০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

স্বাধীনতার মাস এলেই মনের টানে পতাকা বিক্রি করে কেরামত আলী

প্রতি স্বাধীনতা দিবসে যেনো সবার বাড়িতে বাড়িতে সকল প্রতিষ্ঠানে ওড়ে লাল-সবুজের বিজয়ের পতাকা। তাই দীর্ঘ ৮ বছর ধরে প্রতি ডিসেম্বর মাসে পতাকা বিক্রি করছে মাদারীপুর ইউনিয়নের শিবচর এলাকার দক্ষিন কামারকান্দি গ্রামের বোরহান মাতুব্বরের ছেলে কেরামত আলী (৩৫)। শুক্রবার জুম্মার আগে কলাপাড়া পৌর শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় তার সঙ্গে দেখা হয় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে। তার হাতের একটি সরু বাশে টানানো রয়েছে ছোট এবং বড় সাইজের পতাকা। সামান্য বাতাসে উড়ছে এসব পতাকা। রয়েছে লাল সবুজের ফিতা এবং মাথার ব্যান্ড। ৬ ফুটের পতাকা তিনি বিক্রি করছেন প্রতি পিচ ২০০ টাকা, ৫ ফুট ১৫০ টাকা, সাড়ে ৩ ফুট ১২০ টাকা, আড়াই ফুট ৬০ টাকা, দেড় ফুট ৪০ টাকা আর ১ ফুট ২০ টাকা এবং ফিতা আর ব্যান্ড বিক্রি করছেন ১০ টা। প্রতিদিন ২ হাজার থেকে ২৫শ‘ টাকার পতাকা বিক্রি করছেন তিনি। এদিয়ে তেমন আয় না হলেও দেশকে ভালবেসে তিনি পতাকা বিক্রি করছেন।

কেরামত আলী এ প্রতিনিধিকে জানায়, ১৯৭১ সালে ২ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে। পাক বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছে অসংখ্য মানুষ। অনেকে হয়েছেন পঙ্গু। বর্তমান মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শুনে প্রায় আট বছর আগে তিনি ব্যথিত হয়েছেন। তাদের কাছে হিংস্র পাক বাহিনীর নির্মমতার ইতিহাস শুনে নিজেই কেঁদে ফেলেছিলেন। সেদিন থেকেই পন করেন সারা দেশে ঘুরে ঘুরে লাল-সবুজের পতাকা বিক্রি করবেন এবং সুযোগ হলে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরবেন। পরে বাড়িতে সেলাই মেশিন কিনে পতাকার পরিমাপ জেনে শুরু করেন পতাকা তৈরীর কাজ, এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন তার স্ত্রী। বিশেষ করে বিজয় দিবস এবং মাতৃভাষা দিবসকে টার্গেট করে তিনি পতাকা তৈরী করেন। তবে বছরের অন্যান্য মাসে তিনি দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালান। কেরামত আলীর কাছ থেকে পতাকা কিনতে আসা মাহাতব হাওলাদার এ প্রতিবেদককে বলেন, বাচ্চাদের জন্য লাল সবুজের মাথার ব্যান্ড নিচ্ছি। দামেও সস্তা। বাচ্চাদের হাতে ধরিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাবো। পাশাপাশি ওদের ছবি ফেসবুকে ছাড়বো। এতে ওরা খুব খুশি হবে। অপর ক্রেতা শিবলী সাদিক জানান, পুরোনো পতাকার কালার অনেকটা উঠে গেছে। তাই ১৬ ডিসেম্বর দোকানে টানানোর জন্য ৬ ফুটের পতাকা কিনেছি যা ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকে সস্তায় কেনা যায়।

কলাপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বদিউর রহমান বন্টিন সাংবাদিকদের জানান, স্বাধীনতার মাসে প্রতি বছর কেরামত আলীদের মতো এ যুবকদের লাল-সবুজের পতাকা বিক্রী দেখে আমরা গর্বিত হই। মফস্বল এলাকায় সাধারনত পতাকা তৈরী হয়না, অর্ডার দিয়ে বানাতে হয়। এদের কাছ থেকে কিনে ছোট ছোট বাচ্চারা যখন ছোট পতাকা হাতে কিংবা মাথায় ব্যান্ড আকারে লাগায় তখন এসব বাচ্চাদের দেখে আমাদের মনটা অনেক শান্তিতে মন-প্রান ভরে যায়। তবে সর্বস্তওে পতাকার সঠিক ব্যবহারের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

স্বাধীনতার মাস এলেই মনের টানে পতাকা বিক্রি করে কেরামত আলী

প্রকাশিত : ০৯:১৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২১

প্রতি স্বাধীনতা দিবসে যেনো সবার বাড়িতে বাড়িতে সকল প্রতিষ্ঠানে ওড়ে লাল-সবুজের বিজয়ের পতাকা। তাই দীর্ঘ ৮ বছর ধরে প্রতি ডিসেম্বর মাসে পতাকা বিক্রি করছে মাদারীপুর ইউনিয়নের শিবচর এলাকার দক্ষিন কামারকান্দি গ্রামের বোরহান মাতুব্বরের ছেলে কেরামত আলী (৩৫)। শুক্রবার জুম্মার আগে কলাপাড়া পৌর শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় তার সঙ্গে দেখা হয় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে। তার হাতের একটি সরু বাশে টানানো রয়েছে ছোট এবং বড় সাইজের পতাকা। সামান্য বাতাসে উড়ছে এসব পতাকা। রয়েছে লাল সবুজের ফিতা এবং মাথার ব্যান্ড। ৬ ফুটের পতাকা তিনি বিক্রি করছেন প্রতি পিচ ২০০ টাকা, ৫ ফুট ১৫০ টাকা, সাড়ে ৩ ফুট ১২০ টাকা, আড়াই ফুট ৬০ টাকা, দেড় ফুট ৪০ টাকা আর ১ ফুট ২০ টাকা এবং ফিতা আর ব্যান্ড বিক্রি করছেন ১০ টা। প্রতিদিন ২ হাজার থেকে ২৫শ‘ টাকার পতাকা বিক্রি করছেন তিনি। এদিয়ে তেমন আয় না হলেও দেশকে ভালবেসে তিনি পতাকা বিক্রি করছেন।

কেরামত আলী এ প্রতিনিধিকে জানায়, ১৯৭১ সালে ২ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে। পাক বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছে অসংখ্য মানুষ। অনেকে হয়েছেন পঙ্গু। বর্তমান মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শুনে প্রায় আট বছর আগে তিনি ব্যথিত হয়েছেন। তাদের কাছে হিংস্র পাক বাহিনীর নির্মমতার ইতিহাস শুনে নিজেই কেঁদে ফেলেছিলেন। সেদিন থেকেই পন করেন সারা দেশে ঘুরে ঘুরে লাল-সবুজের পতাকা বিক্রি করবেন এবং সুযোগ হলে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরবেন। পরে বাড়িতে সেলাই মেশিন কিনে পতাকার পরিমাপ জেনে শুরু করেন পতাকা তৈরীর কাজ, এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন তার স্ত্রী। বিশেষ করে বিজয় দিবস এবং মাতৃভাষা দিবসকে টার্গেট করে তিনি পতাকা তৈরী করেন। তবে বছরের অন্যান্য মাসে তিনি দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালান। কেরামত আলীর কাছ থেকে পতাকা কিনতে আসা মাহাতব হাওলাদার এ প্রতিবেদককে বলেন, বাচ্চাদের জন্য লাল সবুজের মাথার ব্যান্ড নিচ্ছি। দামেও সস্তা। বাচ্চাদের হাতে ধরিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাবো। পাশাপাশি ওদের ছবি ফেসবুকে ছাড়বো। এতে ওরা খুব খুশি হবে। অপর ক্রেতা শিবলী সাদিক জানান, পুরোনো পতাকার কালার অনেকটা উঠে গেছে। তাই ১৬ ডিসেম্বর দোকানে টানানোর জন্য ৬ ফুটের পতাকা কিনেছি যা ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকে সস্তায় কেনা যায়।

কলাপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বদিউর রহমান বন্টিন সাংবাদিকদের জানান, স্বাধীনতার মাসে প্রতি বছর কেরামত আলীদের মতো এ যুবকদের লাল-সবুজের পতাকা বিক্রী দেখে আমরা গর্বিত হই। মফস্বল এলাকায় সাধারনত পতাকা তৈরী হয়না, অর্ডার দিয়ে বানাতে হয়। এদের কাছ থেকে কিনে ছোট ছোট বাচ্চারা যখন ছোট পতাকা হাতে কিংবা মাথায় ব্যান্ড আকারে লাগায় তখন এসব বাচ্চাদের দেখে আমাদের মনটা অনেক শান্তিতে মন-প্রান ভরে যায়। তবে সর্বস্তওে পতাকার সঠিক ব্যবহারের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর