১১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

শেরপুরের দৃষ্টি নন্দন বাবর আলী মসজিদ

শেরপুর শহরের হাসপাতাল রোডস্থ নারায়ণপুর বাগবাড়ি এলাকায় দৃষ্টি নন্দন বাবর আলী জামে মসজিদ নির্মান প্রায় শেষের পথে।এই মসজিদের সম্পর্ণ জমি ও নির্মানের সিংহ ভাগ অর্থের যোগান দিয়েছেন এই এলাকার শিল্পপতিসদ্য প্রয়াত ইদ্রিস মিয়া। বাকী অর্থ দিয়েছেন কমকর্তা-কর্মচারি ছাড়াও এলাকার সাধারণ জনগন। ইতিমধ্যে এ মসজিদের নাম ছড়িয়ে পড়ায় দূর দুরান্ত থেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকেরা মসজিদটি দেখতে এবং নামাজ পড়তে আসেন।নানা কারুকাজ, কাঠের আসবাপত্র, দামি পাথর, টাইলস ও বর্ণীল আলোর ঝলকানিতে রাতের সমজিদটি হয়ে উঠে আরও সুন্দর। মসজিদে আলো-বাতাস যাতে সহজে চলাচল করতে পারে সেজন্য চার পাশে রয়েছে বিশাল খালি জায়গা।এই খালি জায়গাতে তৈরি করা হচ্ছে দেশী বিদেশী ফুল-ফলের বাগান। মসজিদের বিশাল ছাদে বাগানের কাজ চলছে। ৪০ শতক জমির উপর নির্মিত মুল সড়ক থেকে সিড়ি করে দুতলায় নির্মিত এই মসজিদটির কাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার কথা ছিল এই রমজান মাসেই কিন্ত ইদ্রিস মিয়া না ফেরার দেশে চলে গেলেন ১২ এপ্রিল সোমবার। ফলে আপাতত এর কাজের গতি কিছুটা কমে গেছে। তবে তার উত্তরসূরি এবং মসজিদ কমিটি ও স্থানীয়দের সহযোগিতার হাত সব সময়ই থাকবে বলে জানান স্থানীয়রা।


জানা গেছে, গত তিন বছর ধওে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সৌদি আরবের একটি মসজিদকে অনুকরণ করে বাবার নামে এই “বাবর আলী জামে মসজিদ” নাম করণ করে নির্মান করেন জেলার দানবীর বলে খ্যাত শিল্পপতি ইদ্রিস মিয়া।এই মসজিদে একসাথে নামাজ পড়তে পারবেন দুই হাজার মুসুল্লি। পাশেই থাকেছে পর্দা সম্বলিত অন্তত ৩ থেকে ৪শত মহিলার নামাজ পড়ার ব্যবস্থা। নকশা অনুযায়ি মসজিদের ভিতরের কাজ অনেকটা শেষ হলেও বাইরের কাজ এখনও বাকী আছে।
সূত্র জানায়, এখানে ব্যবহার করা হয়েছে দামী আধুনিক টাইলস,পাথর, নকশা ও রং। সব মিলিয়ে এটি এখন আধুনিক এক স্থাপত্য বলে মনে করে স্থানীয়রা।অন্তত দুই কোটি টাকার সেগুন কাঠ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে দরজা ও খোদাই করা নকশা বিশিষ্ট বিশেষ বিশাল আলমিরা। মসজিদ জুড়ে লাগানো হয়েছে বর্ণীল বাতি।রং আর আলোতে মিলে রাতের মসজিদকে করে তুলে আরও আকর্ষনীয়।এশা ও ফজরের নামাজে নানা রঙের বাতি গুলো কিছুক্ষণ পরপর রং পরিবর্তণ হয়ে বিশেষ এক আবহের সৃষ্টি করে।আধুনিক শিল্প আর নকশা আঁকা এই মসজিদেটি যেন শিল্পির তুলিতে আঁকা এক অনন্য শিল্প। এই মসজিদের মোয়াজ্জিনের মায়াবি আজানের ধ্বণি ও ঈমামের সূরা কেরাত এলাকার মুসলমানদের নামাজের প্রতি বিশেষ এক আগ্রহের সৃষ্টি করে বলে অনেকেই জানিয়েছেন।
মুসুল্লিদের সুবিধার্থে মসজিদটিতে থাকছে গরম ও ঠান্ডা অজুর পানি।শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বসানোর কাজ চলছে।মসজিদের সামনে বসানো হবে বিশাল আকারের ফোয়ারা।এই মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ইদ্রিস মিয়ার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ি মসজিদের পাশেই তাকে সমাহিত করা হয়েছে।মৃত্যুর আগে স্বজনদের বলে গেছেন এই মসজিদটি যেন সর্বদা উজ্জিবিত রাখা হয়।একটি অত্যাধুনিক মসজিদ নির্মাণ করা নিয়ে বাবার দেওয়া প্রতিশ্রুতি অবশ্যই রক্ষা করবেন বলে ইদ্রিস মিয়ার উত্তরসূরি(একমাত্র ছেলে) গোলজার মোঃ ইয়াহ হিয়া জিহান নিশ্চিত করেছেন। জিহান বলেন মসজিদের পূর্ববর্তি সকল পরিকল্পনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে,এখানে টাকার কোন হিসাব করা হবে না।

বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ফকির বাজার স্কুল এন্ড কলেজের সাধারন সভা অনুষ্ঠিত

শেরপুরের দৃষ্টি নন্দন বাবর আলী মসজিদ

প্রকাশিত : ০৩:৫৯:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২১

শেরপুর শহরের হাসপাতাল রোডস্থ নারায়ণপুর বাগবাড়ি এলাকায় দৃষ্টি নন্দন বাবর আলী জামে মসজিদ নির্মান প্রায় শেষের পথে।এই মসজিদের সম্পর্ণ জমি ও নির্মানের সিংহ ভাগ অর্থের যোগান দিয়েছেন এই এলাকার শিল্পপতিসদ্য প্রয়াত ইদ্রিস মিয়া। বাকী অর্থ দিয়েছেন কমকর্তা-কর্মচারি ছাড়াও এলাকার সাধারণ জনগন। ইতিমধ্যে এ মসজিদের নাম ছড়িয়ে পড়ায় দূর দুরান্ত থেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকেরা মসজিদটি দেখতে এবং নামাজ পড়তে আসেন।নানা কারুকাজ, কাঠের আসবাপত্র, দামি পাথর, টাইলস ও বর্ণীল আলোর ঝলকানিতে রাতের সমজিদটি হয়ে উঠে আরও সুন্দর। মসজিদে আলো-বাতাস যাতে সহজে চলাচল করতে পারে সেজন্য চার পাশে রয়েছে বিশাল খালি জায়গা।এই খালি জায়গাতে তৈরি করা হচ্ছে দেশী বিদেশী ফুল-ফলের বাগান। মসজিদের বিশাল ছাদে বাগানের কাজ চলছে। ৪০ শতক জমির উপর নির্মিত মুল সড়ক থেকে সিড়ি করে দুতলায় নির্মিত এই মসজিদটির কাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার কথা ছিল এই রমজান মাসেই কিন্ত ইদ্রিস মিয়া না ফেরার দেশে চলে গেলেন ১২ এপ্রিল সোমবার। ফলে আপাতত এর কাজের গতি কিছুটা কমে গেছে। তবে তার উত্তরসূরি এবং মসজিদ কমিটি ও স্থানীয়দের সহযোগিতার হাত সব সময়ই থাকবে বলে জানান স্থানীয়রা।


জানা গেছে, গত তিন বছর ধওে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সৌদি আরবের একটি মসজিদকে অনুকরণ করে বাবার নামে এই “বাবর আলী জামে মসজিদ” নাম করণ করে নির্মান করেন জেলার দানবীর বলে খ্যাত শিল্পপতি ইদ্রিস মিয়া।এই মসজিদে একসাথে নামাজ পড়তে পারবেন দুই হাজার মুসুল্লি। পাশেই থাকেছে পর্দা সম্বলিত অন্তত ৩ থেকে ৪শত মহিলার নামাজ পড়ার ব্যবস্থা। নকশা অনুযায়ি মসজিদের ভিতরের কাজ অনেকটা শেষ হলেও বাইরের কাজ এখনও বাকী আছে।
সূত্র জানায়, এখানে ব্যবহার করা হয়েছে দামী আধুনিক টাইলস,পাথর, নকশা ও রং। সব মিলিয়ে এটি এখন আধুনিক এক স্থাপত্য বলে মনে করে স্থানীয়রা।অন্তত দুই কোটি টাকার সেগুন কাঠ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে দরজা ও খোদাই করা নকশা বিশিষ্ট বিশেষ বিশাল আলমিরা। মসজিদ জুড়ে লাগানো হয়েছে বর্ণীল বাতি।রং আর আলোতে মিলে রাতের মসজিদকে করে তুলে আরও আকর্ষনীয়।এশা ও ফজরের নামাজে নানা রঙের বাতি গুলো কিছুক্ষণ পরপর রং পরিবর্তণ হয়ে বিশেষ এক আবহের সৃষ্টি করে।আধুনিক শিল্প আর নকশা আঁকা এই মসজিদেটি যেন শিল্পির তুলিতে আঁকা এক অনন্য শিল্প। এই মসজিদের মোয়াজ্জিনের মায়াবি আজানের ধ্বণি ও ঈমামের সূরা কেরাত এলাকার মুসলমানদের নামাজের প্রতি বিশেষ এক আগ্রহের সৃষ্টি করে বলে অনেকেই জানিয়েছেন।
মুসুল্লিদের সুবিধার্থে মসজিদটিতে থাকছে গরম ও ঠান্ডা অজুর পানি।শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বসানোর কাজ চলছে।মসজিদের সামনে বসানো হবে বিশাল আকারের ফোয়ারা।এই মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ইদ্রিস মিয়ার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ি মসজিদের পাশেই তাকে সমাহিত করা হয়েছে।মৃত্যুর আগে স্বজনদের বলে গেছেন এই মসজিদটি যেন সর্বদা উজ্জিবিত রাখা হয়।একটি অত্যাধুনিক মসজিদ নির্মাণ করা নিয়ে বাবার দেওয়া প্রতিশ্রুতি অবশ্যই রক্ষা করবেন বলে ইদ্রিস মিয়ার উত্তরসূরি(একমাত্র ছেলে) গোলজার মোঃ ইয়াহ হিয়া জিহান নিশ্চিত করেছেন। জিহান বলেন মসজিদের পূর্ববর্তি সকল পরিকল্পনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে,এখানে টাকার কোন হিসাব করা হবে না।

বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ