১২:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

কর্ণফুলীতে বঙ্গবন্ধু টানেল: স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা

আর দেড় বছর বাকি। এই সময়ের মধ্যেই চীনের সাংহাই সিটির মতো বন্দর নগরী চট্টগ্রামে গড়ে উঠছে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেই চট্টগ্রাম মহানগরীর পাশাপাশি নদীর অপর তীরে আনোয়ারা-কর্ণফুলী এলাকায় গড়ে উঠবে আরও একটি নতুন শহর। নতুন এই শহরের অবকাঠামো একের পর এক নির্মিত হচ্ছে। আগামী ২০২২ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগিয়ে যাওয়া দেশের আলোচিত এই মেগা প্রকল্প ‘বঙ্গবন্ধু টানেল’ নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে ৭৭ শতাংশ হয়েছে। চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা প্রান্ত থেকে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ হয়ে নদীর ওপারে আনোয়ারা পর্যন্ত একটি টিউব পরিপূর্ণভাবে স্থাপন হয়েছে। দ্বিতীয় টিউব স্থাপনের কাজও প্রায় শেষের পথে। অপর দিকে স্থাপিত টিউবের ভেতর দিয়ে এখন চলছে পিচঢালা সড়ক নির্মাণের কাজ। এই টানেলের দুটি টিউবে নির্মিত হবে চার লেনের সড়ক। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেলের প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশিদ চৌধুরী রাইজিংবিডিকে জানান, চীনের সুদক্ষ প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে কর্ণফুলী টানেলের নির্মাণকাজ। লকডাউন পরিস্থিতির মধ্যেও টানেলের কাজ একদিনও বন্ধ ছিল না। গত বছরের নভেম্বর মাসেই টানেলের পতেঙ্গা থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত প্রথম টিউব স্থাপন কাজ সম্পন্ন হয়। একই বছরের ডিসেম্বর মাস থেকেই আনোয়ারা প্রান্ত থেকে পতেঙ্গামুখী দ্বিতীয় টিউব স্থাপনের জন্য নদীর তলদেশে টিবিএম মেশিনের মাধ্যমে বোরিং কার্যক্রম শুরু হয়ে এখন প্রায় শেষের পথে। অপর দিকে স্থাপিত হওয়া প্রথম টিউবের ভেতর দিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পিচঢালা সড়ক নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রকল্পের প্রায় ৭৭ শতাংশ কাজ হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক জানান, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে স্থানীয় শ্রমিক নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা হলেও বর্তমানে কাজে বাড়তি জনবল এবং অত্যাধুনিক নানা যন্ত্রপাতি, মেশিনারিজ সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে কাজের গতি বেড়েছে। আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কর্ণফুলী টানেলের ভেতর দিয়ে গাড়ি চলাচলের লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, টানেলকে ঘিরে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হবে। ৩ দশমিক ৪০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে মূল টানেলের সঙ্গে পতেঙ্গা এবং আনোয়ারা প্রান্তে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মিত হচ্ছে। সংযোগ সড়ক ও টানেলের ভেতরের সড়ক হবে সর্বমোট ৪ লেনের। এর মধ্যে ওয়ান ওয়ে একটি টানেলে সড়ক থাকবে দুই লেনের। একটি টিউবের সড়ক দিয়ে আনোয়ারা থেকে পতেঙ্গা অভিমুখী এবং অপর টিউব দিয়ে পতেঙ্গা থেকে আনোয়ারা অভিমুখী যানবাহন চলাচল করবে। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে প্রতিটি টিউব চওড়া ১০ দশমিক ৮ মিটার বা ৩৫ ফুট এবং উচ্চতা ৪ দশমিক ৮ মিটার বা প্রায় ১৬ ফুট। একটি টিউব থেকে অপর টিউবের পাশাপাশি দূরত্ব প্রায় ১২ মিটার। টানেলের প্রস্ত ৭০০ মিটার। এবং দৈর্ঘ্য তিন হাজার ৪০০ মিটার। বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দিচ্ছে চার হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। বাকি পাঁচ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা দিচ্ছে চীন সরকার। চীনের কমিউনিকেশন ও কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসি) টানেল নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নোবেল পদক উপহার পেয়ে যা বললেন ট্রাম্প

কর্ণফুলীতে বঙ্গবন্ধু টানেল: স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা

প্রকাশিত : ১২:০১:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ মে ২০২১

আর দেড় বছর বাকি। এই সময়ের মধ্যেই চীনের সাংহাই সিটির মতো বন্দর নগরী চট্টগ্রামে গড়ে উঠছে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেই চট্টগ্রাম মহানগরীর পাশাপাশি নদীর অপর তীরে আনোয়ারা-কর্ণফুলী এলাকায় গড়ে উঠবে আরও একটি নতুন শহর। নতুন এই শহরের অবকাঠামো একের পর এক নির্মিত হচ্ছে। আগামী ২০২২ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগিয়ে যাওয়া দেশের আলোচিত এই মেগা প্রকল্প ‘বঙ্গবন্ধু টানেল’ নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে ৭৭ শতাংশ হয়েছে। চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা প্রান্ত থেকে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ হয়ে নদীর ওপারে আনোয়ারা পর্যন্ত একটি টিউব পরিপূর্ণভাবে স্থাপন হয়েছে। দ্বিতীয় টিউব স্থাপনের কাজও প্রায় শেষের পথে। অপর দিকে স্থাপিত টিউবের ভেতর দিয়ে এখন চলছে পিচঢালা সড়ক নির্মাণের কাজ। এই টানেলের দুটি টিউবে নির্মিত হবে চার লেনের সড়ক। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেলের প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশিদ চৌধুরী রাইজিংবিডিকে জানান, চীনের সুদক্ষ প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে কর্ণফুলী টানেলের নির্মাণকাজ। লকডাউন পরিস্থিতির মধ্যেও টানেলের কাজ একদিনও বন্ধ ছিল না। গত বছরের নভেম্বর মাসেই টানেলের পতেঙ্গা থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত প্রথম টিউব স্থাপন কাজ সম্পন্ন হয়। একই বছরের ডিসেম্বর মাস থেকেই আনোয়ারা প্রান্ত থেকে পতেঙ্গামুখী দ্বিতীয় টিউব স্থাপনের জন্য নদীর তলদেশে টিবিএম মেশিনের মাধ্যমে বোরিং কার্যক্রম শুরু হয়ে এখন প্রায় শেষের পথে। অপর দিকে স্থাপিত হওয়া প্রথম টিউবের ভেতর দিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পিচঢালা সড়ক নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রকল্পের প্রায় ৭৭ শতাংশ কাজ হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক জানান, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে স্থানীয় শ্রমিক নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা হলেও বর্তমানে কাজে বাড়তি জনবল এবং অত্যাধুনিক নানা যন্ত্রপাতি, মেশিনারিজ সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে কাজের গতি বেড়েছে। আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কর্ণফুলী টানেলের ভেতর দিয়ে গাড়ি চলাচলের লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, টানেলকে ঘিরে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হবে। ৩ দশমিক ৪০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে মূল টানেলের সঙ্গে পতেঙ্গা এবং আনোয়ারা প্রান্তে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মিত হচ্ছে। সংযোগ সড়ক ও টানেলের ভেতরের সড়ক হবে সর্বমোট ৪ লেনের। এর মধ্যে ওয়ান ওয়ে একটি টানেলে সড়ক থাকবে দুই লেনের। একটি টিউবের সড়ক দিয়ে আনোয়ারা থেকে পতেঙ্গা অভিমুখী এবং অপর টিউব দিয়ে পতেঙ্গা থেকে আনোয়ারা অভিমুখী যানবাহন চলাচল করবে। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে প্রতিটি টিউব চওড়া ১০ দশমিক ৮ মিটার বা ৩৫ ফুট এবং উচ্চতা ৪ দশমিক ৮ মিটার বা প্রায় ১৬ ফুট। একটি টিউব থেকে অপর টিউবের পাশাপাশি দূরত্ব প্রায় ১২ মিটার। টানেলের প্রস্ত ৭০০ মিটার। এবং দৈর্ঘ্য তিন হাজার ৪০০ মিটার। বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দিচ্ছে চার হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। বাকি পাঁচ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা দিচ্ছে চীন সরকার। চীনের কমিউনিকেশন ও কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসি) টানেল নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করছে।