০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

কেমন কাটছে কোম্পানীগঞ্জের পাথর শ্রমিকদের জীবন!

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ (ভোলাগঞ্জ, শাহ আরেফিন ও উৎমা) পাথর কোয়ারী দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। কোম্পানীগঞ্জের কর্মক্ষম শ্রমিকদের একমাত্র কর্মক্ষেত্র কোয়ারী বন্ধ থাকায় তারা দীর্ঘদিন ধরে বেকার হয়ে পড়েছেন। শ্রমজীবী মানুষেরা পেটের তাড়নায় কাজের সন্ধানে বেরিয়ে কোথাও কাজ না পেয়ে পরিবার পরিজনদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কর্মহীন হয়ে বর্তমানে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের মুখোমুখি।

কর্মহীন পাথর শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পাথরের সাথে সংশ্লিষ্ট উপজেলার মানুষেরা কর্মক্ষেত্র চায়। পরিবার পরিজন নিয়ে তিনবেলা দুমুঠো ভাত খেতে চায়। সরকারি অগ্রযাত্রাকে আরো বেগবান করতে হলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার লক্ষাধিক কর্মক্ষম মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি সময়ের দাবি।

ভোলাগঞ্জ ও উৎমা, সহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় যুগ যুগ ধরে পাথর আহরণের মাধ্যমে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছিল। সিলেটের পাথর কোয়ারীতে পাথর আহরণ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বংশ পরম্পরায় জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। আহরিত এ পাথরের রয়্যালটি বাবত সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে আসছিল। সিলেটের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি পাথর আহরণ এবং বিপণন হঠাৎ করে বন্ধ করে দেয়ায় এক বছর ধরে সিলেটের উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ জনগোষ্ঠী অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টে নিপতিত হয়েছে।

আহরিত এ পাথর বিপনের সাথে সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, স্টোন ক্রাশার, মিল মালিক, পাথর ব্যবসায়ী, ট্রাক-ট্রাক্টর শ্রমিক, নৌকা মালিক ও শ্রমিকরা পরিজন নিয়ে জীবীকা নির্বাহ করে আসছিলেন। সিলেট ভোলাগঞ্জের এ পাথরের গুণগত মান উন্নত হওয়ায় দেশের নির্মাণ শিল্পের অন্যতম কাচামাল হিসেবে এ পাথর ব্যবহার হয়ে আসছিল।

কিন্তু কোয়ারী বন্ধ থাকায় পঙ্গু হয়ে গেছে অত্র এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থা। কষ্টে পড়েছেন পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। সর্বোপরি বড় অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

অত্র এলাকার লোকজনের বিকল্প কোন কর্মক্ষেত্র না থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। কোয়ারী বন্ধ থাকায় প্রায়ই শুনা যায় ভোলাগঞ্জসহ অত্র উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় চুরি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপকর্মের কথা। উপার্জনের উপায় না থাকলে মানুষ অসৎ উপায় বেচে নিতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এলাকার সচেতন মহল।

কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সাব্বির আহমদ বলেন, হুট করে বেকারত্মের মুখোমুখি হয়ে চরম অমানবিক পরিবেশে কাটছে তাদের জীবনজীবিকা। অভাব,অনটন আর ঋণের চাপে দিশেহারা হাজার হাজার পাথর ব্যবসায়ী। দু-বেলা দুমুটো ভাতের জন্য অসহায় অগণিত শ্রমিকদের আর্তনাত যেন দেখার কেউ নেই।

উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান ফয়জুর রহমান মাস্টার বলেন, কোয়ারী এলাকার লাখো মানুষের জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্র পাথর কোয়ারী সমূহে পরিবেশ সম্মত ভাবে পাথর আহরনের সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানান কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর আসনের সাংসদ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইমরান আহমদের কাছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কেমন কাটছে কোম্পানীগঞ্জের পাথর শ্রমিকদের জীবন!

প্রকাশিত : ০২:৪৯:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২১

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ (ভোলাগঞ্জ, শাহ আরেফিন ও উৎমা) পাথর কোয়ারী দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। কোম্পানীগঞ্জের কর্মক্ষম শ্রমিকদের একমাত্র কর্মক্ষেত্র কোয়ারী বন্ধ থাকায় তারা দীর্ঘদিন ধরে বেকার হয়ে পড়েছেন। শ্রমজীবী মানুষেরা পেটের তাড়নায় কাজের সন্ধানে বেরিয়ে কোথাও কাজ না পেয়ে পরিবার পরিজনদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কর্মহীন হয়ে বর্তমানে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের মুখোমুখি।

কর্মহীন পাথর শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পাথরের সাথে সংশ্লিষ্ট উপজেলার মানুষেরা কর্মক্ষেত্র চায়। পরিবার পরিজন নিয়ে তিনবেলা দুমুঠো ভাত খেতে চায়। সরকারি অগ্রযাত্রাকে আরো বেগবান করতে হলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার লক্ষাধিক কর্মক্ষম মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি সময়ের দাবি।

ভোলাগঞ্জ ও উৎমা, সহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় যুগ যুগ ধরে পাথর আহরণের মাধ্যমে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছিল। সিলেটের পাথর কোয়ারীতে পাথর আহরণ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বংশ পরম্পরায় জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। আহরিত এ পাথরের রয়্যালটি বাবত সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে আসছিল। সিলেটের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি পাথর আহরণ এবং বিপণন হঠাৎ করে বন্ধ করে দেয়ায় এক বছর ধরে সিলেটের উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ জনগোষ্ঠী অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টে নিপতিত হয়েছে।

আহরিত এ পাথর বিপনের সাথে সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, স্টোন ক্রাশার, মিল মালিক, পাথর ব্যবসায়ী, ট্রাক-ট্রাক্টর শ্রমিক, নৌকা মালিক ও শ্রমিকরা পরিজন নিয়ে জীবীকা নির্বাহ করে আসছিলেন। সিলেট ভোলাগঞ্জের এ পাথরের গুণগত মান উন্নত হওয়ায় দেশের নির্মাণ শিল্পের অন্যতম কাচামাল হিসেবে এ পাথর ব্যবহার হয়ে আসছিল।

কিন্তু কোয়ারী বন্ধ থাকায় পঙ্গু হয়ে গেছে অত্র এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থা। কষ্টে পড়েছেন পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। সর্বোপরি বড় অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

অত্র এলাকার লোকজনের বিকল্প কোন কর্মক্ষেত্র না থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। কোয়ারী বন্ধ থাকায় প্রায়ই শুনা যায় ভোলাগঞ্জসহ অত্র উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় চুরি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপকর্মের কথা। উপার্জনের উপায় না থাকলে মানুষ অসৎ উপায় বেচে নিতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এলাকার সচেতন মহল।

কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সাব্বির আহমদ বলেন, হুট করে বেকারত্মের মুখোমুখি হয়ে চরম অমানবিক পরিবেশে কাটছে তাদের জীবনজীবিকা। অভাব,অনটন আর ঋণের চাপে দিশেহারা হাজার হাজার পাথর ব্যবসায়ী। দু-বেলা দুমুটো ভাতের জন্য অসহায় অগণিত শ্রমিকদের আর্তনাত যেন দেখার কেউ নেই।

উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান ফয়জুর রহমান মাস্টার বলেন, কোয়ারী এলাকার লাখো মানুষের জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্র পাথর কোয়ারী সমূহে পরিবেশ সম্মত ভাবে পাথর আহরনের সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানান কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর আসনের সাংসদ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইমরান আহমদের কাছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর