০৬:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

খাদ্য নিরাপত্তায় বিশেষ মনোযোগ

বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি প্রলম্বিত হওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তায় বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে আসছে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে বাজেটে খাদ্যশস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে রেকর্ড ব্যয় করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বাজেটে মহামারি করোনাসহ নেতিবাচক নানা প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সরকার খাদ্যশস্য সংগ্রহের জন্য বরাদ্দ ৬৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি করে ৮ হাজার ৭০৮ কোটি টাকা রাখার পরিকল্পনা করছে। সম্প্রতি সরকারের খাদ্য, পরিকল্পনা ও অর্থ বিভাগের এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ২০২১-২২ অর্থবছরে খাদ্যশস্য সংগ্রহের জন্য ওই বরাদ্দের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে। চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৫ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। ৩ জুন জাতীয় সংসদে ঘোষিত হতে যাচ্ছে আগামী অর্থবছরের বাজেট। বাজেটে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা। এটা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৩শ কোটি টাকা বেশি। খাদ্য নিরাপত্তাসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এ বাড়তি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

মহামারি করোনা আক্রান্তের দ্বিতীয় বছরে খাদ্যশস্যের নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার চাল ও গম আমদানি করতে বাধ্য হয়। চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত খাদ্যশস্যের মজুদ ছিল পাঁচ লাখ ৪৭ হাজার টন। যার মধ্যে ৩ লাখ টন চাল ও ২ লাখ ৪৭ হাজার টন গম ছিল। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরে চালের দাম ২৬ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। চালের দাম নিয়ন্ত্রণে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে সরকার চালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করে।
চলতি বছরে সরকার প্রতিকেজি ২৬ টাকায় ধান, আতপ চাল প্রতিকেজি ৩৫ টাকায় এবং সিদ্ধ চাল কেজিপ্রতি ৩৬ টাকায় কেনার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণ ও কৃষকদের লাভবান করার উদ্দেশে আরও বেশি দামে ধান-চাল সংগ্রহ শুরু করে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে প্রায় মৌসুমেই সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে মিল মালিকরা ধান-চাল সংগ্রহ করে আসছে। যে কারণে বেশিরভাগ সময়েই সরকারের ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়না। বর্তমানে সরকারী গুদামে ধান-চালের মজুদ নির্ধারিত সীমার অনেক নিচে থাকায় এবার ঝুঁকি নিতে চাইছে না সরকার। যেকোন মূল্যে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে সচেষ্ট সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। যে কারণে পূর্বঘোষিত দামের চেয়ে বেশি দামেই সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছে সরকার। পাশাপাশি করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি খাতকে প্রণোদিত করাও এই বাড়তি দাম নির্ধারণের অন্যতম লক্ষ্য। এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে চলতি বোরো মৌসুমে সরকার দাম একটু বৃদ্ধি করে ধান কেজিপ্রতি ২৭ টাকায়, আতপ চাল ৩৯ টাকায় এবং সিদ্ধ চাল ৪০ টাকা কেজি দরে সংগ্রহ করছে। গত ২৮ এপ্রিল ধান ও ৭ মে চাল সংগ্রহ শুরু করা হয়, যা আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।
চলতি বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন থেকে সরকার ৬ লাখ টন ধান এবং সাড়ে ১১ লাখ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে কেজিপ্রতি ২৭ টাকা দরে ধান কিনবে কৃষকের কাছ থেকে, আর কেজিপ্রতি ৪০ টাকা দামে ১০ লাখ টন সিদ্ধ চাল এবং ৩৮ টাকা দরে দেড় লাখ টন আতপ চাল কিনবে চালকল মালিকদের কাছ থেকে। গত ২৬ এপ্রিল এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বোরো ধান-চাল সংগ্রহের এ লক্ষ্যমাত্রা ও কর্মসূচি ঘোষণা করেন। অন্যদিকে চলতি বোরো মৌসুমে সরকারের চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২ কোটি ৫ লাখ টন নির্ধারণ করে। গত বছর বোরো চালের উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ৯৪ লাখ টন।
এদিকে খাদ্য মজুত কম থাকাসহ নানান কারণে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি খাদ্য মন্ত্রণালয়। ফলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নাধীন ‘টিআর-কাবিখা’র মতো কর্মসূচিতে খাদ্য সরবরাহ করতে পারেনি তারা। তাই সরকারিভাবে খাদ্যশস্য বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে খাদ্যের বিনিময়ে নগদ অর্থ বিতরণ করা হচ্ছে। এতে দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ খরচ হলেও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সেই টাকা রয়ে গেছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ বছর খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ অনেকটা গত অর্থবছরের মতোই থাকছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অনুকূলের বরাদ্দ দেয়া অর্থের অনেকটাই উদ্বৃত্ত রয়ে গেছে। কিন্তু সামনে করোনা পরিস্থিতি খারাপ হলে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা কর্মসূচির প্রয়োজন হতে পারে। ২০২০-২১ বছরে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল ১৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে এই বরাদ্দ ৩০০ কোটি টাকা বাড়িয়ে ১৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে তা বাড়তে বা কমতে পারে। এছাড়া এর বাইরে টাকার প্রয়োজন হলে থোক বরাদ্দ থেকেও আর্থিক প্রয়োজন মেটানো হবে। তবে সার্বিকভাবে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি বাজেটে গুরুত্ব পাবে।
এদিকে গত আমন মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার পূরণ না হওয়ায় আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় বিদেশ থেকে ১২ লাখ ৫০ হাজার টন চাল আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়। গত এপ্রিল পর্যন্ত বিদেশ থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজার টন চাল আমদানির চুক্তি হয়েছে। অতিরিক্ত আরও তিন লাখ টন চাল আমদানির জন্য এলওআই (লেটার অব ইনটেন) প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ২ লাখ টন আমদানি প্রক্রিয়াধীন আছে। এসব চুক্তির মধ্যে ২ লাখ ৬৩ হাজার টন চাল ও আড়াই লাখ টন গম দেশে পৌঁছেছে।
এ বিষয়ে খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বলেন, ‘দেশে ধানের বাম্পার ফলনের কথা বলছে কৃষি মন্ত্রণালয়। যদিও হার্ভেস্টিংয়ের পর ফাইনাল হিসাব দেবে পরিসংখ্যান ব্যুরো। কৃষি মন্ত্রণালয়ের টার্গেট অনুসারে আমরা দেখছি ২ কোটি ৫ লাখ মেট্রিক টন তাদের লক্ষ্যমাত্রা। এই পরিমাণ যদি উৎপাদন নাও হয় কিংবা ২ কোটি মেট্রিক টন হয়, তাহলে আপাতত আমরা ১১ লাখ মেট্রিক টন চাল এবং সাড়ে ৪ লাখ মেট্রিক টন ধান কেনার ঘোষণা দিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি একটা টেন্ডার কার্যক্রমও চালাব। কারণ এই ধান-চাল নিয়েই আমাদের আমনের ফলন পর্যন্ত যেতে হবে। সেজন্য ২০২০-২১ অর্থবছরে ১০ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল, এ বছর ততটা টার্গেট করিনি। তবে আমদানির কার্যক্রমও চলবে। করোনা কতদূর যাবে, আবার কী পরিস্থিতি দাঁড়াবে তা তো জানি না। যদি আবার ম্যাসিভ রেশনিং করতে হয়, ওএমএস দিতে হয়, করোনার কারণে অনেকে কর্মহীন হয়েছে। আমরা যদি সহায়তার পরিধি বাড়াই, সেক্ষেত্রে আমাদের প্রচুর খাদ্য লাগবে। সেজন্য আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে আমদানির কার্যক্রমও চালাব।’
এদিকে আগামী অর্থবছরে করোনায় ক্ষতিগ্রস্তসহ নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে বিনামূল্য বা স্বল্পমূল্যে খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থা চালু রাখাসহ বেশ কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এছাড়া অগ্রাধিকার খাতগুলোতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর সফল বাস্তবায়ন, কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যখাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ, প্রণোদনা এবং ক্ষতিপূরণ, অধিক খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, সেচ ও বীজ প্রণোদনা, কৃষি পুনর্বাসন, সারে ভর্তুকি প্রদান অব্যাহত রাখা, ব্যাপক কর্মসৃজন ও পল্লী উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের আওতা সম্প্রসারণ, গৃহহীন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য গৃহনির্মাণ (মুজিববর্ষের প্রধান কার্যক্রম), শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নসহ সার্বিক মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়া হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ষড়যন্ত্র করে বিএনপিকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না: তারেক রহমান

খাদ্য নিরাপত্তায় বিশেষ মনোযোগ

প্রকাশিত : ১২:০০:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ মে ২০২১

বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি প্রলম্বিত হওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তায় বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে আসছে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে বাজেটে খাদ্যশস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে রেকর্ড ব্যয় করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বাজেটে মহামারি করোনাসহ নেতিবাচক নানা প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সরকার খাদ্যশস্য সংগ্রহের জন্য বরাদ্দ ৬৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি করে ৮ হাজার ৭০৮ কোটি টাকা রাখার পরিকল্পনা করছে। সম্প্রতি সরকারের খাদ্য, পরিকল্পনা ও অর্থ বিভাগের এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ২০২১-২২ অর্থবছরে খাদ্যশস্য সংগ্রহের জন্য ওই বরাদ্দের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে। চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৫ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। ৩ জুন জাতীয় সংসদে ঘোষিত হতে যাচ্ছে আগামী অর্থবছরের বাজেট। বাজেটে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা। এটা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৩শ কোটি টাকা বেশি। খাদ্য নিরাপত্তাসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এ বাড়তি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

মহামারি করোনা আক্রান্তের দ্বিতীয় বছরে খাদ্যশস্যের নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার চাল ও গম আমদানি করতে বাধ্য হয়। চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত খাদ্যশস্যের মজুদ ছিল পাঁচ লাখ ৪৭ হাজার টন। যার মধ্যে ৩ লাখ টন চাল ও ২ লাখ ৪৭ হাজার টন গম ছিল। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরে চালের দাম ২৬ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। চালের দাম নিয়ন্ত্রণে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে সরকার চালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করে।
চলতি বছরে সরকার প্রতিকেজি ২৬ টাকায় ধান, আতপ চাল প্রতিকেজি ৩৫ টাকায় এবং সিদ্ধ চাল কেজিপ্রতি ৩৬ টাকায় কেনার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণ ও কৃষকদের লাভবান করার উদ্দেশে আরও বেশি দামে ধান-চাল সংগ্রহ শুরু করে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে প্রায় মৌসুমেই সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে মিল মালিকরা ধান-চাল সংগ্রহ করে আসছে। যে কারণে বেশিরভাগ সময়েই সরকারের ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়না। বর্তমানে সরকারী গুদামে ধান-চালের মজুদ নির্ধারিত সীমার অনেক নিচে থাকায় এবার ঝুঁকি নিতে চাইছে না সরকার। যেকোন মূল্যে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে সচেষ্ট সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। যে কারণে পূর্বঘোষিত দামের চেয়ে বেশি দামেই সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছে সরকার। পাশাপাশি করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি খাতকে প্রণোদিত করাও এই বাড়তি দাম নির্ধারণের অন্যতম লক্ষ্য। এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে চলতি বোরো মৌসুমে সরকার দাম একটু বৃদ্ধি করে ধান কেজিপ্রতি ২৭ টাকায়, আতপ চাল ৩৯ টাকায় এবং সিদ্ধ চাল ৪০ টাকা কেজি দরে সংগ্রহ করছে। গত ২৮ এপ্রিল ধান ও ৭ মে চাল সংগ্রহ শুরু করা হয়, যা আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।
চলতি বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন থেকে সরকার ৬ লাখ টন ধান এবং সাড়ে ১১ লাখ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে কেজিপ্রতি ২৭ টাকা দরে ধান কিনবে কৃষকের কাছ থেকে, আর কেজিপ্রতি ৪০ টাকা দামে ১০ লাখ টন সিদ্ধ চাল এবং ৩৮ টাকা দরে দেড় লাখ টন আতপ চাল কিনবে চালকল মালিকদের কাছ থেকে। গত ২৬ এপ্রিল এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বোরো ধান-চাল সংগ্রহের এ লক্ষ্যমাত্রা ও কর্মসূচি ঘোষণা করেন। অন্যদিকে চলতি বোরো মৌসুমে সরকারের চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২ কোটি ৫ লাখ টন নির্ধারণ করে। গত বছর বোরো চালের উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ৯৪ লাখ টন।
এদিকে খাদ্য মজুত কম থাকাসহ নানান কারণে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি খাদ্য মন্ত্রণালয়। ফলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নাধীন ‘টিআর-কাবিখা’র মতো কর্মসূচিতে খাদ্য সরবরাহ করতে পারেনি তারা। তাই সরকারিভাবে খাদ্যশস্য বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে খাদ্যের বিনিময়ে নগদ অর্থ বিতরণ করা হচ্ছে। এতে দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ খরচ হলেও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সেই টাকা রয়ে গেছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ বছর খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ অনেকটা গত অর্থবছরের মতোই থাকছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অনুকূলের বরাদ্দ দেয়া অর্থের অনেকটাই উদ্বৃত্ত রয়ে গেছে। কিন্তু সামনে করোনা পরিস্থিতি খারাপ হলে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা কর্মসূচির প্রয়োজন হতে পারে। ২০২০-২১ বছরে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল ১৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে এই বরাদ্দ ৩০০ কোটি টাকা বাড়িয়ে ১৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে তা বাড়তে বা কমতে পারে। এছাড়া এর বাইরে টাকার প্রয়োজন হলে থোক বরাদ্দ থেকেও আর্থিক প্রয়োজন মেটানো হবে। তবে সার্বিকভাবে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি বাজেটে গুরুত্ব পাবে।
এদিকে গত আমন মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার পূরণ না হওয়ায় আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় বিদেশ থেকে ১২ লাখ ৫০ হাজার টন চাল আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়। গত এপ্রিল পর্যন্ত বিদেশ থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজার টন চাল আমদানির চুক্তি হয়েছে। অতিরিক্ত আরও তিন লাখ টন চাল আমদানির জন্য এলওআই (লেটার অব ইনটেন) প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ২ লাখ টন আমদানি প্রক্রিয়াধীন আছে। এসব চুক্তির মধ্যে ২ লাখ ৬৩ হাজার টন চাল ও আড়াই লাখ টন গম দেশে পৌঁছেছে।
এ বিষয়ে খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বলেন, ‘দেশে ধানের বাম্পার ফলনের কথা বলছে কৃষি মন্ত্রণালয়। যদিও হার্ভেস্টিংয়ের পর ফাইনাল হিসাব দেবে পরিসংখ্যান ব্যুরো। কৃষি মন্ত্রণালয়ের টার্গেট অনুসারে আমরা দেখছি ২ কোটি ৫ লাখ মেট্রিক টন তাদের লক্ষ্যমাত্রা। এই পরিমাণ যদি উৎপাদন নাও হয় কিংবা ২ কোটি মেট্রিক টন হয়, তাহলে আপাতত আমরা ১১ লাখ মেট্রিক টন চাল এবং সাড়ে ৪ লাখ মেট্রিক টন ধান কেনার ঘোষণা দিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি একটা টেন্ডার কার্যক্রমও চালাব। কারণ এই ধান-চাল নিয়েই আমাদের আমনের ফলন পর্যন্ত যেতে হবে। সেজন্য ২০২০-২১ অর্থবছরে ১০ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল, এ বছর ততটা টার্গেট করিনি। তবে আমদানির কার্যক্রমও চলবে। করোনা কতদূর যাবে, আবার কী পরিস্থিতি দাঁড়াবে তা তো জানি না। যদি আবার ম্যাসিভ রেশনিং করতে হয়, ওএমএস দিতে হয়, করোনার কারণে অনেকে কর্মহীন হয়েছে। আমরা যদি সহায়তার পরিধি বাড়াই, সেক্ষেত্রে আমাদের প্রচুর খাদ্য লাগবে। সেজন্য আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে আমদানির কার্যক্রমও চালাব।’
এদিকে আগামী অর্থবছরে করোনায় ক্ষতিগ্রস্তসহ নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে বিনামূল্য বা স্বল্পমূল্যে খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থা চালু রাখাসহ বেশ কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এছাড়া অগ্রাধিকার খাতগুলোতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর সফল বাস্তবায়ন, কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যখাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ, প্রণোদনা এবং ক্ষতিপূরণ, অধিক খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, সেচ ও বীজ প্রণোদনা, কৃষি পুনর্বাসন, সারে ভর্তুকি প্রদান অব্যাহত রাখা, ব্যাপক কর্মসৃজন ও পল্লী উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের আওতা সম্প্রসারণ, গৃহহীন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য গৃহনির্মাণ (মুজিববর্ষের প্রধান কার্যক্রম), শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নসহ সার্বিক মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়া হবে।