১১:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

কারাগারে করোনা সংক্রমণ, নড়েচড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ

দেশে চলছে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ। গত কয়েকদিন ধরে যেমন হাজারো মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন, তেমনি ৯০ এর বেশি মারাও যাচ্ছেন। করোনা আতঙ্ক এখন কারাগারেও পৌঁছেছে। দিন দিন দেশের কারাগারগুলোতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত চলতি বছরে কারাগারে সাত জন বন্দি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই জন ঢাকায় এবং বাকিরা ঢাকার বাইরে। তাছাড়া ২২ জন কারা স্টাফ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। চলতি বছর কারাগারে করোনা আক্রান্ত বন্দির সংখ্যাটি অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মো. আবরার হোসেন নিশ্চিত করেছেন। ইতোমধ্যে দেশের সব কারাগারে থাকা ৮৩ হাজার ৫০৪ জন বন্দিকে করোনা থেকে নিরাপদে রাখার জন্য নড়েচড়ে বসেছে কারা কর্তৃপক্ষ। কারাগারকে করোনামুক্ত রাখার জন্য একটি স্থায়ী নির্দেশিকা তৈরি করেছে অধিদফতর। সেই নির্দেশিকা ইতোমধ্যে দেশের ৬৮টি কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রতিটি কারাগারে করোনা প্রতিরোধের কার্যক্রম চলছে। কারাবন্দি বা কারাস্টাফদের করোনামুক্ত রাখতে কী কী করতে হবে, তা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে। এছাড়া কারও মধ্যে করোনা উপসর্গ দেখা দিলে বা করোনায় আক্রান্ত হলে কীভাবে-কোথায় নিয়ে চিকিৎসা দিতে হবে, সেটিও বলা আছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহাবুব আলম বলেন, কারা অধিদফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী করোনা প্রতিরোধের কার্যক্রম চলছে। নির্দেশনা অনুযায়ী বাইরে থেকে কেউই পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কারাগারে প্রবেশ করতে পারছেন না। তেমনি কারাগার থেকেও কেউ বাইরে যেতে পারছেন না। তিনি বলেন, করোনার সময় যারা নতুন বন্দি আসছেন তাদের ১৪ দিন করে সেলে সঙ্গনিরোধে (কোয়ারেন্টাইন) থাকতে হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি বিল্ডিংয়ের নিচে হাত ধোয়ার সাবান, পানি ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা হয়েছে। ওয়ার্ডের বাইরে গেলে এসব ব্যবহার করে নিজেকে জীবাণুমুক্ত করে আবার ওয়ার্ডের ভিতরে প্রবেশ করতে হয়। এছাড়া কারাগারের নারী ওয়ার্ডের বিল্ডিংটি এখনো চালু হয়নি। এটিকে করোনার আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করছি। কারাবন্দি বা কারাস্টাফের মধ্যে করোনা উপসর্গ দেখা দিলে সেখানে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান এ কারা কর্মকর্তা। কারা অধিদফতর সূত্রে আরও জানা যায়, দেশের প্রতিটি কারাগারে একটি করে করোনা চিকিৎসার জন্য আইসোলেশন সেন্টার তৈরি করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত কাজ এগিয়ে চলছে। এছাড়া দেশের ৬৮টি কারাগারের করোনা প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি স্থায়ী নির্দেশিকা অনুযায়ী কারাগারগুলোতে করোনা প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি কমিটিতে সংশ্লিষ্ট কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার, জেল সুপার, জেলার, সহকারী সার্জেন্টসহ অনেক সদস্য রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগের ডিআইজি কমিটির তদারকি করবেন। টেকনিক্যাল পরামর্শের জন্য একজন করে সিভিল সার্জেন্টকেও কমিটিতে রাখা হয়েছে। এদিকে সম্প্রতি এক নির্দেশনায় করোনা পরিস্থিতির ব্যাপকতার কারণে কারাবন্দিদের সঙ্গে তাদের পরিবারের স্বজনদের সাক্ষাৎ সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। তবে তারা পরিবারের সঙ্গে সপ্তাহে একবার ফোনে কথা বলতে পারছেন। গত ৩ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে বলা হয়, করোনার প্রাদুর্ভাব এড়াতে আজ থেকে কারাগারে পরিবারের সাক্ষাৎ বন্ধ করা হলো। তবে কারাবন্দিরা তাদের পরিবারের সঙ্গে সপ্তাহে একদিন কথা বলার সুযোগ পাবেন। আগে তারা সপ্তাহে আট মিনিট পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পারতেন। এবার তাদের সময়সীমা দুই মিনিট বাড়িয়ে ১০ মিনিট করা হয়েছে। এছাড়া কারাগারে বন্দি ও কর্মকর্তাদের মাস্ক, হাত ধোয়াসহ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। কারাগারে করোনার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান মামুন বলেন, করোনা মোকাবিলায় আমরা ইতোমধ্যে অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছি। একটি স্থায়ী নির্দেশিকার মাধ্যমে দেশের সব কারাগারে করোনা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি কারাগারে একটি করে কমিটি করা হয়েছে। সেই কমিটি নির্দেশিকা অনুযায়ী করোনা প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

পেট্রোবাংলার গ্যাস বিল পরিশোধে শীর্ষে তিতাস গ্যাস

কারাগারে করোনা সংক্রমণ, নড়েচড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ

প্রকাশিত : ১২:০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১

দেশে চলছে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ। গত কয়েকদিন ধরে যেমন হাজারো মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন, তেমনি ৯০ এর বেশি মারাও যাচ্ছেন। করোনা আতঙ্ক এখন কারাগারেও পৌঁছেছে। দিন দিন দেশের কারাগারগুলোতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত চলতি বছরে কারাগারে সাত জন বন্দি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই জন ঢাকায় এবং বাকিরা ঢাকার বাইরে। তাছাড়া ২২ জন কারা স্টাফ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। চলতি বছর কারাগারে করোনা আক্রান্ত বন্দির সংখ্যাটি অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মো. আবরার হোসেন নিশ্চিত করেছেন। ইতোমধ্যে দেশের সব কারাগারে থাকা ৮৩ হাজার ৫০৪ জন বন্দিকে করোনা থেকে নিরাপদে রাখার জন্য নড়েচড়ে বসেছে কারা কর্তৃপক্ষ। কারাগারকে করোনামুক্ত রাখার জন্য একটি স্থায়ী নির্দেশিকা তৈরি করেছে অধিদফতর। সেই নির্দেশিকা ইতোমধ্যে দেশের ৬৮টি কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রতিটি কারাগারে করোনা প্রতিরোধের কার্যক্রম চলছে। কারাবন্দি বা কারাস্টাফদের করোনামুক্ত রাখতে কী কী করতে হবে, তা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে। এছাড়া কারও মধ্যে করোনা উপসর্গ দেখা দিলে বা করোনায় আক্রান্ত হলে কীভাবে-কোথায় নিয়ে চিকিৎসা দিতে হবে, সেটিও বলা আছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহাবুব আলম বলেন, কারা অধিদফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী করোনা প্রতিরোধের কার্যক্রম চলছে। নির্দেশনা অনুযায়ী বাইরে থেকে কেউই পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কারাগারে প্রবেশ করতে পারছেন না। তেমনি কারাগার থেকেও কেউ বাইরে যেতে পারছেন না। তিনি বলেন, করোনার সময় যারা নতুন বন্দি আসছেন তাদের ১৪ দিন করে সেলে সঙ্গনিরোধে (কোয়ারেন্টাইন) থাকতে হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি বিল্ডিংয়ের নিচে হাত ধোয়ার সাবান, পানি ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা হয়েছে। ওয়ার্ডের বাইরে গেলে এসব ব্যবহার করে নিজেকে জীবাণুমুক্ত করে আবার ওয়ার্ডের ভিতরে প্রবেশ করতে হয়। এছাড়া কারাগারের নারী ওয়ার্ডের বিল্ডিংটি এখনো চালু হয়নি। এটিকে করোনার আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করছি। কারাবন্দি বা কারাস্টাফের মধ্যে করোনা উপসর্গ দেখা দিলে সেখানে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান এ কারা কর্মকর্তা। কারা অধিদফতর সূত্রে আরও জানা যায়, দেশের প্রতিটি কারাগারে একটি করে করোনা চিকিৎসার জন্য আইসোলেশন সেন্টার তৈরি করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত কাজ এগিয়ে চলছে। এছাড়া দেশের ৬৮টি কারাগারের করোনা প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি স্থায়ী নির্দেশিকা অনুযায়ী কারাগারগুলোতে করোনা প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি কমিটিতে সংশ্লিষ্ট কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার, জেল সুপার, জেলার, সহকারী সার্জেন্টসহ অনেক সদস্য রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগের ডিআইজি কমিটির তদারকি করবেন। টেকনিক্যাল পরামর্শের জন্য একজন করে সিভিল সার্জেন্টকেও কমিটিতে রাখা হয়েছে। এদিকে সম্প্রতি এক নির্দেশনায় করোনা পরিস্থিতির ব্যাপকতার কারণে কারাবন্দিদের সঙ্গে তাদের পরিবারের স্বজনদের সাক্ষাৎ সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। তবে তারা পরিবারের সঙ্গে সপ্তাহে একবার ফোনে কথা বলতে পারছেন। গত ৩ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে বলা হয়, করোনার প্রাদুর্ভাব এড়াতে আজ থেকে কারাগারে পরিবারের সাক্ষাৎ বন্ধ করা হলো। তবে কারাবন্দিরা তাদের পরিবারের সঙ্গে সপ্তাহে একদিন কথা বলার সুযোগ পাবেন। আগে তারা সপ্তাহে আট মিনিট পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পারতেন। এবার তাদের সময়সীমা দুই মিনিট বাড়িয়ে ১০ মিনিট করা হয়েছে। এছাড়া কারাগারে বন্দি ও কর্মকর্তাদের মাস্ক, হাত ধোয়াসহ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। কারাগারে করোনার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান মামুন বলেন, করোনা মোকাবিলায় আমরা ইতোমধ্যে অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছি। একটি স্থায়ী নির্দেশিকার মাধ্যমে দেশের সব কারাগারে করোনা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি কারাগারে একটি করে কমিটি করা হয়েছে। সেই কমিটি নির্দেশিকা অনুযায়ী করোনা প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছে।