রাশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এক শিক্ষার্থীর এলোপাতাড়ি গুলিতে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকে। দেশটির পেরম শহরের স্টেট ন্যাশনাল রিসার্চ ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে সোমবার এ ঘটনা ঘটে বলে রাশিয়ার ইনভেস্টিগেটিভ কমিটির বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
রাশিয়ার সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় ২৪ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে গুলিতে আহত ১৯ জন। এ বিষয়ে রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেও কোনো মন্তব্য পায়নি এএফপি। খবরে বলা হয়েছে, বন্দুকধারী শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে।
আটকের সময় ওই শিক্ষার্থী আহত হন। রাশিয়ার ইনভেস্টিগেটিভ কমিটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০ সেপ্টেম্বর পেরম স্টেট ন্যাশনাল রিসার্চ ইউনিভার্সিটিতে এক শিক্ষার্থী চার আশপাশে থাকা লোকজনের ওপর গুলি চালিয়েছে। এ ঘটনায় শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
তার মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই ঘটনায় যেসব পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে তাদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট।’রুশ কর্তৃপক্ষ শুরুতে বন্দুকধারীর গুলিতে পাঁচজন নিহত হওয়ার কথা জানায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বন্দুকধারীর হাত থেকে রক্ষা পেতে ভবন থেকে লাফ দেয়ার আগে শিক্ষার্থীরা জানালা দিয়ে তাদের ব্যাগ ও অন্যান্য আসবাবপত্র ফেলছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, হামলার সময় কালো জামা পরা এক ব্যক্তি ক্যাম্পাসের ভেতরে হাঁটাহাঁটি করছেন। তার মাথায় হেলমেট ছিল; হাতে ছিল অস্ত্র।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় রাশিয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা অনেক কম হয়। দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কড়া নিরাপত্তা তো থাকেই, সেখানে আগ্নেয়াস্ত্র কেনাও বেশ কঠিন। অবশ্য শিকারের জন্য বন্দুক কেনা তুলনামূলক সহজ। রাশিয়ায় সবশেষ এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছিল গত মে মাসে।
তখন মধ্য রাশিয়ার কাজান শহরে ১৯ বছর বয়সী এক বন্দুকধারী তার সাবেক স্কুলে হামলা চালায়। এতে ৯ জন নিহত হন।




















