চাঁদপুর জেলায় এ বছর শাক-সবজির চাষাবাদ হয়েছে ৫ হাজার ২১০ হেক্টর এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৮ হাজার ৮৮৯ মে. টন। ডিসেম্বর থেকে মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত এ শাক সবজি উৎপাদন হয়ে থাকে। চাঁদপুর দেশের অন্যতম নদীবিধৌত কৃষি প্রধান অঞ্চল। পদ্মা, মেঘনা, মেঘনা ধনাগোদা ও ডাকাতিয়া নদী এ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওযায় রবি, আউস, আমন ও বোরোর মত কৃষি উৎপাদনে নদী অববাহিকায় ব্যাপক শাক-শবজি উৎপাদন হয়ে থাকে।
এ বছর চাঁদপুরে ৮ উপজেলায় ১ লাখ ৮ হাজার ৮৮৯ মে. টন শাক-সবজির উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ি চাঁদপুরের সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর সদরে চাষাবাদ লক্ষ্যমাত্রা হয়েছে ১ হাজার ৭০ হেক্টর এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ হাজার ৩৬৩ মে.টন। মতলব উত্তরে চাষাবাদ লক্ষ্যমাত্রা হয়েছে ৯৫০ হেক্টর এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ হাজার ৮৫৫ মে.টন। মতলব দক্ষিণে চাষাবাদ লক্ষ্যমাত্রা হয়েছে ২৭০ হেক্টর, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৬৪৩ মে.টন।
হাজীগঞ্জে চাষাবাদ লক্ষ্যমাত্রা হয়েছে ৬১৫ হেক্টর এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৬২ মে. টন। শাহরাস্তিতে চাষাবাদ লক্ষ্যমাত্রা হয়েছে ৩৯৫ হেক্টর এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ২৫৬ মে.টন। কচুয়ায় চাষাবাদ লক্ষ্যমাত্রা হয়েছে ৪১০ হেক্টর এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ১৩২ মে.টন। ফরিদগঞ্জে চাষাবাদ লক্ষ্যমাত্রা হয়েছে ৭৮০ হেক্টর এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৩০২ মে.টন। হাইমচরে চাষাবাদ লক্ষ্যমাত্রা হয়েছে ৭১০ হেক্টর এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৮৩৯ মে.টন। শাক-সবজির মধ্যে রয়েছে -ফুলকপি, বাধাকপি, বেগুন, লাল শাক, লাউ, কুমড়া, শিম, মূলা, গাঁজর, খিরা, টমেটো, করলা, উস্তা, পালং শাক, ধনিয়া, বরবটি প্রভৃতি।
চাঁদপুর সদরের কৃষক আবুল হোসেন বিজনেস বাংলাদেশকে জানান, তিনি ২ একর জমিতে লাউ ও ১.৩০ একর জমিতে কুমড়া চাষ করেছেন। এবছর আবহাওয়ার অনুকূল পরিবেশ থাকায় তার জমিতে বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষি বিভাগ নিয়মিত যোগাযোগ রেখে পরামর্শ দিয়েছে এবং পরিবহন সুবিধার জন্য ভালো দাম পেয়েছি। ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুরের কৃষক আমিন মিয়া ২.৫০ একর জমিতে ফুল কপি বাধা কফির চাষ করেছি। এবার জমিতে উৎপাদন ভালো হয়েছে এবং দামও ভালো পেয়েছি। আমার জমি তৈরি, বীজ, সার, কীটনাশক, পরিচর্যাসহ ব্যয় হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। আমি ৭৫ ভাগ বিক্রি করেছি ১ লাখ ৫ হাজার টাকা। অন্যান্য জমিতে আছে ২৫ ভাগের মত, তাতেও ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা আসবে। কারণ এখন বাজার ভালো আর সাথী ফসল আখ লাগিয়েছি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ি চাঁদপুরের উপ- পরিচালক আলি আহমেদ জানান, এ বছর চাঁদপুরে ৮ উপজেলায় ১ লাখ ৮ হাজার ৮৮৯ মে. টন শাক-সবজির উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি আমরা, চাঁদপুর কৃষকদের শাক-সবজি চাষে আগ্রহ, কৃষি বিভাগের উৎপাদনের বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রদান, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতকরণ, কৃষিউপকরণ পেতে সহজলভ্যতা, বীজ, সার ও কীটনাশকের দাম হাতের নাগালে থাকা, ও তা ব্যবহারে কৃষিবিদদের পরামর্শ, ব্যাংক থেকে কৃষিঋণ প্রদান ইত্যাদি কারণে চাঁদপুরের চাষীরা ব্যাপক হারে বাণিজ্যিকভাবে শাকসবজির চাষ করছে।
কৃষিবিদ আলি আহমেদ বিজনেস বাংলাদেশকে আরো জানান, বিশেষ করে চাঁদপুরের ১১টি চরাঞ্চলে এ শাকসবজি ব্যাপকভাবে চরবাসীরা উৎপান করে থাকে। চাঁদপুরে ধান, পাট, আলু, সয়াবিন, পেঁয়াজ, রসুন, সরিষা, মরিচের পরেই শাকসবজির স্থান। শাকসবজি এখন বেশ লাভজনক হয়ে উঠেছে। চরাঞ্চলগুলো হলো- মতলবের চরইলিয়ট, চর কাসিম, ষষ্ট খন্ড বোরোচর, চাঁদপুর সদরের রাজরাজেস্বর, লগ্নিমারা জাহাজমারা, বাঁশগাড়ি, চিড়ারচর, চর ফতেজংগপুর, হাইমচরের ঈশানবালা, চরগাজীপুর, চর মনিপুর, মধ্যচর, মাঝিরবাজার চর, সাহেব বাজার চর ও চরভৈরবির বাবুরচর।























