০৩:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

আইটি সেক্টরে দক্ষতা বাড়াতে বেসিসের সেইপ প্রশিক্ষণ

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তরুণদের দক্ষতা বাড়াতে চলছে বেসিস সেইপ প্রকল্প। এর আগেও এই প্রক অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্কিল এমপ্লয়েমেন্ট ইনভেস্টমেন্টে প্রকল্পের সঙ্গে যৌথভাবে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস বেসিস (BASIS)। করোনায় দীর্ঘ সময় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ করে তোলাই এবারের প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য। বেসিস (BASIS) জানায় দুই বছর মেয়াদী এই প্রকল্পের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সাতহাজার ৪৫০ জনকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। ফ্রেসারদের জন্য ১১টি এবং অভিজ্ঞদের জন্য আটটি ট্রেনিং সহ ১৯ টি কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবারের প্রকল্পে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের সম্ভাবনাময় তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দ্রুত জনবল গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় বেসিস (Basis) সেইপ (SEIP) যাত্রা শুরু করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অগ্রযাত্রার জন্য এই প্রশিক্ষণ সংখ্যা আরও বাড়ানোর দরকার সদ্য স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ও ডিপ্লোমা পাসকৃতরা এতে আবেদনের সুযোগ পাচ্ছে। ভ্যান্ডর সার্টিফিকেশনের সুযোগ থাকায় চাকরিজীবিরাও আবেদনের সুযোগ পাচ্ছে তবে এক্ষেত্রে দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বেসিস (BASIS) প্রকল্প নিয়ে আরো বিস্তারিত জানতে কথা হয় বেসিসের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আলমাস কবীরের সাথে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তরুণদের দক্ষতা বাড়িয়ে বেকারত্ব দূরীকরণে সেইপ প্রকল্পের ভূমিকা কী?
এই প্রকল্পটা এডিবির ফান্ডে আমাদের বাংলাদেশ সরকারের যে ফিনান্স মিনিস্ট্রি আছে তাদের আন্ডারে একটা প্রজেক্ট এবং তারা আমাদের মত বেসিসের মত যেসব অ্যাসোসিয়েশন আছে তাদের মাধ্যমে এই আয়োজন করছে। সুতরাং এসব এসোসিয়েশনের মধ্যে এই কোর্স দক্ষতা বাড়িয়ে কিভাবে চাকরিতে সম্পৃক্ত করা যায় এটাই মূল উদ্দেশ্য। এক্ষেত্রে শতকরা ৬০% প্রশিক্ষণার্থীদের চাকরিতে ইনভলব করা এবং তারা সেখানে মিনিমাম ছয় মাস থাকছে কিনা এই শর্তগুলো থাকে আমাদের। প্রথম একটা প্রজেক্টের ২৭-২৮ হাজার প্রশিক্ষণার্থীর নিয়ে রানিং করেছি। এখন একটা চলছে ৯ হাজারের উপর প্রশিক্ষণার্থী নিয়ে কাজ চলছে। এবার আরও দুটি বিষয় এড করেছি আপস্কিলিং। যেমন কেউ হয়তো গ্রাফিক্স এর বেসিক জানে তার জন্য হাই লেভেলের একটি ট্রেনিং এবং আরেকটি রেখেছি ভেন্ডর সার্টিফিকেশন। যেমন আপনি মাইক্রোসফট সার্টিফাইড ইঞ্জিনিয়ার অথবা সিসকোসিস্ট সার্টিফাইড ইঞ্জিনিয়ার কিংবা এডোবি ইঞ্জিনিয়ারএই ট্রেনিং গুলোও শুরু করেছি এবার।

সৈয়দ আলমাস কবীর, প্রেসিডেন্ট, বেসিস

চাকরি ক্ষেত্রে সুবিধার জন্য প্রশিক্ষনার্থীদের নিয়ে আপনারা একটা প্রোগ্রাম করে থাকেন এবার কি এটা করার চিন্তাভাবনা আছে?
হ্যা অবশ্যই প্ল্যান আছে। ভারচুয়ালি করেছিও কিন্তু কোভিডের কারণে মুশকিল। তবে জব ফেয়ার কিংবা জব প্লেসমেন্ট প্রোগ্রাম করার ইচ্ছে আছে।

ঢাকার বাইরে এই কোর্স কবে থেকে শুরু হতে পারে?
অলরেডি চট্টগ্রামে করার কথা চলছে। দ্রুত সারাদেশে এই প্রশিক্ষণ শুরু করার কার্যক্রম চলছে।

আইটিক্ষেত্রে দক্ষ জনবল বাড়াতে এই কোর্সের পাশাপাশি বেসিস থেকে আর কি কি উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে?
আরো দুটো জিনিস শুরু করতে চাচ্ছি। যেমন আইটি সেক্টরে আপনি যেখান থেকেই সার্টিফাইড হোন না বি আই টিএম থেকেই করেন বা যেখান থেকেই করেন না কেন আপনাকে একটা পরীক্ষা দিতে হবে অনলাইনে। অন্য যেরকম ইন্টারন্যাশনাল পরীক্ষাগুলো হয় আইইএলটিএস, টুফ্যাল, এসএটি হয় অনেকটা ওরকম পরীক্ষা দিয়ে যদি পাশ করেন তবে আপনি সার্টিফাইড আইসিটি প্রফেশনাল। যেটা অনেক ভ্যালুয়েবল। তাছাড়া আমরা একটি সারটিফিকেশন করছি আমাদের বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের সাথে মিলিত হয়ে। এটা একটা জয়েন সার্টিফিকেশন হবে বিটিআইএমের সাথে আরেকটি করছি ইন্টারন্যাশনাল সার্টিফিকেশন। এটা ব্রিটিশ কম্পিউটার সোসাইটি এবং বিটিআইএম মিলে একসাথে একটি জয়েন সার্টিফিকেশন পরীক্ষা এবং আমি মনে করি এগুলো করে রাখলে দেশে এবং বিদেশে তার ক্যারিয়ারের উপর খুব ভালো ফোকাস করবে।

প্যাপাল ম্যাথড কবে নাগাদ আসতে পারে?
প্যাপাল একটা প্রাইভেট কোম্পানি এটা সম্পূর্ণ তাদের সিদ্ধান্ত তারা কবে বাংলাদেশে আসবে। বাংলাদেশ সরকার এর সিদ্ধান্ন্ততের চেয়ে আসল হচ্ছে তারা কখন এসে ব্যবসা করতে চাচ্ছে। প্যাপাল কিন্তু ইন্ডিয়াতে অনেক পরে এসেছে কয়েক বছর আগে। ইন্ডিয়াতে পেপাল মোটামুটি নতুন। ওদের সাথে আমার কথা হয়েছিল ওরা বলেছিল ইন্ডিয়া মার্কেট গুছিয়ে পেপাল বাংলাদেশে আসবে এরকম কথা চলছিল। মাঝে কোভিডের কারণে হয়তো সেটা সম্ভব হয় নি তাদের পক্ষে। তবে একটা জিনিস হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারকে অথবা বাংলাদেশ ব্যাংককে আমাদের ফরেন কান্ট্রি রেগুলেশনকে আরেকটু রিভার্স করতে হবে। প্যাপালে যে সমস্যা আমরা মনে করি টাকা আনার ব্যাপারটা কিন্তু প্যাপাল কিন্তু শুধু টাকা আনা না। এটা একটা ডিজিটাল ওয়ালেট। অর্থাৎ আপনি টাকা আনবেন টাকা পাঠাবেন আপনি হয়তো আমাজন থেকে কোনো জিনিস কিনছেন- বিদেশ থেকে প্যাপাল দিয়ে পেমেন্ট করবেন। কিন্তু বাংলাদেশের ফরেন এক্সচেঞ্জে টাকা পাঠানোর কিছু সমস্যা আছে। প্যাপাল হয়তো এই বিষয়গুলো শিওর হয়েই আসবে।

ওয়ান বাংলাদেশ রূপকল্প ঘোষণা দিয়ে যে দশ লক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরির কথা ছিল সেই প্রজেক্টের কি অবস্থা?
এটার একটা অংশই কিন্তু বিটিএমআই এবং সেইপ প্রকল্প। অলরেডি দশ লক্ষ্যর বেশি জনগোষ্ঠী আমরা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি।

তিন মাসের কোর্সের পাশাপাশি শর্ট কোর্স বা লং কোর্সের পরিকল্পনা আছে কি?
একটা ছয় মাসের ডিপ্লোমা কোর্স আসছে ইউনাইটেড ইউনিভার্সিটির সাথে চুক্তি করে। সারটিফাইড কোর্স। এটা অনেক সহায়ক হবে আশা করছি।

করোনা পরবর্তী যেহেতু বেকার সমস্যা বেড়েছে সেক্ষেত্রে প্রশিক্ষণার্থী বাড়ানোর চিন্তাভাবনা আছে?
আমাদের দেশের ৩০ লক্ষ শিক্ষিত বেকার রয়েছে। তাদের সমস্যাটা হলো তারা শিক্ষিত, কিন্তু দক্ষতা নেই। আমি যখন চাকরির জন্য লোক খুঁজি দক্ষ লোক খুঁজে পাই না। এই দায়টা বিশ্ববিদ্যালয়ের। তারা যদি এই দক্ষতার ট্রেনিং তাদের ইন্সটিটিউটে দিতো তাহলে গ্রাজুয়েশন শেষ করে সাথে সাথে চাকরি পেতো। কিন্তু এই সিস্টেম নেই বলে গ্রাজুয়েশনের পর আরো ৬ মাস এসব কোর্স করে সময়টা নষ্ট করতে হচ্ছে। আমরা প্রশিক্ষনার্থী বাড়াতে অন্য ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে ভাগ করে দিচ্ছি বিটি এম আই ছাড়াও যেমন পেন্সিলবক্সের মতো ইন্সটিটিউটগুলোতে। ঢাকার বাইরে ও চালুর সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।

বেসিস সেইপ প্রকল্পকে আরো সমৃদ্ধ করতে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
আমার অভিজ্ঞতা থেকে আমি যা দেখছি দুইটা জিনিস পরিবর্তন করা দরকার। যেহেতু আইসিটি বিষয়ক ট্রেনিং আমরা করাই এখানে দুই বছর পর পর চেঞ্জিংয়ের কিছু ব্যাপার থাকা উচিত যেটা আসলে করার রুলস নেই আমি এডোবির সাথেও কথা বলেছি এই চেঞ্জেসটা প্রয়োজন তাছাড়া আমাদের আরেকটা নিয়ম হলো যে এই কোর্স একটা করবে সে আর কোন কোর্সে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।এই ব্যাপারে ও আমার আপত্তি আছে হায়ার লেভেলে যেতে একজন প্রশিক্ষণার্থী আরেকটা কোর্সে ভর্তি হতে পারবে না। এটা ও পরিবর্তন দরকার। প্রশিক্ষণার্থীদের সার্বিক সুযোগ সুবিধা দিয়ে দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরি করতে যা যা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া উচিত আমি আমার দিক থেকে তা করার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাবো।

মহসিন হাসান, ট্রেইনার

এছাড়াও এ প্রসঙ্গে কথা হলো BASIS সেইপের বর্তমান একজন ট্রেইনার মহসিন হাসানের সাথে। যার অসাধারণ ট্রেইনিং নৈপুণ্যে আজ অনেক প্রশিক্ষণার্থীর প্রতিষ্ঠিত। বিট বার্ডের ক্রিয়েটিভ হেড হিসেবে কাজ করছেন। জানালেন প্রশিক্ষণার্থী নিয়ে তার সুদুরপ্রসারী চিন্তাভাবনা।

প্রশিক্ষণে যারা আবেদন করছে তাদের বাছাই করেছেন কিভাবে?
এই প্রশিক্ষণটি মূলত আইটি সেকশনে দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরি করার জন্য এবং বেকারত্ব দূর করার জন্য সরকারের সুন্দর একটি প্রচেষ্টা। যারা ভার্সিটি পর্যায়ে শেষ বর্ষের অথবা গ্র্যাজুয়েশন শেষ তাদেরকেই নিচ্ছে পাশাপাশি কম্পিউটারের বেসিক জানা এবং বাসায় যেন চর্চা করতে পারে এরকম ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ সহায়ক আছে কিনা বিস্তারিত জেনে বাছাই করে থাকি আমরা।

প্রশিক্ষণের মাঝে কিংবা পরে চাকরির ব্যবস্থা করা হবে বলা হয়ে থাকে ব্যাপারটা যদি বলতেন..
প্রশিক্ষণের যারা ভালো করবে তাদের কাজের সুবিধা করে দেয়ার অপশন আমাদের আছে, ইতিপূর্বে প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময়ে অনেকেই কাজ পেয়েছে তবে এক্ষেত্রে নিজের সেরা পারফর্মটা তাদের দেখাতে হবে।

ফ্রিল্যান্সার তৈরি করতে দক্ষতা অর্জন করতে তিন মাসের কোর্সটি কি যথেষ্ট?
যথেষ্ট বলা যাবে না। তবে এই তিন মাসে একটা পরিপূর্ণ গাইডলাইন পাবেন, মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে পারবে কিন্তু কেউ যদি ভেবে নেয় এই তিন মাসেই গ্রাফিকসের বস হয়ে যাবে সেটা ঠিক না। এরকম অনেকেই আছে পাঁচ দশ বছর কাজ করেও কালার সেন্স আসেনি এটা একেকজনের ক্রিয়েটিভিটির ব্যাপার সেটা তো আমরা ঠিক করে দিতে পারবোনা আমরা স্কিল ডেভেলপ করে দিতে পারি শুধু। প্রতিনিয়ত চর্চা ও ভালো আন্তর্জাতিক ডিজাইনারদের কাজ অনুসরণ করার মাধ্যমে এটা তৈরি হবে।

আপনার কি মনে হয় বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সার তৈরি করতে পিছিয়ে আছে কেন?
পিছিয়ে আছে বলে তো আমার মনে হয় না, যেকোনো ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে যদি আপনি যান দেখবেন আপনার চোখের সামনে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররাই চলে আসবে। ফ্রিল্যান্সার অনেক তৈরি হচ্ছে কিন্তু দক্ষ ফ্রিল্যান্সার কম। আর এই দক্ষতা অর্জনের জন্যই আমাদের প্রচেষ্টা।

আপনার স্টুডেন্ট এর মধ্যে কতজন ভালো অবস্থানে আছেন?
অনেকেই খুব ভালো অবস্থানে আছে। কেউ কেউ ফ্রিল্যান্সিংয়ে খুব ভালো করছে। আবার অনেক স্টুডেন্টরা নিজেরাও প্রশিক্ষণ দিয়ে আরো ফ্রিল্যান্সার বাড়াচ্ছে। টিম বিল্ডআপ করছে।

সারা বাংলাদেশে কি এই প্রশিক্ষণ চলছে তারা কি একই সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে?
না আপাতত ঢাকায় হচ্ছে। সারা দেশে শুরু করার পরিকল্পনা চলছে।

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে একজন প্রতিষ্ঠিত হতে কতদিন লাগতে পারে?
এটা সম্পূর্ণ নিজের ব্যাপার, অনেকেই এই প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময়ে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ পেয়ে যায়। এটা বলা মুশকিল। তবে মিনিমাম ছয় মাস থেকে এক বছর লেগে থাকলে সম্ভব।

কারা এই সেক্টরে ভালো করতে পারবে?
যারা দীর্ঘ পরিকল্পনা করে চলতে পারে। অবশ্যই স্কিল ডেভেলপ এরপর নিজেকে প্রেজেন্টেবল করতে হবে, চুপচাপ ঘরে বসে থাকলে কেউ কাজ এসে দিয়ে যাবে না! ভালো ফ্রিল্যান্সার হতে হলে আপনাকে যেমন ভালো কাজ জানতে হবে, পাশাপাশি মার্কেটিং স্কিল, কমিউনিকেশন স্কিল ও ম্যানেজমেন্ট স্কিল থাকতে হবে।

ফ্রিল্যান্সার হতে চাইলে কি যোগ্যতার প্রয়োজন?
বলবো ধৈর্য্য। ধৈর্য্য না থাকলে কিছুতেই আপনি এই সেক্টরে উন্নতি করতে পারবেন না। যে কেউ এই সেক্টরে ভালো করতে পারে তবে ইংলিশ স্কিল ভালো থাকতে হবে, একটা টিম মেনটেন করে চলার মানসিকতা থাকতে হবে, সর্বোপরি কাজটা কে খুব গুরুত্ব দিতে হবে আর হ্যাঁ অবশ্যই কোনো ভালো প্রশিক্ষক এর সাহায্যে স্কিল ডেভেলপ করতে হবে।

সরকারি কোর্স এর ক্ষেত্রে মান নিয়ে সংশয় থাকে অনেকেইভাবে ভালো ভাবে শেখা যাবে না আপনার কি মন্তব্য?
অনেকেই ভাবে এটা, তবে এটা ঠিক না। অনেক প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানেই সরকারি কোর্স করায় তাদের সম্বন্ধে আমি কিছু বলতে পারছি না, তবে আমরা পেন্সিল বক্স ও বিট বার্ডস সলিউশন থেকে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে থাকি স্টুডেন্টদের বেস্ট টা দেওয়ার, এছাড়াও এটা আপনারা আমাদের স্টুডেন্টদের ফিডব্যাক দেখলেই বুঝতে পারবেন।

অন্য পেশার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করা যাবে?
হ্যাঁ করা যাবে কিন্তু পুরোদমে নিজেকে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়, কারণ ফ্রিল্যান্সিং মুক্ত স্বাধীন পেশা হলেও অনেক সময় দিতে হয় একজন ফ্রিল্যান্সারকে।

শুরুতে উপার্জনের পরিমাণটা কেমন হতে পারে?
এক্ষেত্রে একটা মজার ব্যাপার হচ্ছে, চাকরি ক্ষেত্রে আপনি সারা মাস নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যা ইনকাম করবেন, একজন ফ্রিল্যান্সার চাইলে তা সাত দিনেই ইনকাম করে ফেলতে পারে। আবার এমনও না যে সবসময় আপনি কাজ পাবেন শুরুর দিকে পরিমাণটা কিছুটা কমই থাকে।

এই কোর্সে সমৃদ্ধশালী করতে এবং আপনার স্টুডেন্টদের নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

আমি চাই এই সেইপ (SEIP) প্রকল্প শুধু ঢাকার ভেতর নয় সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ুক এবং বাংলাদেশে সর্বত্র দক্ষ ফ্রিল্যান্সার তৈরি হোক। আমি নিজে ঠেকে ঠেকে শিখেছি, আমি আমার স্টুডেন্টদের সার্বিক সহযোগিতায় পাশে ছিলাম আছি ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকবো। আমি চাই বাংলাদেশে যেন আগামী দশ বছরের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিংয়ে ও আইটি সেক্টরে ওয়ার্ল্ড এর ভিতর এক নাম্বারে চলে আসে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইটি সেক্টরে উন্নতির জন্য যা যা করছেন তাতে আমি আশাবাদী আমার স্বপ্ন খুব শীঘ্রই পূরণ হবে ইনশাআল্লাহ।

বিজনেস বাংলাদেশ/ র. ই.

জনপ্রিয়

বিগত সময়ে সবচেয়ে বেশি অপরাধ ও অন্যায় করা হয়েছে সাতক্ষীরায়: ডা. শফিকুর রহমান

আইটি সেক্টরে দক্ষতা বাড়াতে বেসিসের সেইপ প্রশিক্ষণ

প্রকাশিত : ০৩:০৫:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২১

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তরুণদের দক্ষতা বাড়াতে চলছে বেসিস সেইপ প্রকল্প। এর আগেও এই প্রক অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্কিল এমপ্লয়েমেন্ট ইনভেস্টমেন্টে প্রকল্পের সঙ্গে যৌথভাবে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস বেসিস (BASIS)। করোনায় দীর্ঘ সময় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ করে তোলাই এবারের প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য। বেসিস (BASIS) জানায় দুই বছর মেয়াদী এই প্রকল্পের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সাতহাজার ৪৫০ জনকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। ফ্রেসারদের জন্য ১১টি এবং অভিজ্ঞদের জন্য আটটি ট্রেনিং সহ ১৯ টি কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবারের প্রকল্পে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের সম্ভাবনাময় তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দ্রুত জনবল গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় বেসিস (Basis) সেইপ (SEIP) যাত্রা শুরু করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অগ্রযাত্রার জন্য এই প্রশিক্ষণ সংখ্যা আরও বাড়ানোর দরকার সদ্য স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ও ডিপ্লোমা পাসকৃতরা এতে আবেদনের সুযোগ পাচ্ছে। ভ্যান্ডর সার্টিফিকেশনের সুযোগ থাকায় চাকরিজীবিরাও আবেদনের সুযোগ পাচ্ছে তবে এক্ষেত্রে দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বেসিস (BASIS) প্রকল্প নিয়ে আরো বিস্তারিত জানতে কথা হয় বেসিসের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আলমাস কবীরের সাথে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তরুণদের দক্ষতা বাড়িয়ে বেকারত্ব দূরীকরণে সেইপ প্রকল্পের ভূমিকা কী?
এই প্রকল্পটা এডিবির ফান্ডে আমাদের বাংলাদেশ সরকারের যে ফিনান্স মিনিস্ট্রি আছে তাদের আন্ডারে একটা প্রজেক্ট এবং তারা আমাদের মত বেসিসের মত যেসব অ্যাসোসিয়েশন আছে তাদের মাধ্যমে এই আয়োজন করছে। সুতরাং এসব এসোসিয়েশনের মধ্যে এই কোর্স দক্ষতা বাড়িয়ে কিভাবে চাকরিতে সম্পৃক্ত করা যায় এটাই মূল উদ্দেশ্য। এক্ষেত্রে শতকরা ৬০% প্রশিক্ষণার্থীদের চাকরিতে ইনভলব করা এবং তারা সেখানে মিনিমাম ছয় মাস থাকছে কিনা এই শর্তগুলো থাকে আমাদের। প্রথম একটা প্রজেক্টের ২৭-২৮ হাজার প্রশিক্ষণার্থীর নিয়ে রানিং করেছি। এখন একটা চলছে ৯ হাজারের উপর প্রশিক্ষণার্থী নিয়ে কাজ চলছে। এবার আরও দুটি বিষয় এড করেছি আপস্কিলিং। যেমন কেউ হয়তো গ্রাফিক্স এর বেসিক জানে তার জন্য হাই লেভেলের একটি ট্রেনিং এবং আরেকটি রেখেছি ভেন্ডর সার্টিফিকেশন। যেমন আপনি মাইক্রোসফট সার্টিফাইড ইঞ্জিনিয়ার অথবা সিসকোসিস্ট সার্টিফাইড ইঞ্জিনিয়ার কিংবা এডোবি ইঞ্জিনিয়ারএই ট্রেনিং গুলোও শুরু করেছি এবার।

সৈয়দ আলমাস কবীর, প্রেসিডেন্ট, বেসিস

চাকরি ক্ষেত্রে সুবিধার জন্য প্রশিক্ষনার্থীদের নিয়ে আপনারা একটা প্রোগ্রাম করে থাকেন এবার কি এটা করার চিন্তাভাবনা আছে?
হ্যা অবশ্যই প্ল্যান আছে। ভারচুয়ালি করেছিও কিন্তু কোভিডের কারণে মুশকিল। তবে জব ফেয়ার কিংবা জব প্লেসমেন্ট প্রোগ্রাম করার ইচ্ছে আছে।

ঢাকার বাইরে এই কোর্স কবে থেকে শুরু হতে পারে?
অলরেডি চট্টগ্রামে করার কথা চলছে। দ্রুত সারাদেশে এই প্রশিক্ষণ শুরু করার কার্যক্রম চলছে।

আইটিক্ষেত্রে দক্ষ জনবল বাড়াতে এই কোর্সের পাশাপাশি বেসিস থেকে আর কি কি উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে?
আরো দুটো জিনিস শুরু করতে চাচ্ছি। যেমন আইটি সেক্টরে আপনি যেখান থেকেই সার্টিফাইড হোন না বি আই টিএম থেকেই করেন বা যেখান থেকেই করেন না কেন আপনাকে একটা পরীক্ষা দিতে হবে অনলাইনে। অন্য যেরকম ইন্টারন্যাশনাল পরীক্ষাগুলো হয় আইইএলটিএস, টুফ্যাল, এসএটি হয় অনেকটা ওরকম পরীক্ষা দিয়ে যদি পাশ করেন তবে আপনি সার্টিফাইড আইসিটি প্রফেশনাল। যেটা অনেক ভ্যালুয়েবল। তাছাড়া আমরা একটি সারটিফিকেশন করছি আমাদের বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের সাথে মিলিত হয়ে। এটা একটা জয়েন সার্টিফিকেশন হবে বিটিআইএমের সাথে আরেকটি করছি ইন্টারন্যাশনাল সার্টিফিকেশন। এটা ব্রিটিশ কম্পিউটার সোসাইটি এবং বিটিআইএম মিলে একসাথে একটি জয়েন সার্টিফিকেশন পরীক্ষা এবং আমি মনে করি এগুলো করে রাখলে দেশে এবং বিদেশে তার ক্যারিয়ারের উপর খুব ভালো ফোকাস করবে।

প্যাপাল ম্যাথড কবে নাগাদ আসতে পারে?
প্যাপাল একটা প্রাইভেট কোম্পানি এটা সম্পূর্ণ তাদের সিদ্ধান্ত তারা কবে বাংলাদেশে আসবে। বাংলাদেশ সরকার এর সিদ্ধান্ন্ততের চেয়ে আসল হচ্ছে তারা কখন এসে ব্যবসা করতে চাচ্ছে। প্যাপাল কিন্তু ইন্ডিয়াতে অনেক পরে এসেছে কয়েক বছর আগে। ইন্ডিয়াতে পেপাল মোটামুটি নতুন। ওদের সাথে আমার কথা হয়েছিল ওরা বলেছিল ইন্ডিয়া মার্কেট গুছিয়ে পেপাল বাংলাদেশে আসবে এরকম কথা চলছিল। মাঝে কোভিডের কারণে হয়তো সেটা সম্ভব হয় নি তাদের পক্ষে। তবে একটা জিনিস হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারকে অথবা বাংলাদেশ ব্যাংককে আমাদের ফরেন কান্ট্রি রেগুলেশনকে আরেকটু রিভার্স করতে হবে। প্যাপালে যে সমস্যা আমরা মনে করি টাকা আনার ব্যাপারটা কিন্তু প্যাপাল কিন্তু শুধু টাকা আনা না। এটা একটা ডিজিটাল ওয়ালেট। অর্থাৎ আপনি টাকা আনবেন টাকা পাঠাবেন আপনি হয়তো আমাজন থেকে কোনো জিনিস কিনছেন- বিদেশ থেকে প্যাপাল দিয়ে পেমেন্ট করবেন। কিন্তু বাংলাদেশের ফরেন এক্সচেঞ্জে টাকা পাঠানোর কিছু সমস্যা আছে। প্যাপাল হয়তো এই বিষয়গুলো শিওর হয়েই আসবে।

ওয়ান বাংলাদেশ রূপকল্প ঘোষণা দিয়ে যে দশ লক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরির কথা ছিল সেই প্রজেক্টের কি অবস্থা?
এটার একটা অংশই কিন্তু বিটিএমআই এবং সেইপ প্রকল্প। অলরেডি দশ লক্ষ্যর বেশি জনগোষ্ঠী আমরা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি।

তিন মাসের কোর্সের পাশাপাশি শর্ট কোর্স বা লং কোর্সের পরিকল্পনা আছে কি?
একটা ছয় মাসের ডিপ্লোমা কোর্স আসছে ইউনাইটেড ইউনিভার্সিটির সাথে চুক্তি করে। সারটিফাইড কোর্স। এটা অনেক সহায়ক হবে আশা করছি।

করোনা পরবর্তী যেহেতু বেকার সমস্যা বেড়েছে সেক্ষেত্রে প্রশিক্ষণার্থী বাড়ানোর চিন্তাভাবনা আছে?
আমাদের দেশের ৩০ লক্ষ শিক্ষিত বেকার রয়েছে। তাদের সমস্যাটা হলো তারা শিক্ষিত, কিন্তু দক্ষতা নেই। আমি যখন চাকরির জন্য লোক খুঁজি দক্ষ লোক খুঁজে পাই না। এই দায়টা বিশ্ববিদ্যালয়ের। তারা যদি এই দক্ষতার ট্রেনিং তাদের ইন্সটিটিউটে দিতো তাহলে গ্রাজুয়েশন শেষ করে সাথে সাথে চাকরি পেতো। কিন্তু এই সিস্টেম নেই বলে গ্রাজুয়েশনের পর আরো ৬ মাস এসব কোর্স করে সময়টা নষ্ট করতে হচ্ছে। আমরা প্রশিক্ষনার্থী বাড়াতে অন্য ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে ভাগ করে দিচ্ছি বিটি এম আই ছাড়াও যেমন পেন্সিলবক্সের মতো ইন্সটিটিউটগুলোতে। ঢাকার বাইরে ও চালুর সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।

বেসিস সেইপ প্রকল্পকে আরো সমৃদ্ধ করতে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
আমার অভিজ্ঞতা থেকে আমি যা দেখছি দুইটা জিনিস পরিবর্তন করা দরকার। যেহেতু আইসিটি বিষয়ক ট্রেনিং আমরা করাই এখানে দুই বছর পর পর চেঞ্জিংয়ের কিছু ব্যাপার থাকা উচিত যেটা আসলে করার রুলস নেই আমি এডোবির সাথেও কথা বলেছি এই চেঞ্জেসটা প্রয়োজন তাছাড়া আমাদের আরেকটা নিয়ম হলো যে এই কোর্স একটা করবে সে আর কোন কোর্সে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।এই ব্যাপারে ও আমার আপত্তি আছে হায়ার লেভেলে যেতে একজন প্রশিক্ষণার্থী আরেকটা কোর্সে ভর্তি হতে পারবে না। এটা ও পরিবর্তন দরকার। প্রশিক্ষণার্থীদের সার্বিক সুযোগ সুবিধা দিয়ে দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরি করতে যা যা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া উচিত আমি আমার দিক থেকে তা করার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাবো।

মহসিন হাসান, ট্রেইনার

এছাড়াও এ প্রসঙ্গে কথা হলো BASIS সেইপের বর্তমান একজন ট্রেইনার মহসিন হাসানের সাথে। যার অসাধারণ ট্রেইনিং নৈপুণ্যে আজ অনেক প্রশিক্ষণার্থীর প্রতিষ্ঠিত। বিট বার্ডের ক্রিয়েটিভ হেড হিসেবে কাজ করছেন। জানালেন প্রশিক্ষণার্থী নিয়ে তার সুদুরপ্রসারী চিন্তাভাবনা।

প্রশিক্ষণে যারা আবেদন করছে তাদের বাছাই করেছেন কিভাবে?
এই প্রশিক্ষণটি মূলত আইটি সেকশনে দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরি করার জন্য এবং বেকারত্ব দূর করার জন্য সরকারের সুন্দর একটি প্রচেষ্টা। যারা ভার্সিটি পর্যায়ে শেষ বর্ষের অথবা গ্র্যাজুয়েশন শেষ তাদেরকেই নিচ্ছে পাশাপাশি কম্পিউটারের বেসিক জানা এবং বাসায় যেন চর্চা করতে পারে এরকম ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ সহায়ক আছে কিনা বিস্তারিত জেনে বাছাই করে থাকি আমরা।

প্রশিক্ষণের মাঝে কিংবা পরে চাকরির ব্যবস্থা করা হবে বলা হয়ে থাকে ব্যাপারটা যদি বলতেন..
প্রশিক্ষণের যারা ভালো করবে তাদের কাজের সুবিধা করে দেয়ার অপশন আমাদের আছে, ইতিপূর্বে প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময়ে অনেকেই কাজ পেয়েছে তবে এক্ষেত্রে নিজের সেরা পারফর্মটা তাদের দেখাতে হবে।

ফ্রিল্যান্সার তৈরি করতে দক্ষতা অর্জন করতে তিন মাসের কোর্সটি কি যথেষ্ট?
যথেষ্ট বলা যাবে না। তবে এই তিন মাসে একটা পরিপূর্ণ গাইডলাইন পাবেন, মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে পারবে কিন্তু কেউ যদি ভেবে নেয় এই তিন মাসেই গ্রাফিকসের বস হয়ে যাবে সেটা ঠিক না। এরকম অনেকেই আছে পাঁচ দশ বছর কাজ করেও কালার সেন্স আসেনি এটা একেকজনের ক্রিয়েটিভিটির ব্যাপার সেটা তো আমরা ঠিক করে দিতে পারবোনা আমরা স্কিল ডেভেলপ করে দিতে পারি শুধু। প্রতিনিয়ত চর্চা ও ভালো আন্তর্জাতিক ডিজাইনারদের কাজ অনুসরণ করার মাধ্যমে এটা তৈরি হবে।

আপনার কি মনে হয় বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সার তৈরি করতে পিছিয়ে আছে কেন?
পিছিয়ে আছে বলে তো আমার মনে হয় না, যেকোনো ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে যদি আপনি যান দেখবেন আপনার চোখের সামনে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররাই চলে আসবে। ফ্রিল্যান্সার অনেক তৈরি হচ্ছে কিন্তু দক্ষ ফ্রিল্যান্সার কম। আর এই দক্ষতা অর্জনের জন্যই আমাদের প্রচেষ্টা।

আপনার স্টুডেন্ট এর মধ্যে কতজন ভালো অবস্থানে আছেন?
অনেকেই খুব ভালো অবস্থানে আছে। কেউ কেউ ফ্রিল্যান্সিংয়ে খুব ভালো করছে। আবার অনেক স্টুডেন্টরা নিজেরাও প্রশিক্ষণ দিয়ে আরো ফ্রিল্যান্সার বাড়াচ্ছে। টিম বিল্ডআপ করছে।

সারা বাংলাদেশে কি এই প্রশিক্ষণ চলছে তারা কি একই সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে?
না আপাতত ঢাকায় হচ্ছে। সারা দেশে শুরু করার পরিকল্পনা চলছে।

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে একজন প্রতিষ্ঠিত হতে কতদিন লাগতে পারে?
এটা সম্পূর্ণ নিজের ব্যাপার, অনেকেই এই প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময়ে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ পেয়ে যায়। এটা বলা মুশকিল। তবে মিনিমাম ছয় মাস থেকে এক বছর লেগে থাকলে সম্ভব।

কারা এই সেক্টরে ভালো করতে পারবে?
যারা দীর্ঘ পরিকল্পনা করে চলতে পারে। অবশ্যই স্কিল ডেভেলপ এরপর নিজেকে প্রেজেন্টেবল করতে হবে, চুপচাপ ঘরে বসে থাকলে কেউ কাজ এসে দিয়ে যাবে না! ভালো ফ্রিল্যান্সার হতে হলে আপনাকে যেমন ভালো কাজ জানতে হবে, পাশাপাশি মার্কেটিং স্কিল, কমিউনিকেশন স্কিল ও ম্যানেজমেন্ট স্কিল থাকতে হবে।

ফ্রিল্যান্সার হতে চাইলে কি যোগ্যতার প্রয়োজন?
বলবো ধৈর্য্য। ধৈর্য্য না থাকলে কিছুতেই আপনি এই সেক্টরে উন্নতি করতে পারবেন না। যে কেউ এই সেক্টরে ভালো করতে পারে তবে ইংলিশ স্কিল ভালো থাকতে হবে, একটা টিম মেনটেন করে চলার মানসিকতা থাকতে হবে, সর্বোপরি কাজটা কে খুব গুরুত্ব দিতে হবে আর হ্যাঁ অবশ্যই কোনো ভালো প্রশিক্ষক এর সাহায্যে স্কিল ডেভেলপ করতে হবে।

সরকারি কোর্স এর ক্ষেত্রে মান নিয়ে সংশয় থাকে অনেকেইভাবে ভালো ভাবে শেখা যাবে না আপনার কি মন্তব্য?
অনেকেই ভাবে এটা, তবে এটা ঠিক না। অনেক প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানেই সরকারি কোর্স করায় তাদের সম্বন্ধে আমি কিছু বলতে পারছি না, তবে আমরা পেন্সিল বক্স ও বিট বার্ডস সলিউশন থেকে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে থাকি স্টুডেন্টদের বেস্ট টা দেওয়ার, এছাড়াও এটা আপনারা আমাদের স্টুডেন্টদের ফিডব্যাক দেখলেই বুঝতে পারবেন।

অন্য পেশার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করা যাবে?
হ্যাঁ করা যাবে কিন্তু পুরোদমে নিজেকে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়, কারণ ফ্রিল্যান্সিং মুক্ত স্বাধীন পেশা হলেও অনেক সময় দিতে হয় একজন ফ্রিল্যান্সারকে।

শুরুতে উপার্জনের পরিমাণটা কেমন হতে পারে?
এক্ষেত্রে একটা মজার ব্যাপার হচ্ছে, চাকরি ক্ষেত্রে আপনি সারা মাস নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যা ইনকাম করবেন, একজন ফ্রিল্যান্সার চাইলে তা সাত দিনেই ইনকাম করে ফেলতে পারে। আবার এমনও না যে সবসময় আপনি কাজ পাবেন শুরুর দিকে পরিমাণটা কিছুটা কমই থাকে।

এই কোর্সে সমৃদ্ধশালী করতে এবং আপনার স্টুডেন্টদের নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

আমি চাই এই সেইপ (SEIP) প্রকল্প শুধু ঢাকার ভেতর নয় সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ুক এবং বাংলাদেশে সর্বত্র দক্ষ ফ্রিল্যান্সার তৈরি হোক। আমি নিজে ঠেকে ঠেকে শিখেছি, আমি আমার স্টুডেন্টদের সার্বিক সহযোগিতায় পাশে ছিলাম আছি ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকবো। আমি চাই বাংলাদেশে যেন আগামী দশ বছরের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিংয়ে ও আইটি সেক্টরে ওয়ার্ল্ড এর ভিতর এক নাম্বারে চলে আসে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইটি সেক্টরে উন্নতির জন্য যা যা করছেন তাতে আমি আশাবাদী আমার স্বপ্ন খুব শীঘ্রই পূরণ হবে ইনশাআল্লাহ।

বিজনেস বাংলাদেশ/ র. ই.