১১:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে গাড়ি চালকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা ভাসানী ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসারদের পরিবহনের সুবিধা না দেয়ার জন্য গাড়ি চালকরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। শনিবার বিকেলে এক জরুরু সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানিয়েছেন তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী সমিতির সাধারন সম্পাদক মোঃ জাহিদুল ইসলাম।
জানা যায়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্বদানের সুযোগে অন্যদের ধোকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার মফিজুল ইসলাম মজনু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ কারণে কর্মকর্তাদের পরিবহনের সকল গাড়ি না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ১৯জন গাড়ি চালক। শনিবার বিকেলে এক জরুরী সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে যৌক্তিক আন্দোলনে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা পরামর্শের জন্য অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মজনুর কাছে গিয়ে থাকে। তৃতীয় শ্রেণীতে এডহক ভিত্তিতে কর্মরত কর্মচারীদের আন্দোলন, মাস্টাররোলে কর্মরত চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের আন্দোলন, ড্রাইভারদের বেতন স্কেল বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন আন্দোলনের সুযোগে শুধুমাত্র কর্মকর্তাদের সুযোগ সুবিধা আদায় করে অন্যদের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ মজনু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। চলতি বছরের আগস্ট মাসে অফিসার্স এসোসিয়েশনের চলতি কমিটির মেয়াদ শেষ হবে। মূলত আগামী নির্বাচনে নিজেকে সভাপতি পদে নির্বাচিত করার উদ্দেশ্যেই মজনু এমন করছেন বলে অনেকের অভিযোগ। কর্মচারীদের আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগের বাহানা করে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে পরবর্তীতে কোন সহযোগিতা না করে কর্মকর্তাদের স্বার্থ হাসিলের অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে। মজনু ও তার সহযোগীদের এ ধরনের কর্মকান্ডে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পরস্পর মুখোমুখি হয়ে গেছে বলে অনেকেই মনে করেন।
ড্রাইভার ও অন্যান্য টেকনিক্যাল পদের বেতন স্কেল বৃদ্ধির জন্য তারা বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার পরিচালক (হিসাব) মোঃ তোফাজ্জল হক, মজনু ও তার সহযোগী অফিসার্স এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক সাদৎ-আল-হারুন, হিসাব অফিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, সত্য সাহা, মোঃ ফারুক হোসেন ও মোহাম্মদ আবুল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তারা এ ব্যপারে সহযোগিতা করার আশ^াস প্রদান করে। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত রিজেন্ট বোর্ডের আগের দিন ২৯ জুন তাদের সাথে পুনরায় যোগাযোগ করলে একই রকম আশ^াস প্রদান করলেও এ ব্যপারে তারা কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
এ বিষয়ে এডহক ভিত্তিতে কর্মরত ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী এস.এম. মাহফুজুর রহমান মাসুদ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ তৃতীয় শ্রেণীতে এডহক ভিত্তিতে কর্মরত কর্মচারীদের চাকুরী স্থায়ীকরণের জন্য আন্দোলন করি। ৬ জুন রাতে আমরা মজনুর আশ্বাসে সারাদিন বসে থাকি পরে রাতে খোজ নিয়ে জানতে পারি আমাদের কোন কাজই হয়নি।
সুমন মিয়া নামের এক গাড়ি চালক বলেন, আমরা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অফিসারদের বিরুদ্ধে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছি। অন্যান্য সকলকে পরিবহনের সুবিধা দেয়া হবে।
অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার মফিজুল ইসলাম মজনু বলেন, গাড়িচালকদের ধর্মঘট অযৌক্তিক। তাদের অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই। তারা বেতন স্কেল বাড়ানোর বিষয়ে কোন স্মারকলিপি বা আবেদনই করেননি।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে গাড়ি চালকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

প্রকাশিত : ০৪:০৩:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জুলাই ২০২১

টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা ভাসানী ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসারদের পরিবহনের সুবিধা না দেয়ার জন্য গাড়ি চালকরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। শনিবার বিকেলে এক জরুরু সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানিয়েছেন তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী সমিতির সাধারন সম্পাদক মোঃ জাহিদুল ইসলাম।
জানা যায়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্বদানের সুযোগে অন্যদের ধোকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার মফিজুল ইসলাম মজনু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ কারণে কর্মকর্তাদের পরিবহনের সকল গাড়ি না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ১৯জন গাড়ি চালক। শনিবার বিকেলে এক জরুরী সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে যৌক্তিক আন্দোলনে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা পরামর্শের জন্য অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মজনুর কাছে গিয়ে থাকে। তৃতীয় শ্রেণীতে এডহক ভিত্তিতে কর্মরত কর্মচারীদের আন্দোলন, মাস্টাররোলে কর্মরত চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের আন্দোলন, ড্রাইভারদের বেতন স্কেল বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন আন্দোলনের সুযোগে শুধুমাত্র কর্মকর্তাদের সুযোগ সুবিধা আদায় করে অন্যদের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ মজনু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। চলতি বছরের আগস্ট মাসে অফিসার্স এসোসিয়েশনের চলতি কমিটির মেয়াদ শেষ হবে। মূলত আগামী নির্বাচনে নিজেকে সভাপতি পদে নির্বাচিত করার উদ্দেশ্যেই মজনু এমন করছেন বলে অনেকের অভিযোগ। কর্মচারীদের আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগের বাহানা করে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে পরবর্তীতে কোন সহযোগিতা না করে কর্মকর্তাদের স্বার্থ হাসিলের অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে। মজনু ও তার সহযোগীদের এ ধরনের কর্মকান্ডে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পরস্পর মুখোমুখি হয়ে গেছে বলে অনেকেই মনে করেন।
ড্রাইভার ও অন্যান্য টেকনিক্যাল পদের বেতন স্কেল বৃদ্ধির জন্য তারা বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার পরিচালক (হিসাব) মোঃ তোফাজ্জল হক, মজনু ও তার সহযোগী অফিসার্স এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক সাদৎ-আল-হারুন, হিসাব অফিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, সত্য সাহা, মোঃ ফারুক হোসেন ও মোহাম্মদ আবুল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তারা এ ব্যপারে সহযোগিতা করার আশ^াস প্রদান করে। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত রিজেন্ট বোর্ডের আগের দিন ২৯ জুন তাদের সাথে পুনরায় যোগাযোগ করলে একই রকম আশ^াস প্রদান করলেও এ ব্যপারে তারা কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
এ বিষয়ে এডহক ভিত্তিতে কর্মরত ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী এস.এম. মাহফুজুর রহমান মাসুদ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ তৃতীয় শ্রেণীতে এডহক ভিত্তিতে কর্মরত কর্মচারীদের চাকুরী স্থায়ীকরণের জন্য আন্দোলন করি। ৬ জুন রাতে আমরা মজনুর আশ্বাসে সারাদিন বসে থাকি পরে রাতে খোজ নিয়ে জানতে পারি আমাদের কোন কাজই হয়নি।
সুমন মিয়া নামের এক গাড়ি চালক বলেন, আমরা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অফিসারদের বিরুদ্ধে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছি। অন্যান্য সকলকে পরিবহনের সুবিধা দেয়া হবে।
অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার মফিজুল ইসলাম মজনু বলেন, গাড়িচালকদের ধর্মঘট অযৌক্তিক। তাদের অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই। তারা বেতন স্কেল বাড়ানোর বিষয়ে কোন স্মারকলিপি বা আবেদনই করেননি।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ