নওগাঁয় টাকা লেনদেন ও তদবির ছাড়াই সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ৬টি পদে নিয়োগ পেলো ৭৬ জন তরুণ-তরুণী। বুধবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এসব তরুণ-তরুণীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন জেলা প্রশাসক হারুন অর রশিদ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক উত্তম কুমার রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও শিহাব রায়হান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার হারুন অল রশিদসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
এসময় জেলা প্রশাসক বলেন, আমাদের দেশের সাধারণ মানুষেরা জানে ঘুষ বা তদবির ছাড়া সরকারি কোনো চাকরি হয় না। কিন্তু এ ধারণা আমরা পাল্টে দিতে বদ্ধকার পরিকর। তাই আমরাও সম্পূর্ণ মেধাভিত্তিতে ৭৬ জন যোগ্যতা সম্পন্ন তরুণ-তরুনীকে চাকরির জন্য বেছে নেয়। তারা প্রত্যেকেই মেধাবী। মেধা বাছাইয়ে কোনো ছাড় দেয়া হয়নি। এসময় সদ্য নিয়োগপ্রাপ্তদের দেশপ্রেম ও সততার সাথে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনেরও নির্দেশ দেন তিনি।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয় এবং সার্কিট হাউসের ২০ তম গ্রেডে অফিস সহায়ক, নিরাপত্তা প্রহরী, মালি, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, বেয়ারার ও সহকারী বাবুর্চি শূন্য পদে অনলাইনে মাধ্যমে চলতি বছরের ৫ আগষ্ট থেকে আবেদনের আহবান করা হয়। আবেদনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই ৬টি পদে ১৫ হাজার ৫৬৬টি জন চাকরির আবেদন করেন। গত ৫ নভেম্বর লিখিত পরীক্ষায় ৬টি পদে উত্তীর্ণ হন ৪১৯ জন প্রার্থী। পরে মৌখিক ও ব্যবহার পরীক্ষা শেষে নিয়োগের জন্য চুড়ান্ত মনোনীত হন ৭৬ জন। বুধবারই তারা যোগদান করেছেন।
অফিস সহায়ক পদের নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে আনন্দিত সদর উপজেলার জিন্নাত আফরোজ বলেন, আমাদের অভাবের সংসার। অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করেছি। আমার বাব-মাকে আমার গ্রামের লোকজনরা বলতো মেয়েকে এত পড়িয়ে কি কবে। আজকাল তো টাকা ছাড়া কোন চাকরি নেই। কিন্তু তারপরও আমি চেষ্টা চালিয়ে গেছি। তিনি আরো বলেন, কখনো ভাবেন নি এতো সহজেই সরকারি চাকরিটা পেয়ে যাবো। তাই তিনি টাকা ও তদরিব ছাড়া চাকরি পেয়ে অনেক খুশি। এই চাকরির দিয়ে তিনি তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চায়।
একই পদে নিয়োগ পাওয়া পতœীতলা উপজেলার ওয়ালিদ হোসেন বলেন, আমি দিনমজুরির কাজ করে সংসার ও লেখাপড়া চালাই। এই চাকরির জন্য যখন আমি অনলাইনে আবেদন করবো সেই টাকাও ছিল না। যখন লিখিত পরীক্ষার তারিখ দিলে নওগাঁ এসে পরীক্ষা দিবো সেই টাকাও ছিল না। সবাই বলতো পরীক্ষা দিয়ে কি হবে। টাকা ছাড়া আজকাল চাকরি নেই। তখন অনেক কষ্টই হয়েছিল। কিন্তু এতো তাৎক্ষণিক মানে আজ পরীক্ষা নিয়ে কালকেই রেজাল্ট! তারপরই চাকরি। চাকরি পেয়ে গেলাম। এটা কখনোই ভাবি নি। এজন্য সরকারকে ধন্যবাদ। জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর























