০১:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

মহামারীতে ‘গতি ধরে রেখেছে’ চট্টগ্রাম বন্দর

রোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি সচল রয়েছে বলে দাবি করেছেন কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, বন্দরে কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং, জাহাজ আসার সংখ্যায় কিছুটা প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বন্দরে নেই জাহাজ বা কন্টেইনারের জট; দ্রুত খালাস হচ্ছে পণ্য। গত বছর মার্চ মাসে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর সর্বাত্মক সাধারণ ছুটি ঘোষণা হলে অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে কিছুটা ভাটা পড়েছিল। কিন্তু এবার মার্চে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় লকডাউনে বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হয়নি। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, এবারে সংক্রমণ বাড়ার পর লকডাউন দেওয়া হলেও বিভিন্ন রপ্তানিমুখী কল-কারখানা খোলা রয়েছে। সেজন্য কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং স্বাভাবিক রয়েছে। পাশাপাশি আমদানিকৃত কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ও পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে। গত বছরের মার্চের তুলনায় এবছর মার্চে কন্টেইনার ও কার্গো উঠানামায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ এবং জাহাজ আসা-যাওয়ায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।”ওমর ফারুক বলেন, গত বছর মার্চ মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ আসে মোট ৩৬৬টি। রপ্তানি ও আমদানি মিলিয়ে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে দুই লাখ ৪৯ হাজার ৬৬৯টিইউইউস (প্রতিটি ২০ ফুট দৈর্ঘ্যরে)। কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে এক কোটি দুই লাখ ৬৪ হাজার ৪০২ মেট্রিক টন। এবার মার্চ মাসে জাহাজ এসেছে ৩৭৬টি। কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে দুই লাখ ৬৯ হাজার ৪৪৬ টিইইউএস। কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে এক কোটি ১০ লাখ ৪২ হাজার ৮১৮ টন। তিনি বলেন, “করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দর তার সক্ষমতার মধ্য দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর ২৪ ঘণ্টা খোলা ছিল। অন্যান্য অনেক বন্দরের চেয়ে আমাদের অবস্থান অনেক ভালো রয়েছে।”তিনি বলেন, গত বছর মার্চের শেষের দিকে এবং এপ্রিলের শুরুতে পণ্যবাহী জাহাজ আসা স্বাভাবিক থাকলেও কন্টেইনার খালাস প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে গিয়েছিল, ফলে বন্দরে জট তৈরি হয়েছিল। “তবে এবছর কোনো জট নেই বললেই চলে। গত বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এ বছর বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে।”চট্টগ্রাম বন্দরের হিসেবে, করোনাভাইরাস চলাকালীন সময়ে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে আমদানি-রপ্তানি মিলিয়ে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, ২৭ লাখ ৯৭ হাজার ১৯০ টিইইউস। এসময়ে বন্দর দিয়ে জাহাজ এসেছে তিন হাজার ৭৬৪টি। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে আমদানি-রপ্তানি মিলিয়ে হ্যান্ডলিং হয়েছিল ২৮ লাখ আট হাজার ৪৯৯ টিইইউস কন্টেইনার, আর জাহাজ এসেছিল মোট তিন হাজার ৬৯৯টি। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ চলাকালীন সময়েও সকলের সহযোগিতায় বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। বর্তমানে বন্দর অভ্যন্তরে কোন জাহাজ জট বা কন্টেইনার জট নেই। দ্রুত সময়ে পণ্য খালাস হচ্ছে। এসব অগ্রগতির মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার ১৩৪তম বছরে পা দিয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষ কোন আনুষ্ঠানিকতা রাখেনি। বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানির ৯২ শতাংশের বেশি পণ্য এবং ৯৮ শতাংশ কনটেইনার পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর হ্যান্ডলিং করে থাকে। ২০০৯ সালে প্রথম বারের মতো চট্টগ্রাম বন্দর ১০০টি কন্টেইনার বন্দরের তালিকার ৯৮তম স্থানে আসে। ১১ বছরে ৪০ ধাপ এগিয়ে ২০২০ সালে চট্টগ্রাম বন্দর ৫৮তম অবস্থানে উন্নীত হয়। বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহজাহান বন্দরের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে দেয়া এক বিবৃতিতে বন্দরকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সর্বাত্মক সহায়তার জন্য সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, বার্থ অপারেটর, টার্মিনাল অপারেটর, শিপ হ্যান্ডেলিং অপারেটর, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার, বিকডা, শিপিং এজন্ট, শ্রমিকসহ সকল স্টেকহোল্ডারকে ধন্যবাদ জানান।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ’২৬ এ রাজারহাটে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অধ্যক্ষ প্রধান শিক্ষক শ্রেণি শিক্ষক নির্বাচিত

মহামারীতে ‘গতি ধরে রেখেছে’ চট্টগ্রাম বন্দর

প্রকাশিত : ১২:০১:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ এপ্রিল ২০২১

রোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি সচল রয়েছে বলে দাবি করেছেন কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, বন্দরে কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং, জাহাজ আসার সংখ্যায় কিছুটা প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বন্দরে নেই জাহাজ বা কন্টেইনারের জট; দ্রুত খালাস হচ্ছে পণ্য। গত বছর মার্চ মাসে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর সর্বাত্মক সাধারণ ছুটি ঘোষণা হলে অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে কিছুটা ভাটা পড়েছিল। কিন্তু এবার মার্চে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় লকডাউনে বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হয়নি। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, এবারে সংক্রমণ বাড়ার পর লকডাউন দেওয়া হলেও বিভিন্ন রপ্তানিমুখী কল-কারখানা খোলা রয়েছে। সেজন্য কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং স্বাভাবিক রয়েছে। পাশাপাশি আমদানিকৃত কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ও পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে। গত বছরের মার্চের তুলনায় এবছর মার্চে কন্টেইনার ও কার্গো উঠানামায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ এবং জাহাজ আসা-যাওয়ায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।”ওমর ফারুক বলেন, গত বছর মার্চ মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ আসে মোট ৩৬৬টি। রপ্তানি ও আমদানি মিলিয়ে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে দুই লাখ ৪৯ হাজার ৬৬৯টিইউইউস (প্রতিটি ২০ ফুট দৈর্ঘ্যরে)। কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে এক কোটি দুই লাখ ৬৪ হাজার ৪০২ মেট্রিক টন। এবার মার্চ মাসে জাহাজ এসেছে ৩৭৬টি। কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে দুই লাখ ৬৯ হাজার ৪৪৬ টিইইউএস। কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে এক কোটি ১০ লাখ ৪২ হাজার ৮১৮ টন। তিনি বলেন, “করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দর তার সক্ষমতার মধ্য দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর ২৪ ঘণ্টা খোলা ছিল। অন্যান্য অনেক বন্দরের চেয়ে আমাদের অবস্থান অনেক ভালো রয়েছে।”তিনি বলেন, গত বছর মার্চের শেষের দিকে এবং এপ্রিলের শুরুতে পণ্যবাহী জাহাজ আসা স্বাভাবিক থাকলেও কন্টেইনার খালাস প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে গিয়েছিল, ফলে বন্দরে জট তৈরি হয়েছিল। “তবে এবছর কোনো জট নেই বললেই চলে। গত বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এ বছর বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে।”চট্টগ্রাম বন্দরের হিসেবে, করোনাভাইরাস চলাকালীন সময়ে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে আমদানি-রপ্তানি মিলিয়ে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, ২৭ লাখ ৯৭ হাজার ১৯০ টিইইউস। এসময়ে বন্দর দিয়ে জাহাজ এসেছে তিন হাজার ৭৬৪টি। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে আমদানি-রপ্তানি মিলিয়ে হ্যান্ডলিং হয়েছিল ২৮ লাখ আট হাজার ৪৯৯ টিইইউস কন্টেইনার, আর জাহাজ এসেছিল মোট তিন হাজার ৬৯৯টি। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ চলাকালীন সময়েও সকলের সহযোগিতায় বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। বর্তমানে বন্দর অভ্যন্তরে কোন জাহাজ জট বা কন্টেইনার জট নেই। দ্রুত সময়ে পণ্য খালাস হচ্ছে। এসব অগ্রগতির মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার ১৩৪তম বছরে পা দিয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষ কোন আনুষ্ঠানিকতা রাখেনি। বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানির ৯২ শতাংশের বেশি পণ্য এবং ৯৮ শতাংশ কনটেইনার পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর হ্যান্ডলিং করে থাকে। ২০০৯ সালে প্রথম বারের মতো চট্টগ্রাম বন্দর ১০০টি কন্টেইনার বন্দরের তালিকার ৯৮তম স্থানে আসে। ১১ বছরে ৪০ ধাপ এগিয়ে ২০২০ সালে চট্টগ্রাম বন্দর ৫৮তম অবস্থানে উন্নীত হয়। বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহজাহান বন্দরের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে দেয়া এক বিবৃতিতে বন্দরকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সর্বাত্মক সহায়তার জন্য সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, বার্থ অপারেটর, টার্মিনাল অপারেটর, শিপ হ্যান্ডেলিং অপারেটর, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার, বিকডা, শিপিং এজন্ট, শ্রমিকসহ সকল স্টেকহোল্ডারকে ধন্যবাদ জানান।