০৯:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক ক্যান্সার দিবসে ‘আশিক’ ফাউন্ডেশনের প্রীতি সভা অনুষ্ঠিত

  • বাবুল হৃদয়
  • প্রকাশিত : ০৬:০৪:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২২
  • 64

আন্তর্জাতিক শিশু ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে “আপনার সামান্যতম অনুদান বয়ে আনতে পারে একটি অসহায় ক্যান্সার শিশুর মুখে হাসি যা কোটি টাকার চেয়ে দামী” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ‘আশিক ফাউন্ডেশন ফর চাইল্ডহুডক্যান্সার’ এক প্রীতি সভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

১৫ ফেব্রুয়ারী, মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বাংলা মোটর আশিক ফাউন্ডেশন -এর মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

পোগ্রাম কোওয়ার্ডিনেটর শাওমী ইমামের সঞ্চালনায় ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের সাহসের সাথে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবার জন্য উৎসাহ দিতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আশিকের ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট ও সেবাগ্রুপের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন চৌধুরী ও আশিকের ফাউন্ডার চেয়ারপার্সন সালমা চৌধুরী,তাছাড়া আশিকের স্টাফ, কতিপয় ডোনার, ভলান্টিয়ার্স, মিডিয়াব্যক্তিত্ব এবং আশিক শেল্টারে অবস্থিত ক্যান্সার আক্রান্ত শিশু ও তাদের পরিবার।

আশিকের প্রেসিডেন্ট আফজাল হোসেন চৌধুরীস ভায় বলেন, “২৭বছর ধরে সালমা চৌধুরী অক্লান্ত পরিশ্রমে আশিকের মাধ্যমে হাজার হাজার ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের পাশেএসে দাঁড়িয়েছে। তার এই কাজকে গতিশীল রাখতে আমরা সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। কিন্তু একারপক্ষে এই কাজ চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কষ্টকর। যদি সমাজের ধনাঢ্য ব্যক্তি এবং আরও ডোনাররাও Volunteers আশিকের পাশেএসে দাঁড়ায় তাহলে এই অসহায় শিশুদের অনেকেই তাদের চিকিৎসা শেষ করে সার্ভাইভার হতে পারে। ”

আশিকের চেয়ারপার্সন সালমা চৌধুরী উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে বলেন,“সর্বপ্রথমশিশুক্যান্সারসচেতনতাদিবসপালিতহয় ২০০২ সালে, Childhood Cancer International কর্তৃক যাকে CCI বলাহয়। আশিকফাউন্ডেশন ১৯৯৯ সাল থেকে CCI এরসদস্য হিসেবে প্রথম থেকেই এই দিবসটি পালন করে আসছে।

ক্যান্সার কোন ছোয়াচে রোগ না। কিন্তু আমাদের দেশে সচেতনার অভাবে ক্যান্সার আক্রান্ত শিশু তার স্বাভাবিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বাংলাদেশেই এখন শিশু ক্যান্সারের উন্নত চিকিৎসা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ক্যান্সারই নিরাময়যোগ্য। দ্রুত রোগ সনাক্ত হলে ৮০% শিশুদেরকে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে সারিয়ে তোলা যেতে পারে”।

শিশুক্যান্সার রোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে ইভার বাবা আব্দুর রশিদ খান বলেন, “আশিক’ একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিষ্ঠান যারা মরণব্যাধি ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের পাশে এসে দাড়িয়েছেন। মানবিকদিক থেকে চিন্তা করলে আশিক শেল্টার থেকে আমরা যে সহযোগীতা পেয়েছি তার কোন তুলনা হয় না। আশিক শেল্টারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা আশিকের এই উদ্যোগকে চার পাশে ছড়িয়ে দিতে চাই”।

অনুষ্ঠানে ১৬ বছর বয়সী ক্যান্সার আক্রান্ত শিশু রূপক যে ৫ বছর ধরে আশিক শেল্টারে থেকে BSMMU হাসপাতাল যে চিকিৎসা চালিয়েছে তার মতে, “ক্যান্সারে ভয় পাওয়ার কিছু নেই”। চিকিৎসা করলে ক্যান্সার ভাল হয়। আমি আল্লাহর রহমতে তারএকজন উদাহরণ।”

আলোচনা সভা শেষে আশিক শেল্টারের শিশু ও ক্যান্সার রোগীদের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সালমা চৌধুরীকে ক্রেস্ট দেওয়া হয়। এ সময় প্রফেসর ড. নাইমা হক, মিসেস আফসানা,ওয়াহিদুল আলম, আলতাফ হোসেন, মাকসুদা রহমান সহ আশিকের স্টাফ, কতিপয় ডোনার, ভলান্টিয়ার্স, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, এবং আশিক শেল্টারের অবস্থিত ক্যান্সার আক্রান্ত শিশু ও তাদের পরিবার উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে অর্ধ শতাধিক শিশুকে চকলেট বিতরণ করেন সমাজসেবী ও সঙ্গীতশিল্পী রিদওয়ানা আফরীন সুমি।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর তা বাতিল, হস্তান্তর কিংবা ভাগাভাগি সম্ভব নয়

আন্তর্জাতিক ক্যান্সার দিবসে ‘আশিক’ ফাউন্ডেশনের প্রীতি সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত : ০৬:০৪:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২২

আন্তর্জাতিক শিশু ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে “আপনার সামান্যতম অনুদান বয়ে আনতে পারে একটি অসহায় ক্যান্সার শিশুর মুখে হাসি যা কোটি টাকার চেয়ে দামী” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ‘আশিক ফাউন্ডেশন ফর চাইল্ডহুডক্যান্সার’ এক প্রীতি সভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

১৫ ফেব্রুয়ারী, মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বাংলা মোটর আশিক ফাউন্ডেশন -এর মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

পোগ্রাম কোওয়ার্ডিনেটর শাওমী ইমামের সঞ্চালনায় ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের সাহসের সাথে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবার জন্য উৎসাহ দিতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আশিকের ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট ও সেবাগ্রুপের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন চৌধুরী ও আশিকের ফাউন্ডার চেয়ারপার্সন সালমা চৌধুরী,তাছাড়া আশিকের স্টাফ, কতিপয় ডোনার, ভলান্টিয়ার্স, মিডিয়াব্যক্তিত্ব এবং আশিক শেল্টারে অবস্থিত ক্যান্সার আক্রান্ত শিশু ও তাদের পরিবার।

আশিকের প্রেসিডেন্ট আফজাল হোসেন চৌধুরীস ভায় বলেন, “২৭বছর ধরে সালমা চৌধুরী অক্লান্ত পরিশ্রমে আশিকের মাধ্যমে হাজার হাজার ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের পাশেএসে দাঁড়িয়েছে। তার এই কাজকে গতিশীল রাখতে আমরা সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। কিন্তু একারপক্ষে এই কাজ চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কষ্টকর। যদি সমাজের ধনাঢ্য ব্যক্তি এবং আরও ডোনাররাও Volunteers আশিকের পাশেএসে দাঁড়ায় তাহলে এই অসহায় শিশুদের অনেকেই তাদের চিকিৎসা শেষ করে সার্ভাইভার হতে পারে। ”

আশিকের চেয়ারপার্সন সালমা চৌধুরী উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে বলেন,“সর্বপ্রথমশিশুক্যান্সারসচেতনতাদিবসপালিতহয় ২০০২ সালে, Childhood Cancer International কর্তৃক যাকে CCI বলাহয়। আশিকফাউন্ডেশন ১৯৯৯ সাল থেকে CCI এরসদস্য হিসেবে প্রথম থেকেই এই দিবসটি পালন করে আসছে।

ক্যান্সার কোন ছোয়াচে রোগ না। কিন্তু আমাদের দেশে সচেতনার অভাবে ক্যান্সার আক্রান্ত শিশু তার স্বাভাবিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বাংলাদেশেই এখন শিশু ক্যান্সারের উন্নত চিকিৎসা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ক্যান্সারই নিরাময়যোগ্য। দ্রুত রোগ সনাক্ত হলে ৮০% শিশুদেরকে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে সারিয়ে তোলা যেতে পারে”।

শিশুক্যান্সার রোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে ইভার বাবা আব্দুর রশিদ খান বলেন, “আশিক’ একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিষ্ঠান যারা মরণব্যাধি ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের পাশে এসে দাড়িয়েছেন। মানবিকদিক থেকে চিন্তা করলে আশিক শেল্টার থেকে আমরা যে সহযোগীতা পেয়েছি তার কোন তুলনা হয় না। আশিক শেল্টারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা আশিকের এই উদ্যোগকে চার পাশে ছড়িয়ে দিতে চাই”।

অনুষ্ঠানে ১৬ বছর বয়সী ক্যান্সার আক্রান্ত শিশু রূপক যে ৫ বছর ধরে আশিক শেল্টারে থেকে BSMMU হাসপাতাল যে চিকিৎসা চালিয়েছে তার মতে, “ক্যান্সারে ভয় পাওয়ার কিছু নেই”। চিকিৎসা করলে ক্যান্সার ভাল হয়। আমি আল্লাহর রহমতে তারএকজন উদাহরণ।”

আলোচনা সভা শেষে আশিক শেল্টারের শিশু ও ক্যান্সার রোগীদের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সালমা চৌধুরীকে ক্রেস্ট দেওয়া হয়। এ সময় প্রফেসর ড. নাইমা হক, মিসেস আফসানা,ওয়াহিদুল আলম, আলতাফ হোসেন, মাকসুদা রহমান সহ আশিকের স্টাফ, কতিপয় ডোনার, ভলান্টিয়ার্স, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, এবং আশিক শেল্টারের অবস্থিত ক্যান্সার আক্রান্ত শিশু ও তাদের পরিবার উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে অর্ধ শতাধিক শিশুকে চকলেট বিতরণ করেন সমাজসেবী ও সঙ্গীতশিল্পী রিদওয়ানা আফরীন সুমি।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ