০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

শিশু হত্যা মামলায় দিনাজপুরে ৩ জনের কারাদন্ড

দিনাজপুরে শিশুকে অপহরণের পর হত্যা করে মরদেহ গুমের ঘটনায় ছেলেকে যাবজ্জীবন ও বাবা-মাকে ৩ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ৫ অক্টোবর দিনাজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও সিনিয়র জেলা জজ শরীফ উদ্দিন আহমেদ এ রায় প্রদান করেন। রায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড এবং বাকি ২ আসামিকে ৩ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ মাস করে কারাদণ্ড প্রদান করেন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন-হাকিমপুর উপজেলার মুহাড়াপাড়া গ্রামের আব্দুস সালাম ওরফে সামিউল (২৫)। অপর দুই আসামি হলেন- সামিউলের বাবা আমজাদ হোসেন (৫৫) ও মা ছানোয়ারা বেগম (৪৫)। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল হাকিমপুর উপজেলার মুহাড়াপাড়া গ্রামের আবতাহী আল রশিদকে (৪) অপহরণ করে মোবাইলে এসএমএনের মাধ্যমে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে শিশুর বাবা হাকিমপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ আজাদ বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশ প্রযুক্তির মাধ্যমে আসামি সামিউলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় সামিউল পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে টিভি সিরিয়াল ক্রাইম পেট্রোল দেখে অল্প সময়ে বড়লোক হওয়ার জন্য শিশু আবতাহীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির কথা স্বীকার করেন। পরে শিশুকে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দী করে গুম করে রাখার বিষয়টি স্বীকার করেন পুলিশের কাছে। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা বাদী হয়ে হাকিমপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন মামলা করেন। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আসামি সামিউলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন ধারায় জরিমানা ও কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে সামিউলের বাবা-মাকে ৩ বছর করে কারাদণ্ডসহ ৩ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তৈয়বা বেগম বলেন, সাক্ষী-প্রমাণের ভিত্তিতে আমরা হত্যার বিষয়টি প্রমাণে সমর্থ হয়েছি। এ রায়ে আমরা খুশি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ডিগ্রী কলেজ ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা

শিশু হত্যা মামলায় দিনাজপুরে ৩ জনের কারাদন্ড

প্রকাশিত : ০৫:৩৬:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ অক্টোবর ২০২১

দিনাজপুরে শিশুকে অপহরণের পর হত্যা করে মরদেহ গুমের ঘটনায় ছেলেকে যাবজ্জীবন ও বাবা-মাকে ৩ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ৫ অক্টোবর দিনাজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও সিনিয়র জেলা জজ শরীফ উদ্দিন আহমেদ এ রায় প্রদান করেন। রায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড এবং বাকি ২ আসামিকে ৩ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ মাস করে কারাদণ্ড প্রদান করেন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন-হাকিমপুর উপজেলার মুহাড়াপাড়া গ্রামের আব্দুস সালাম ওরফে সামিউল (২৫)। অপর দুই আসামি হলেন- সামিউলের বাবা আমজাদ হোসেন (৫৫) ও মা ছানোয়ারা বেগম (৪৫)। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল হাকিমপুর উপজেলার মুহাড়াপাড়া গ্রামের আবতাহী আল রশিদকে (৪) অপহরণ করে মোবাইলে এসএমএনের মাধ্যমে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে শিশুর বাবা হাকিমপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ আজাদ বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশ প্রযুক্তির মাধ্যমে আসামি সামিউলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় সামিউল পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে টিভি সিরিয়াল ক্রাইম পেট্রোল দেখে অল্প সময়ে বড়লোক হওয়ার জন্য শিশু আবতাহীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির কথা স্বীকার করেন। পরে শিশুকে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দী করে গুম করে রাখার বিষয়টি স্বীকার করেন পুলিশের কাছে। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা বাদী হয়ে হাকিমপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন মামলা করেন। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আসামি সামিউলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন ধারায় জরিমানা ও কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে সামিউলের বাবা-মাকে ৩ বছর করে কারাদণ্ডসহ ৩ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তৈয়বা বেগম বলেন, সাক্ষী-প্রমাণের ভিত্তিতে আমরা হত্যার বিষয়টি প্রমাণে সমর্থ হয়েছি। এ রায়ে আমরা খুশি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর