০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

রুপালি ইলিশে জেলেদের হাসি

টানা ৬৫ দিন সাগরে মাছ ধরার সরকারি নিষেধাজ্ঞা ছিলো। সরকারি এ আদেশ জেলেরা মেনে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটিয়ে ইলিশের মৌসুমে মনে আশা বুনেছিলো ভালো কিছুর। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর জেলেরা সাগরে মাছ ধরার জন্য নেমে পড়েন। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলেরা প্রত্যাশিত ইলিশ না পেয়ে অনেকটা শূন হাতে তীরে ফিরে আসতো।

মহাজন ও ফিশিং বোট মালিকদের কাছ থেকে অগ্রিম নেওয়া কিভাবে শোধ করবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ে তাদের। কিস্তু চলতি সপ্তাহে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ ধরা পড়ায় চিন্তা কমতে শুরু করেছে। কাঙ্ক্ষিত রুপালী ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফিরছেন জেলেরা। এতে তাদের মুখে প্রশান্তির হাসি দেখা গেছে।

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার উপকূলে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ নিয়ে ফিরছে মাছ ধরার ট্রলারগুলো। ট্রলার ভর্তি বড় বড় রুপালি ইলিশ নিয়ে হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটে ফিরছেন তারা। জেলেরা জানান, সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার দেড় মাস পর চলতি সপ্তাহে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশ। প্রতিটি ট্রলারে ৮০০ গ্রাম থেকে প্রায় দুই কেজি ওজনের প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে।

যার কারণে দামও ভাল পাচ্ছেন তারা। কর্মব্যস্ততা বাড়ায় খুশি জেলে, ট্রলার মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা। দিন যতই এগুচ্ছে, বাড়ছে সাগরে ইলিশ আহরণ। মাছগুলোর আকারও অনেক বড়। হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাট ঘুরে দেখা গেছে, ঘাটে এখন উৎসবের আমেজ। চলতি সপ্তাহে জেলে ও ব্যবসায়ীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে ঘাট এলাকা। সাগর থেকে ট্রলার ভর্তি ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফিরছেন জেলেরা।

ঘাট থেকে মোকামে তোলা হচ্ছে ছোট-বড় ইলিশ। ব্যবসায়ীদের হাঁকডাক ও বেচা-বিক্রিতে সরগরম হয়ে ওঠেছে চেয়ারম্যান ঘাট। অনেক ব্যবসায়ী কাঙ্ক্ষিত দাম পেয়ে ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠাচ্ছেন ইলিশের চালান। বঙ্গোপসাগর থেকে ১৪ দিন পর ঘাটে ফিরেছে আল্লাহর দান নামে একটি ফিশিং বোট। বড় মাছ পেয়ে খুশি বোটের জেলেরা। বড় ইলিশ মাছ পাচ্ছে উল্লেখ করে বোটের আমিন মাঝি বলেন, ‘আমরা এখন যে ইলিশ মাছ পাইতেছি তা দেড় কেজির উপরে।

ছোট ইলিশ কম পাই। বড় পাছ পাওয়ায় দামও ভাল পাওয়া যাবে।’গভীর সমুদ্র থেকে ফিশিং বোট নিয়ে আসা হোসেন মাঝি বলেন, ‘গভীর সমুদ্রে গেলে বড় বড় মাছ পাওয়া যায় এবং সেগুলো দেড় থেকে দুই কেজির। মাছগুলোর বয়স দেড় থেকে দুই বছরের। খুব ভাল দাম পাবো আশা করছি।’

চেয়ারম্যান ঘাটের ইলিশের ব্যবসায়ী মাসুম বলেন, ‘বর্তমানে ইলিশ মাছের চাহিদা বেশি আছে। দেড় দুই বছরের বড় বড় ইলিশ মাছ আছে। এই ঘাটে আমরা মাছ কিনে শান্তি পাই। এখানে জেলা আর বেপারীরা ভাল দামে মাছ বেঁচা-কেনা করতে পারেন। গভীর সমুদ্রে বড় বড় মাছ পাওয়া যাচ্ছে।’চেয়ারম্যান ঘাটের মেসার্স মামুন এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী মো. মাইন উদ্দিন জানান, এখন অনেক বড় বড় মাছ ধরা পড়ছে। মৌসুমের শুরুর দিকে এতো মাছ ছিলো না।

বর্তমানে অনেক মাছ জালে আসছে। মাছগুলোর ওজন ৮০০ গ্রাম থেকে প্রায় দুই কেজির। চেয়ারম্যান ঘাটের ইলিশের ব্যবসায়ী মো. আজাদ জানান, হাতিয়া দ্বীপ মেঘনা নদী বেষ্ঠিত। এখানে ছয় মাস লবণ পানি থাকে এবং ছয় মাস মিষ্টি পানি থাকে। তাই হাতিয়ার ইলিশ অনেক সুস্বাদু। মেঘনার ইলিশের চাহিদা দেশের সব জায়গায় বেশি। জেলা শহর থেকে ইলিশ কিনতে চেয়ারম্যান ঘাটে এসেছেন মোজাম্মেল নামের একজন।

এতদূর এসেছেন কেন প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, ‘শহরে তো তাজা ইলিশ পাবো না। তাই অটো রিজার্ভ করে চলে এলাম। এখানে ইলিশ মাছের দামও সস্তা এবং সাইজেও বড়।’হাতিয়ার হরনী ইউনিয়নের বাসিন্দা আশরাফ হোসেন জানান, হাতিয়া উপজেলায় প্রায় ১ লাখ থেকে দেড় লাখ জেলে ইলিশ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। এখন মাছের জমজমাট মৌসুম। যখন নিষেধাজ্ঞা থাকে তখন সরকার জেলেদের যে সুযোগ সুবিধা দেয় তাতে জেলেদের মোটামুটি চলে।

তবে তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যক জেলে সরকারি সুযোগ সুবিধা পায়। নিবন্ধন নাই এমন জেলের সংখ্যাই বেশি। হাতিয়া মৎস্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল জানান, হাতিয়া উপকূলের ৫০০ ফিশিং বোট সাগরে মাছ আহরণ করে। প্রায় ১ সপ্তাহ ধরে নদীতে অনেক মাছ ধরা পড়ছে। আগে এই উপকূলে মাছ শিকারে গেলে ডাকাতের কবলে পড়তো জেলেরা। কিন্তু সাগরে কোস্টগার্ডের তৎপরতায় বর্তমানে ডাকাত নেই।

জেলেরা নির্বিঘ্নে মাছ ধরতে পারছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ডা. মোতালেব হোসেন জানান, জেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৪০ হাজার ৮২ জন। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে মোহনায় মাছ ধরতে জেলেরা আসে। জেলেদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির জন্য তথ্যের হালনাগাদ শুরু করা হয়েছে। যেসব জেলেরা পেশা পরিবর্তন করেছে অথবা মারা গেছেন তাদের স্থানে নতুনদের নাম যুক্ত করা হবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরও জানান, শুধু ইলিশ না যেকোনো মাছ তার পরিবেশ অনুযায়ী স্বাদ ভিন্ন হয়। আমরা খুব ভাগ্যবান যে এই মোহনার পানি স্বাদু ও সামুদ্রিক পানি মিশ্রিত। যা ইলিশের জন্য খুব ভাল। এতে করে মাছ অনেক স্বাদের হয়। এটা আমাদের জন্য আল্লাহর রহমত।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কুষ্টিয়ায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

রুপালি ইলিশে জেলেদের হাসি

প্রকাশিত : ১২:০০:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

টানা ৬৫ দিন সাগরে মাছ ধরার সরকারি নিষেধাজ্ঞা ছিলো। সরকারি এ আদেশ জেলেরা মেনে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটিয়ে ইলিশের মৌসুমে মনে আশা বুনেছিলো ভালো কিছুর। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর জেলেরা সাগরে মাছ ধরার জন্য নেমে পড়েন। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলেরা প্রত্যাশিত ইলিশ না পেয়ে অনেকটা শূন হাতে তীরে ফিরে আসতো।

মহাজন ও ফিশিং বোট মালিকদের কাছ থেকে অগ্রিম নেওয়া কিভাবে শোধ করবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ে তাদের। কিস্তু চলতি সপ্তাহে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ ধরা পড়ায় চিন্তা কমতে শুরু করেছে। কাঙ্ক্ষিত রুপালী ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফিরছেন জেলেরা। এতে তাদের মুখে প্রশান্তির হাসি দেখা গেছে।

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার উপকূলে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ নিয়ে ফিরছে মাছ ধরার ট্রলারগুলো। ট্রলার ভর্তি বড় বড় রুপালি ইলিশ নিয়ে হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটে ফিরছেন তারা। জেলেরা জানান, সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার দেড় মাস পর চলতি সপ্তাহে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশ। প্রতিটি ট্রলারে ৮০০ গ্রাম থেকে প্রায় দুই কেজি ওজনের প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে।

যার কারণে দামও ভাল পাচ্ছেন তারা। কর্মব্যস্ততা বাড়ায় খুশি জেলে, ট্রলার মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা। দিন যতই এগুচ্ছে, বাড়ছে সাগরে ইলিশ আহরণ। মাছগুলোর আকারও অনেক বড়। হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাট ঘুরে দেখা গেছে, ঘাটে এখন উৎসবের আমেজ। চলতি সপ্তাহে জেলে ও ব্যবসায়ীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে ঘাট এলাকা। সাগর থেকে ট্রলার ভর্তি ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফিরছেন জেলেরা।

ঘাট থেকে মোকামে তোলা হচ্ছে ছোট-বড় ইলিশ। ব্যবসায়ীদের হাঁকডাক ও বেচা-বিক্রিতে সরগরম হয়ে ওঠেছে চেয়ারম্যান ঘাট। অনেক ব্যবসায়ী কাঙ্ক্ষিত দাম পেয়ে ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠাচ্ছেন ইলিশের চালান। বঙ্গোপসাগর থেকে ১৪ দিন পর ঘাটে ফিরেছে আল্লাহর দান নামে একটি ফিশিং বোট। বড় মাছ পেয়ে খুশি বোটের জেলেরা। বড় ইলিশ মাছ পাচ্ছে উল্লেখ করে বোটের আমিন মাঝি বলেন, ‘আমরা এখন যে ইলিশ মাছ পাইতেছি তা দেড় কেজির উপরে।

ছোট ইলিশ কম পাই। বড় পাছ পাওয়ায় দামও ভাল পাওয়া যাবে।’গভীর সমুদ্র থেকে ফিশিং বোট নিয়ে আসা হোসেন মাঝি বলেন, ‘গভীর সমুদ্রে গেলে বড় বড় মাছ পাওয়া যায় এবং সেগুলো দেড় থেকে দুই কেজির। মাছগুলোর বয়স দেড় থেকে দুই বছরের। খুব ভাল দাম পাবো আশা করছি।’

চেয়ারম্যান ঘাটের ইলিশের ব্যবসায়ী মাসুম বলেন, ‘বর্তমানে ইলিশ মাছের চাহিদা বেশি আছে। দেড় দুই বছরের বড় বড় ইলিশ মাছ আছে। এই ঘাটে আমরা মাছ কিনে শান্তি পাই। এখানে জেলা আর বেপারীরা ভাল দামে মাছ বেঁচা-কেনা করতে পারেন। গভীর সমুদ্রে বড় বড় মাছ পাওয়া যাচ্ছে।’চেয়ারম্যান ঘাটের মেসার্স মামুন এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী মো. মাইন উদ্দিন জানান, এখন অনেক বড় বড় মাছ ধরা পড়ছে। মৌসুমের শুরুর দিকে এতো মাছ ছিলো না।

বর্তমানে অনেক মাছ জালে আসছে। মাছগুলোর ওজন ৮০০ গ্রাম থেকে প্রায় দুই কেজির। চেয়ারম্যান ঘাটের ইলিশের ব্যবসায়ী মো. আজাদ জানান, হাতিয়া দ্বীপ মেঘনা নদী বেষ্ঠিত। এখানে ছয় মাস লবণ পানি থাকে এবং ছয় মাস মিষ্টি পানি থাকে। তাই হাতিয়ার ইলিশ অনেক সুস্বাদু। মেঘনার ইলিশের চাহিদা দেশের সব জায়গায় বেশি। জেলা শহর থেকে ইলিশ কিনতে চেয়ারম্যান ঘাটে এসেছেন মোজাম্মেল নামের একজন।

এতদূর এসেছেন কেন প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, ‘শহরে তো তাজা ইলিশ পাবো না। তাই অটো রিজার্ভ করে চলে এলাম। এখানে ইলিশ মাছের দামও সস্তা এবং সাইজেও বড়।’হাতিয়ার হরনী ইউনিয়নের বাসিন্দা আশরাফ হোসেন জানান, হাতিয়া উপজেলায় প্রায় ১ লাখ থেকে দেড় লাখ জেলে ইলিশ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। এখন মাছের জমজমাট মৌসুম। যখন নিষেধাজ্ঞা থাকে তখন সরকার জেলেদের যে সুযোগ সুবিধা দেয় তাতে জেলেদের মোটামুটি চলে।

তবে তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যক জেলে সরকারি সুযোগ সুবিধা পায়। নিবন্ধন নাই এমন জেলের সংখ্যাই বেশি। হাতিয়া মৎস্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল জানান, হাতিয়া উপকূলের ৫০০ ফিশিং বোট সাগরে মাছ আহরণ করে। প্রায় ১ সপ্তাহ ধরে নদীতে অনেক মাছ ধরা পড়ছে। আগে এই উপকূলে মাছ শিকারে গেলে ডাকাতের কবলে পড়তো জেলেরা। কিন্তু সাগরে কোস্টগার্ডের তৎপরতায় বর্তমানে ডাকাত নেই।

জেলেরা নির্বিঘ্নে মাছ ধরতে পারছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ডা. মোতালেব হোসেন জানান, জেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৪০ হাজার ৮২ জন। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে মোহনায় মাছ ধরতে জেলেরা আসে। জেলেদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির জন্য তথ্যের হালনাগাদ শুরু করা হয়েছে। যেসব জেলেরা পেশা পরিবর্তন করেছে অথবা মারা গেছেন তাদের স্থানে নতুনদের নাম যুক্ত করা হবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরও জানান, শুধু ইলিশ না যেকোনো মাছ তার পরিবেশ অনুযায়ী স্বাদ ভিন্ন হয়। আমরা খুব ভাগ্যবান যে এই মোহনার পানি স্বাদু ও সামুদ্রিক পানি মিশ্রিত। যা ইলিশের জন্য খুব ভাল। এতে করে মাছ অনেক স্বাদের হয়। এটা আমাদের জন্য আল্লাহর রহমত।