে (এপ্রিল-জুন) আরও ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৯১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা আদায় করতে হবে এনবিআরকে। তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে চলা লকডাউনের কারণে এই লক্ষ্য আদায় সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ পর্যন্ত মোট এক লাখ ৭৬ হাজার ৮০৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির তিন বিভাগে। এর মধ্যে মার্চ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আদায় হয়েছে ভ্যাট খাত থেকে। এ খাতে আদায় হয়েছে ৬৭ হাজার চার কোটি ৭৪ লাখ টাকা। প্রবৃদ্ধি ২.৮৮ শতাংশ। শতাংশ হিসাবে সাফল্য দেখিয়েছে আমদানি ও রফতানি শুল্ক খাত। এ খাতে ল¶্যমাত্রার বিপরীতে ১২.১৭ শতাংশের বেশি রাজস্ব আদায় করতে স¶ম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আদায় হয়েছে ৫৩ হাজার ৯৯৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। অন্যদিকে, মার্চ পর্যন্ত আয়কর খাতে ৫৫ হাজার ৮০৩ কোটি ৯০ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে আদায় হয় ৫২ হাজার ৮৪৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫.৫৯ শতাংশ। যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্কে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল যথাক্রমে ১২.৫৯, ৮.৯৬ ও ২.৫৭ শতাংশ।
এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম করোনাকালীন আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের প্রবৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক বলে প্রাক-বাজেট উপল¶ে বিভিন্ন আলোচনায় দাবি করে এসেছেন। এ বিষয়ে এনবিআরের তিন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, মার্চ মাসে যতটুকু আদায় হয়েছে, সামনে রাজস্বের প্রবৃদ্ধি আরও কমে যাবে। রোজার ঈদ উপল¶ে অর্থনীতিতে বড় ধরনের গতি আসে। রাজস্ব আদায়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। লকডাউনে সবকিছু আরও পিছিয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এ মুহূর্তে এনবিআরের বাড়তি কোনো উদ্যোগ নেওয়ারও সুযোগ নেই।
এদিকে, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ২৯ হাজার কোটি টাকা কমানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করেছে এনবিআর। যা চূড়ান্ত অনুমোদনের অপে¶ায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে আদায়ের ল¶্য ধরা হয়েছে তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ল¶্যমাত্রা ধরা হয়েছে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট থেকে এক লাখ ২৮ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা। এরপর আয়কর ও ভ্রমণ কর থেকে এক লাখ পাঁচ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা এবং আমদানি শুল্ক থেকে ৯৫ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা আদায়ের ল¶্য ধরা হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

৯০তম জন্মবার্ষিকীতে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে বিএনপির শ্রদ্ধা

বেড়েছে রাজস্ব আদায়

প্রকাশিত : ১২:০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১

স্বাভাবিক সময়ের তুলনায়ও বেশি রাজস্ব আদায় করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। করোনা মহামারির মধ্যেও চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক খাতে এনবিআর আদায় করেছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৮০৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এটা গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ বেশি। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ কোটি ৭ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের তুলনায় এবার রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১০ হাজার ৬৯১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। তবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত দুই লাখ ২৭ হাজার ৭৬৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা রাজস্বের ল¶্যমাত্রা ছিল এনবিআরের সামনে।
করোনা প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট প্রতিকূল পরিবেশে রাজস্ব আহরণে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। না হলে লক্ষ্যমাত্রার আরও কাছে যেতে পারতো প্রতিষ্ঠানটি, এমনটিই দাবি করেছেন এনবিআর কর্মকর্তারা। চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বাকি তিন মাসে (এপ্রিল-জুন) আরও ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৯১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা আদায় করতে হবে এনবিআরকে। তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে চলা লকডাউনের কারণে এই লক্ষ্য আদায় সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ পর্যন্ত মোট এক লাখ ৭৬ হাজার ৮০৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির তিন বিভাগে। এর মধ্যে মার্চ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আদায় হয়েছে ভ্যাট খাত থেকে। এ খাতে আদায় হয়েছে ৬৭ হাজার চার কোটি ৭৪ লাখ টাকা। প্রবৃদ্ধি ২.৮৮ শতাংশ। শতাংশ হিসাবে সাফল্য দেখিয়েছে আমদানি ও রফতানি শুল্ক খাত। এ খাতে ল¶্যমাত্রার বিপরীতে ১২.১৭ শতাংশের বেশি রাজস্ব আদায় করতে স¶ম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আদায় হয়েছে ৫৩ হাজার ৯৯৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। অন্যদিকে, মার্চ পর্যন্ত আয়কর খাতে ৫৫ হাজার ৮০৩ কোটি ৯০ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে আদায় হয় ৫২ হাজার ৮৪৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫.৫৯ শতাংশ। যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্কে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল যথাক্রমে ১২.৫৯, ৮.৯৬ ও ২.৫৭ শতাংশ।
এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম করোনাকালীন আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের প্রবৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক বলে প্রাক-বাজেট উপল¶ে বিভিন্ন আলোচনায় দাবি করে এসেছেন। এ বিষয়ে এনবিআরের তিন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, মার্চ মাসে যতটুকু আদায় হয়েছে, সামনে রাজস্বের প্রবৃদ্ধি আরও কমে যাবে। রোজার ঈদ উপল¶ে অর্থনীতিতে বড় ধরনের গতি আসে। রাজস্ব আদায়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। লকডাউনে সবকিছু আরও পিছিয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এ মুহূর্তে এনবিআরের বাড়তি কোনো উদ্যোগ নেওয়ারও সুযোগ নেই।
এদিকে, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ২৯ হাজার কোটি টাকা কমানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করেছে এনবিআর। যা চূড়ান্ত অনুমোদনের অপে¶ায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে আদায়ের ল¶্য ধরা হয়েছে তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ল¶্যমাত্রা ধরা হয়েছে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট থেকে এক লাখ ২৮ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা। এরপর আয়কর ও ভ্রমণ কর থেকে এক লাখ পাঁচ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা এবং আমদানি শুল্ক থেকে ৯৫ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা আদায়ের ল¶্য ধরা হয়।