১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

টানা তিনদিনের ছুটিতে সিলেটে পর্যটকের ঢল

মহান বিজয় দিবসসহ টানা তিনদিনের সরকারি ছুটিতে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে উপচেপড়া ভিড় ছিল। পাহাড়, পাথর আর স্বচ্ছ জলের স্রোতধারা দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্রমণে আসেন পর্যটকরা।

বৃহস্পতিবার বিজয় দিবসের দিন ও গতকাল শুক্রবার কয়েক লাখ পর্যটক সিলেটের গোয়াইনঘাটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণে এসেছেন। এর মধ্যে গোয়াইনঘাট উপজেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র প্রকৃতি কন্যা জাফলংয়ে সবচেয়ে বেশি পর্যটক ঘুরতে এসেছেন। এছাড়াও প্রকৃতির অপ্সরাখ্যাত বিছনাকান্দি ও জলারবন রাতারগুলেও ছিলো পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়।

সরেজমিনে জাফলংয়ে গিয়ে দেখা যায়, শুক্রবার সকাল থেকেই দলবেঁধে পর্যটকরা ঘুরতে বের হয়েছেন। মেঘালয়ের পাহাড়, পাথর আর স্বচ্ছ জলের সমাহার দেখে যেন তাঁরা মুগ্ধ হন। পরিবার পরিজন ও বন্ধু বান্ধব নিয়ে ঘুরছেন আর ছবি তুলছেন। কেউ কেউ নৌকা নিয়ে খাসিয়া পল্লী আর চা-বাগানের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন।

এছাড়াও ঠাঁই ছিলো না এখানকার হোটেল-মোটেলগুলোতে। রেস্টুরেন্টগুলোতেও তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন পর বেচাকেনা ভালো হওয়ায় খুশিতে রয়েছেন এখানকার পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

বগুড়া থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসেছেন সাদ্দাম মিয়া। তিনি জানান, টানা তিনদিনের ছুটি পেয়ে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। এখানকার চারপাশের পরিবেশ খুব চমৎকার। পাহাড়, পানি আর ঝুলন্ত ব্রিজ দেখলাম। খুব ভালো লাগলো।
কাপড় ব্যবসায়ী নুরনবী মিয়া জানান, দুইদিন ধরে প্রচুর পরিমাণ পর্যটক বেড়াতে এসেছেন। খুব ভালো বেচাকেনা হয়েছে।
জাফলং ভিউ রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সানি আহমেদ বলেন, বিজয় দিবস ও শুক্রবার মিলে অনেক পর্যটক এসেছেন। এই দু’দিন আমাদের রেস্টুরেন্টে খুব ভালো বেচাকেনা হয়েছে। মানসম্মত ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশনই আমাদের মূল লক্ষ। তাই পর্যটকরা যাতে খাওয়া ধাওয়া করে তৃপ্তি পান সে লক্ষে আমরা পর্যটকদের সেবা দিয়ে থাকি।

জাফলং ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ মো. রতন শেখ জানান, গত দুই ধরে এখানে কয়েক লাখ লোক বেড়াতে এসেছেন। তাদের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে আমরা ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা তৎপর রয়েছি।

তাঁরা যাতে সতর্কতা অবলম্বন করে ঘুরাফেরা করেন সে আহ্বান জানানো হচ্ছে। পর্যটকরা যাতে নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারেন সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তাহমিলুর রহমান বলেন, বছরের দুই ঈদ, বাংলা নববর্ষ বা বিশেষ কোন উৎসবের দিনে গোয়াইনঘাটের পর্যটনকেন্দ্র গুলোতে প্রচুর সংখ্যক পর্যটক বেড়াতে আসেন। কিন্তু, করোনার পর থেকে দেশের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রের মতো এখানকার পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটক কমে যায়। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে এবারের বিজয় দিবসে তিনটি স্পট মিলিয়ে প্রায় কয়েক লাখ পর্যটক বেড়াতে এসেছেন। আর তারা যাতে নির্বিঘ্ননে ভ্রমণ করতে পারেন সে লক্ষ্যে উপজেলা শাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোড়দার করা হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

টানা তিনদিনের ছুটিতে সিলেটে পর্যটকের ঢল

প্রকাশিত : ০১:৩৭:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২১

মহান বিজয় দিবসসহ টানা তিনদিনের সরকারি ছুটিতে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে উপচেপড়া ভিড় ছিল। পাহাড়, পাথর আর স্বচ্ছ জলের স্রোতধারা দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্রমণে আসেন পর্যটকরা।

বৃহস্পতিবার বিজয় দিবসের দিন ও গতকাল শুক্রবার কয়েক লাখ পর্যটক সিলেটের গোয়াইনঘাটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণে এসেছেন। এর মধ্যে গোয়াইনঘাট উপজেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র প্রকৃতি কন্যা জাফলংয়ে সবচেয়ে বেশি পর্যটক ঘুরতে এসেছেন। এছাড়াও প্রকৃতির অপ্সরাখ্যাত বিছনাকান্দি ও জলারবন রাতারগুলেও ছিলো পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়।

সরেজমিনে জাফলংয়ে গিয়ে দেখা যায়, শুক্রবার সকাল থেকেই দলবেঁধে পর্যটকরা ঘুরতে বের হয়েছেন। মেঘালয়ের পাহাড়, পাথর আর স্বচ্ছ জলের সমাহার দেখে যেন তাঁরা মুগ্ধ হন। পরিবার পরিজন ও বন্ধু বান্ধব নিয়ে ঘুরছেন আর ছবি তুলছেন। কেউ কেউ নৌকা নিয়ে খাসিয়া পল্লী আর চা-বাগানের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন।

এছাড়াও ঠাঁই ছিলো না এখানকার হোটেল-মোটেলগুলোতে। রেস্টুরেন্টগুলোতেও তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন পর বেচাকেনা ভালো হওয়ায় খুশিতে রয়েছেন এখানকার পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

বগুড়া থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসেছেন সাদ্দাম মিয়া। তিনি জানান, টানা তিনদিনের ছুটি পেয়ে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। এখানকার চারপাশের পরিবেশ খুব চমৎকার। পাহাড়, পানি আর ঝুলন্ত ব্রিজ দেখলাম। খুব ভালো লাগলো।
কাপড় ব্যবসায়ী নুরনবী মিয়া জানান, দুইদিন ধরে প্রচুর পরিমাণ পর্যটক বেড়াতে এসেছেন। খুব ভালো বেচাকেনা হয়েছে।
জাফলং ভিউ রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সানি আহমেদ বলেন, বিজয় দিবস ও শুক্রবার মিলে অনেক পর্যটক এসেছেন। এই দু’দিন আমাদের রেস্টুরেন্টে খুব ভালো বেচাকেনা হয়েছে। মানসম্মত ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশনই আমাদের মূল লক্ষ। তাই পর্যটকরা যাতে খাওয়া ধাওয়া করে তৃপ্তি পান সে লক্ষে আমরা পর্যটকদের সেবা দিয়ে থাকি।

জাফলং ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ মো. রতন শেখ জানান, গত দুই ধরে এখানে কয়েক লাখ লোক বেড়াতে এসেছেন। তাদের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে আমরা ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা তৎপর রয়েছি।

তাঁরা যাতে সতর্কতা অবলম্বন করে ঘুরাফেরা করেন সে আহ্বান জানানো হচ্ছে। পর্যটকরা যাতে নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারেন সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তাহমিলুর রহমান বলেন, বছরের দুই ঈদ, বাংলা নববর্ষ বা বিশেষ কোন উৎসবের দিনে গোয়াইনঘাটের পর্যটনকেন্দ্র গুলোতে প্রচুর সংখ্যক পর্যটক বেড়াতে আসেন। কিন্তু, করোনার পর থেকে দেশের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রের মতো এখানকার পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটক কমে যায়। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে এবারের বিজয় দিবসে তিনটি স্পট মিলিয়ে প্রায় কয়েক লাখ পর্যটক বেড়াতে এসেছেন। আর তারা যাতে নির্বিঘ্ননে ভ্রমণ করতে পারেন সে লক্ষ্যে উপজেলা শাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোড়দার করা হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর