১০:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

রংপুর-সিলেটের জন্য হচ্ছে ‘দুর্যোগ ঝুঁকির ডাটাবেজ’

দেশের দু’টি বড় শহরের দুর্যোগ ঝুঁকির ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য ‘প্রিপারেশন অব রিস্ক সেনসিটিভ ডাটাবেইজ ফর কোর এরিয়া অব রংপুর অ্যান্ড সিলেট ডিস্ট্রিক্ট টাউন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এটি বাস্তবায়নের ফলে রংপুর ও সিলেট শহরের কোর এলাকার দুর্যোগ ঝুঁকি সংবেদনশীল ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। এছাড়া জেলা সদরে কোর এলাকার টাস্কফোর্স এর আওতাভুক্ত সরকারি স্থাপনা নির্মাণ বা সম্প্রসারণ কাজের স্থান নির্বাচন প্রস্তাব অনুমোদনে সহায়তা করা হবে। সেই সঙ্গে বিভাগ বা জেলা পর্যায়ে সরকারি স্থাপনার মাস্টার প্ল্যান বা স্থাপত্য নকশায় প্রয়োজনীয় সংযোজন বা সংশোধন বা পরিবর্তন ও অনুমোদন সহায়তা দেয়া সম্ভব হবে। গত ২২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্পটির প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। ওই সভায় কার্যবিবরণী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা। প্রক্রিয়াকরণ শেষে অনুমোদন পেলে চলতি বছর হতে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতায় নগর উন্নয়ন অধিদফতর। তারা আরও জানান, প্রকল্পের আউটপুট হিসেবে জেলা শহরের কোর এলাকার দুর্যোগ ঝুঁকি সংবেদনশীল জিআইএস ভিত্তিক ডাটাবেইজ এবং রিপোর্ট পাওয়া যাবে। এছাড়া প্রকল্প এলাকায় মূল্যবান দুই ফসলী ও তিন ফসলী কৃষি জমি চিহ্নিত করা হবে। পাশাপাশি নদী ও খালের মূল প্রবাহ এবং উপ-প্রবাহ অঞ্চল, জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত এলাকা, নদী আইন অনুযায়ী ফোরসোর জলবাদ্ধতা ইত্যাদি চিহ্নিতকরণ এবং ভূমিকম্প, বন্যা, ভূমিধসসহ অন্যান্য দুর্যোগ ঝুঁকি প্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা হবে। সূত্র জানায়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিকার-১ এর আওতাধীন টাস্কফোর্স তার কার্যপরিধি (বিভাগ জেলা পর্যায়ের সরকারি স্থাপনার মাস্টার প্ল্যান বা স্থাপত্য নকশায় প্রয়োজনীয় সংশোধন সংযোজন পরিবর্তন ও অনুমোদন) অনুযায়ী জেলা সদরের কোর ভবনাদির স্থাপনাগুলো নির্মাণ সম্প্রসারণের কার্যক্রম গ্রহণ অনুমোদন করে। টাস্কফোর্স সাধারণত প্রস্তাবক মন্ত্রণালয় বিভাগের চাহিদা অনুসারে স্থাপত্য নকশা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রস্তাব অনুমোদন করে থাকে। কিন্তু উপযুক্ত স্থান নির্বাচনের জন্য পারিপাশ্বিক বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সর্বদা প্রত্যাশী সংস্থা হতে পাওয়া যায় না এবং ক্ষেত্র বিশেষে বিকল্প স্থান নির্ধারণে কোন ডাটাবেজ না থাকায় সিদ্ধান্ত দেয়ায় সমস্যার সৃষ্টি হয়। এছাড়া বাংলাদেশের অধিকাংশ জেলা সদরের কোর এলাকার দুর্যোগ ঝুঁকি সংবেদনশীল ডাটাবেজ এখন পর্যন্ত প্রস্তুত হয়নি, যা বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে উপযুক্ত স্থান নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য টাস্কফোর্স কমিটির ১৮৪তম সভায় রংপুর ও সিলেট শহরের রিস্ক সেনসেটিভ ডাটাবেজ ফর কোর এরিয়ার প্রকল্পের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে টাস্কফোর্স কমিটির ১৮৫তম সভায়ও রিস্ক সেনসেটিভ ডাটাবেজ ফর কোর এরিয়া সংক্রান্ত প্রকল্প প্রস্তাবনাটি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক এডিপি থেকে নিয়ে নগর উন্নয়ন অধিদফতরের মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য টাস্কফোর্স কমিটির পক্ষ থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বরাবর চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেজন্য উল্লিখিত সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ২০১৮ সালের ২৮ মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বরাবর চিঠি দেয়। এরপর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় রিস্ক সেনসেটিভ ডাটাবেজ ফর কোর এরিয়া সংক্রান্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেয় নগর উন্নয়ন অধিদফতরকে। সেজন্য এই প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হচ্ছে- ফিজিক্যাল ফিচার জরিপ, সাব-সার্ফেস জিও টেকনিক্যাল অ্যান্ড জিও ফিজিক্যাল স্টাডি, সার্ভে, বেঞ্চমার্ক পিলার স্থাপন, ইউএভি’র মাধ্যমে প্রকল্প এলাকার জরিপ, ইউএভি ইমেজ প্রক্রিয়াকরণ, জরিপ, ৩-ডি ডিজিটাইজেশন সম্পাদনা, ডাটাবেস প্রস্তুতি, জিও রেফারেন্সিং, এরিয়াল ট্রায়াংগুলেশন, মুদ্রণ ইত্যাদি, আর্কিটেকচারাল ড্রয়িং, সেমিনার ও কনফারেন্স, কম্পিউটার ও এক্সেসরিস, অন্যান্য যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম এবং আসবাবপত্র কেনাসহ অন্যান্য কাজ করা হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ’২৬ এ রাজারহাটে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অধ্যক্ষ প্রধান শিক্ষক শ্রেণি শিক্ষক নির্বাচিত

রংপুর-সিলেটের জন্য হচ্ছে ‘দুর্যোগ ঝুঁকির ডাটাবেজ’

প্রকাশিত : ১২:০১:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ এপ্রিল ২০২১

দেশের দু’টি বড় শহরের দুর্যোগ ঝুঁকির ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য ‘প্রিপারেশন অব রিস্ক সেনসিটিভ ডাটাবেইজ ফর কোর এরিয়া অব রংপুর অ্যান্ড সিলেট ডিস্ট্রিক্ট টাউন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এটি বাস্তবায়নের ফলে রংপুর ও সিলেট শহরের কোর এলাকার দুর্যোগ ঝুঁকি সংবেদনশীল ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। এছাড়া জেলা সদরে কোর এলাকার টাস্কফোর্স এর আওতাভুক্ত সরকারি স্থাপনা নির্মাণ বা সম্প্রসারণ কাজের স্থান নির্বাচন প্রস্তাব অনুমোদনে সহায়তা করা হবে। সেই সঙ্গে বিভাগ বা জেলা পর্যায়ে সরকারি স্থাপনার মাস্টার প্ল্যান বা স্থাপত্য নকশায় প্রয়োজনীয় সংযোজন বা সংশোধন বা পরিবর্তন ও অনুমোদন সহায়তা দেয়া সম্ভব হবে। গত ২২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্পটির প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। ওই সভায় কার্যবিবরণী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা। প্রক্রিয়াকরণ শেষে অনুমোদন পেলে চলতি বছর হতে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতায় নগর উন্নয়ন অধিদফতর। তারা আরও জানান, প্রকল্পের আউটপুট হিসেবে জেলা শহরের কোর এলাকার দুর্যোগ ঝুঁকি সংবেদনশীল জিআইএস ভিত্তিক ডাটাবেইজ এবং রিপোর্ট পাওয়া যাবে। এছাড়া প্রকল্প এলাকায় মূল্যবান দুই ফসলী ও তিন ফসলী কৃষি জমি চিহ্নিত করা হবে। পাশাপাশি নদী ও খালের মূল প্রবাহ এবং উপ-প্রবাহ অঞ্চল, জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত এলাকা, নদী আইন অনুযায়ী ফোরসোর জলবাদ্ধতা ইত্যাদি চিহ্নিতকরণ এবং ভূমিকম্প, বন্যা, ভূমিধসসহ অন্যান্য দুর্যোগ ঝুঁকি প্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা হবে। সূত্র জানায়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিকার-১ এর আওতাধীন টাস্কফোর্স তার কার্যপরিধি (বিভাগ জেলা পর্যায়ের সরকারি স্থাপনার মাস্টার প্ল্যান বা স্থাপত্য নকশায় প্রয়োজনীয় সংশোধন সংযোজন পরিবর্তন ও অনুমোদন) অনুযায়ী জেলা সদরের কোর ভবনাদির স্থাপনাগুলো নির্মাণ সম্প্রসারণের কার্যক্রম গ্রহণ অনুমোদন করে। টাস্কফোর্স সাধারণত প্রস্তাবক মন্ত্রণালয় বিভাগের চাহিদা অনুসারে স্থাপত্য নকশা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রস্তাব অনুমোদন করে থাকে। কিন্তু উপযুক্ত স্থান নির্বাচনের জন্য পারিপাশ্বিক বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সর্বদা প্রত্যাশী সংস্থা হতে পাওয়া যায় না এবং ক্ষেত্র বিশেষে বিকল্প স্থান নির্ধারণে কোন ডাটাবেজ না থাকায় সিদ্ধান্ত দেয়ায় সমস্যার সৃষ্টি হয়। এছাড়া বাংলাদেশের অধিকাংশ জেলা সদরের কোর এলাকার দুর্যোগ ঝুঁকি সংবেদনশীল ডাটাবেজ এখন পর্যন্ত প্রস্তুত হয়নি, যা বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে উপযুক্ত স্থান নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য টাস্কফোর্স কমিটির ১৮৪তম সভায় রংপুর ও সিলেট শহরের রিস্ক সেনসেটিভ ডাটাবেজ ফর কোর এরিয়ার প্রকল্পের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে টাস্কফোর্স কমিটির ১৮৫তম সভায়ও রিস্ক সেনসেটিভ ডাটাবেজ ফর কোর এরিয়া সংক্রান্ত প্রকল্প প্রস্তাবনাটি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক এডিপি থেকে নিয়ে নগর উন্নয়ন অধিদফতরের মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য টাস্কফোর্স কমিটির পক্ষ থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বরাবর চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেজন্য উল্লিখিত সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ২০১৮ সালের ২৮ মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বরাবর চিঠি দেয়। এরপর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় রিস্ক সেনসেটিভ ডাটাবেজ ফর কোর এরিয়া সংক্রান্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেয় নগর উন্নয়ন অধিদফতরকে। সেজন্য এই প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হচ্ছে- ফিজিক্যাল ফিচার জরিপ, সাব-সার্ফেস জিও টেকনিক্যাল অ্যান্ড জিও ফিজিক্যাল স্টাডি, সার্ভে, বেঞ্চমার্ক পিলার স্থাপন, ইউএভি’র মাধ্যমে প্রকল্প এলাকার জরিপ, ইউএভি ইমেজ প্রক্রিয়াকরণ, জরিপ, ৩-ডি ডিজিটাইজেশন সম্পাদনা, ডাটাবেস প্রস্তুতি, জিও রেফারেন্সিং, এরিয়াল ট্রায়াংগুলেশন, মুদ্রণ ইত্যাদি, আর্কিটেকচারাল ড্রয়িং, সেমিনার ও কনফারেন্স, কম্পিউটার ও এক্সেসরিস, অন্যান্য যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম এবং আসবাবপত্র কেনাসহ অন্যান্য কাজ করা হবে।