০৪:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

ডোনাররা চলে গেলে দেশ নিজের সম্পদে চলতে পারবে: পরিকল্পনামন্ত্রী

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, শুরুতে নানান নীতিমালার কথা বলে ডোনার সাহেবরা মাঝপথে ভাসিয়ে দিয়ে চলে যায়। কিন্তু বর্তমানে আমাদের অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে। মাঝপথে ভাসিয়ে দিয়ে যদি ডোনার আমাদের থেকে বিদায় নেন তাহলেও আমরা পারবো। বাংলাদেশ নিজস্ব সম্পদ দিয়ে চলতে পারবে।

রোববার রাজধানীর মিরপুর আন্ডারপ্রিভিলেজড চিলড্রেনস এডুকেশনাল (ইউসেপ) বাংলাদেশে ‘মুজিব বর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও ইউসেপ এর গৌরবময় অভিযাত্রা’অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সক্ষমতা আছে, আমরা আর সহায়তা চাই না। তবে কেউ যদি সম্মানে আমাদের পাবলিককে সালাম দিয়ে কাজ করতে চায় তাহলে করুক।

ডোনাররা মাঝপথে নীতি পরিবর্তন করে ফেলে এটা আর করতে দেওয়া যাবে না। নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে চলে যাবে সেই দিন আর আমাদের নেই। এইগুলো আমাদের এড়িয়ে চলতে হবে। তিনি বলেন, ডোনার নীতিমালা পরিবর্তন করতেই পারে। তবে শেখ হাসিনা কখনও বলে না যে উনার নীতিমালা পরিবর্তন করেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মানবিক। আমাদের দেশের দায়িত্বগুলো শেষ বিচারে আমাদেরকেই বইতে হবে। এটাই আমাদের মূল কথা।

আমাদের নিজস্ব সম্পদ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। আমাদের লাখ লাখ মানুষ কাজ করছে। কাজ করছে বলেই সম্পদ বেড়েছে। বক্তৃতা দিয়ে কোন সম্পদ সৃষ্টি হয় না। সম্পদ সৃষ্টি করতে হলে কাজ করতে হবে, লোহার উপর পেটাতে হবে, নৌকা বাইতে হবে অথবা লাঙল বইতে হবে। লাখ লাখ মানুষ কাজ করছে বলেই সম্পদ সৃষ্টি হচ্ছে। এই সম্পদ আমাদের কাজে লাগাতে হবে। টেকনিক্যাল শিক্ষা কাজে লাগাতে হবে।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী সুবিধা বঞ্চিত ও অবহেলিত মানুষের জন্য কাজ করছেন। পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষার ঘাটতি আছে। এই শিক্ষা দিয়ে বাকি পথ পাড়ি দেয়া যাবে না। দেশে সাক্ষরতার হারও সম্মানজনক না। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের প্রযুক্তিগত শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। কৃষি যান্ত্রীকিকরণ শুরু হয়ে গেছে। আমরা কৃষি পণ্য বিদেশে পাঠানোর জন্য কাজ করছি। মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ বিদেশে পাঠাবো কারণ আমাদের দক্ষ জনশক্তি আছে।

সভাপতির বক্তব্যে ইউসেপ বাংলাদেশের চেয়ারপার্সন পারভীন মাহমুদ জানান, ইউসেপ বাংলাদেশ দীর্ঘ ৪৯ বছর যাবৎ বাংলাদেশে সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও যুবাদের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাগড়ার লক্ষ্যে ইউসেপ বাংলাদেশে কাজ করে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ডের সমাজকর্মী লিন্ডসে অ্যালান চেইনি ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটিতে বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষাদান ও তাদের কারিগরি দক্ষতায় দক্ষ করে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। সংস্থাটির কার্যক্রম বর্তমানে বাংলাদেশের ৮টি জেলায় ৫৩টি সাধারণ শিক্ষা ও ১০টি কারিগরি শিক্ষা বিদ্যালয়ের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৪৮ হাজার শিশু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইউসেপে ইউকেএইড, অস্ট্রেলিয়ান গর্ভমেন্ট, জার্মান কর্পোরেশন ও ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন এক সময় সহায়তা করলেও বর্তমানে বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানান ইউসেপ বাংলাদেশের চেয়ারপার্সন পারভীন মাহমুদ। ফলে ইউসেপ পরিচালনার জন্য মন্ত্রীর কাছে নতুন নতুন প্রকল্পের অনুরোধ করেন পারভীন মাহমুদ।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কুষ্টিয়ায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

ডোনাররা চলে গেলে দেশ নিজের সম্পদে চলতে পারবে: পরিকল্পনামন্ত্রী

প্রকাশিত : ১২:০০:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, শুরুতে নানান নীতিমালার কথা বলে ডোনার সাহেবরা মাঝপথে ভাসিয়ে দিয়ে চলে যায়। কিন্তু বর্তমানে আমাদের অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে। মাঝপথে ভাসিয়ে দিয়ে যদি ডোনার আমাদের থেকে বিদায় নেন তাহলেও আমরা পারবো। বাংলাদেশ নিজস্ব সম্পদ দিয়ে চলতে পারবে।

রোববার রাজধানীর মিরপুর আন্ডারপ্রিভিলেজড চিলড্রেনস এডুকেশনাল (ইউসেপ) বাংলাদেশে ‘মুজিব বর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও ইউসেপ এর গৌরবময় অভিযাত্রা’অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সক্ষমতা আছে, আমরা আর সহায়তা চাই না। তবে কেউ যদি সম্মানে আমাদের পাবলিককে সালাম দিয়ে কাজ করতে চায় তাহলে করুক।

ডোনাররা মাঝপথে নীতি পরিবর্তন করে ফেলে এটা আর করতে দেওয়া যাবে না। নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে চলে যাবে সেই দিন আর আমাদের নেই। এইগুলো আমাদের এড়িয়ে চলতে হবে। তিনি বলেন, ডোনার নীতিমালা পরিবর্তন করতেই পারে। তবে শেখ হাসিনা কখনও বলে না যে উনার নীতিমালা পরিবর্তন করেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মানবিক। আমাদের দেশের দায়িত্বগুলো শেষ বিচারে আমাদেরকেই বইতে হবে। এটাই আমাদের মূল কথা।

আমাদের নিজস্ব সম্পদ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। আমাদের লাখ লাখ মানুষ কাজ করছে। কাজ করছে বলেই সম্পদ বেড়েছে। বক্তৃতা দিয়ে কোন সম্পদ সৃষ্টি হয় না। সম্পদ সৃষ্টি করতে হলে কাজ করতে হবে, লোহার উপর পেটাতে হবে, নৌকা বাইতে হবে অথবা লাঙল বইতে হবে। লাখ লাখ মানুষ কাজ করছে বলেই সম্পদ সৃষ্টি হচ্ছে। এই সম্পদ আমাদের কাজে লাগাতে হবে। টেকনিক্যাল শিক্ষা কাজে লাগাতে হবে।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী সুবিধা বঞ্চিত ও অবহেলিত মানুষের জন্য কাজ করছেন। পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষার ঘাটতি আছে। এই শিক্ষা দিয়ে বাকি পথ পাড়ি দেয়া যাবে না। দেশে সাক্ষরতার হারও সম্মানজনক না। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের প্রযুক্তিগত শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। কৃষি যান্ত্রীকিকরণ শুরু হয়ে গেছে। আমরা কৃষি পণ্য বিদেশে পাঠানোর জন্য কাজ করছি। মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ বিদেশে পাঠাবো কারণ আমাদের দক্ষ জনশক্তি আছে।

সভাপতির বক্তব্যে ইউসেপ বাংলাদেশের চেয়ারপার্সন পারভীন মাহমুদ জানান, ইউসেপ বাংলাদেশ দীর্ঘ ৪৯ বছর যাবৎ বাংলাদেশে সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও যুবাদের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাগড়ার লক্ষ্যে ইউসেপ বাংলাদেশে কাজ করে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ডের সমাজকর্মী লিন্ডসে অ্যালান চেইনি ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটিতে বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষাদান ও তাদের কারিগরি দক্ষতায় দক্ষ করে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। সংস্থাটির কার্যক্রম বর্তমানে বাংলাদেশের ৮টি জেলায় ৫৩টি সাধারণ শিক্ষা ও ১০টি কারিগরি শিক্ষা বিদ্যালয়ের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৪৮ হাজার শিশু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইউসেপে ইউকেএইড, অস্ট্রেলিয়ান গর্ভমেন্ট, জার্মান কর্পোরেশন ও ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন এক সময় সহায়তা করলেও বর্তমানে বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানান ইউসেপ বাংলাদেশের চেয়ারপার্সন পারভীন মাহমুদ। ফলে ইউসেপ পরিচালনার জন্য মন্ত্রীর কাছে নতুন নতুন প্রকল্পের অনুরোধ করেন পারভীন মাহমুদ।