০৬:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

যেখানে বড় হয়েছেন পরিমনি

দেশের সমলোচিত চিত্র নায়িকা পরিমনির পিরোজপুরের মেয়ে। তিনি এখন টক অব দ্যা কান্ট্রি। তিনি জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের শিংখালী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সেখানে মামা বাড়িতে থেকে বড় হয়েছেন। তার পুরো নাম শামসুন নাহার স্মৃতি।

স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও পিরোজপুর জেলা পরিষদ সদস্য মো. আব্দুল হাই হাওলাদার জানান, পরিমনি’র বাড়ি এখানে না হলেও তিনি নানা মোঃ শামসুল হক গাজীর বাড়িতে থেকে লেখাপড়া সহ বেড়ে উঠেছেন। তবে তার বাড়ি নড়াইল জেলার লোহগড়া উপজেলার সালাবাদ গ্রামে। তার পিতা মনিরুল ইসলাম ছিলেন একজন পুলিশ কনেষ্টবল।

স্থানীয় একাধীক সূত্র জানান, তার শিশুকালে তার মা সালমা সুলতানার মৃত্যু হয়। মায়ের মৃত্যুর পর পিতা-মাতার একমাত্র কন্য শামসুন নাহার স্মৃতি ওরফে পরিমনিকে তার নানা মোঃ শামসুল হক গাজী তাদের ভান্ডারিয়ার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন । তিনি ছিলেন অত্যান্ত মেধাবী ছাত্রী। কিন্তু গরীব হওয়ায় কোন প্রাইভেট পড়তে পারেন নি। তার পরও তিনি ভগিরাতপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত হন। মামা বাড়িতে থেকে পার্শ্ববর্তী মঠবাড়িয়া উপজেলার ভগিরাথপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১০ সালে প্রথম এসএসসি পরীক্ষা দিলেও তখন তিনি ফেল করেন। পরের বছর ২০১১সালে একই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। পরিমনির নানা বাড়িও অত্যান্ত গরীব হওয়ায় গত ২ বছর আগে নানাকে বাড়িতে একটি সুদুশ্য বিল্ডিং করে দেন।

পরিমনির নানা শামসুল হক গাজী জানান, পরিমনির মায়ের মৃত্যুর পর তাকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসি। সে আমাদের বাড়িতে থেকে স্থানীয় স্কুলে লেখা-পড়া করে এসএসসি পাশ করে। পরে স্থানীয় একটি কলেজে ভর্তি হলেও বরিশালে থাকা খালাতো ভাই ইসমাইল হোসেনের সাথে বিয়ে হয়। সেখানে ২ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর বিচ্ছিন্ন হয়।
স্থানীয়রা জানান, উৎশৃঙ্খল জীবনের কারনে খালাতো ভাইয়ের সাথে ডিভোর্স হওয়ার পরে ২০১৯ সালে দ্বিতীয় ও ২০২০ সালে তৃতীয় বিয়ে হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মঠবাড়িয়ার ভগিরাথপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তার এক সহপাঠী জানান, ছাত্রজীবন থেকে শামসুন নাহার স্মৃতি ওরফে পরিমনি ছিলেন উচ্চাভিলাসী উৎশৃঙ্খল। তাকে আমরা স্মৃতি নামে চিনতাম। তবে এসএসসি’র নিবন্ধনে তার নাম ছিলো শামসুন নাহার।

জানা গেছে, অত্যান্ত গরীব পরিবারের কন্যা শামসুন নাহার স্মৃতি ওরফে পরিমনি পেটের টানে চলে যান ঢাকায়। সেখানে চিত্র জগতে প্রবেশ করেন। প্রথমে ভালো পরিচিতি লাভ না করলেও পরে ‘বিশ্ব সুন্দরী’ নামে একটি ফিল্মে নায়িকার অভিনয় করে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

এএসআই পিয়ারুল হত্যা: আসামি পলাশের ফাঁসির আদেশ

যেখানে বড় হয়েছেন পরিমনি

প্রকাশিত : ০৯:১০:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ অগাস্ট ২০২১

দেশের সমলোচিত চিত্র নায়িকা পরিমনির পিরোজপুরের মেয়ে। তিনি এখন টক অব দ্যা কান্ট্রি। তিনি জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের শিংখালী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সেখানে মামা বাড়িতে থেকে বড় হয়েছেন। তার পুরো নাম শামসুন নাহার স্মৃতি।

স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও পিরোজপুর জেলা পরিষদ সদস্য মো. আব্দুল হাই হাওলাদার জানান, পরিমনি’র বাড়ি এখানে না হলেও তিনি নানা মোঃ শামসুল হক গাজীর বাড়িতে থেকে লেখাপড়া সহ বেড়ে উঠেছেন। তবে তার বাড়ি নড়াইল জেলার লোহগড়া উপজেলার সালাবাদ গ্রামে। তার পিতা মনিরুল ইসলাম ছিলেন একজন পুলিশ কনেষ্টবল।

স্থানীয় একাধীক সূত্র জানান, তার শিশুকালে তার মা সালমা সুলতানার মৃত্যু হয়। মায়ের মৃত্যুর পর পিতা-মাতার একমাত্র কন্য শামসুন নাহার স্মৃতি ওরফে পরিমনিকে তার নানা মোঃ শামসুল হক গাজী তাদের ভান্ডারিয়ার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন । তিনি ছিলেন অত্যান্ত মেধাবী ছাত্রী। কিন্তু গরীব হওয়ায় কোন প্রাইভেট পড়তে পারেন নি। তার পরও তিনি ভগিরাতপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত হন। মামা বাড়িতে থেকে পার্শ্ববর্তী মঠবাড়িয়া উপজেলার ভগিরাথপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১০ সালে প্রথম এসএসসি পরীক্ষা দিলেও তখন তিনি ফেল করেন। পরের বছর ২০১১সালে একই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। পরিমনির নানা বাড়িও অত্যান্ত গরীব হওয়ায় গত ২ বছর আগে নানাকে বাড়িতে একটি সুদুশ্য বিল্ডিং করে দেন।

পরিমনির নানা শামসুল হক গাজী জানান, পরিমনির মায়ের মৃত্যুর পর তাকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসি। সে আমাদের বাড়িতে থেকে স্থানীয় স্কুলে লেখা-পড়া করে এসএসসি পাশ করে। পরে স্থানীয় একটি কলেজে ভর্তি হলেও বরিশালে থাকা খালাতো ভাই ইসমাইল হোসেনের সাথে বিয়ে হয়। সেখানে ২ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর বিচ্ছিন্ন হয়।
স্থানীয়রা জানান, উৎশৃঙ্খল জীবনের কারনে খালাতো ভাইয়ের সাথে ডিভোর্স হওয়ার পরে ২০১৯ সালে দ্বিতীয় ও ২০২০ সালে তৃতীয় বিয়ে হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মঠবাড়িয়ার ভগিরাথপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তার এক সহপাঠী জানান, ছাত্রজীবন থেকে শামসুন নাহার স্মৃতি ওরফে পরিমনি ছিলেন উচ্চাভিলাসী উৎশৃঙ্খল। তাকে আমরা স্মৃতি নামে চিনতাম। তবে এসএসসি’র নিবন্ধনে তার নাম ছিলো শামসুন নাহার।

জানা গেছে, অত্যান্ত গরীব পরিবারের কন্যা শামসুন নাহার স্মৃতি ওরফে পরিমনি পেটের টানে চলে যান ঢাকায়। সেখানে চিত্র জগতে প্রবেশ করেন। প্রথমে ভালো পরিচিতি লাভ না করলেও পরে ‘বিশ্ব সুন্দরী’ নামে একটি ফিল্মে নায়িকার অভিনয় করে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর