১০:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জিতেও সমর্থকদের মন পেল না মেসি-নেইমাররা

রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে খেই হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে বাদ পড়ার তো এখনো চার দিনও হলো না। তীব্র দহনের এ ব্যথা কী আর এত তাড়াতাড়ি যায়! তবে পিএসজি সমর্থকদের এ ব্যথার আওয়াজে ‘আহা-উঁহু’ নয়, মুখ থেকে দুয়ো বের হলো। শিষ বাজল। যাঁদের কারণে এই পোড়া ক্ষত, সেই মেসি-নেইমারদের শিষ বাজিয়ে-দুয়োতে নিজেদের বিরক্তি-হতাশার কথা জানান দিলেন পিএসজি সমর্থকেরা।

বিরক্তিটা ৯০ মিনিট শেষেও যায়নি। লিগে আজ পয়েন্ট তালিকার তলানিতে থাকা বোর্দোকে নিজেদের মাঠে ৩-০ গোলে হারিয়েছে পিএসজি, কিলিয়ান এমবাপ্পে আর নেইমারের পাশাপাশি গোল পেয়েছেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। কিন্তু ঘোল দিয়ে তো আর দুধের স্বাদ মেটানো যায় না। তিন গোলে জিতেও তাই সমর্থকদের মন জেতা হলো না মেসি-নেইমারদের।

মেসির পায়ে বল গেলেই দুয়ো ভেসে এসেছে পার্ক দে প্রিন্সেসের চারিদিক থেকে, নেইমারের পায়ে বল গেলেও। এমনকি নেইমার ম্যাচে দ্বিতীয় গোলটি করার পরও দুয়োই শুনলেন! মাঝে মধ্যে ভ্রম হচ্ছিল, পার্ক দে প্রিন্সেস পিএসজিরই স্টেডিয়াম তো, নাকি বোর্দোর? প্রশ্নটার উত্তর মিলেছে কিলিয়ান এমবাপ্পের পায়ে বল যাওয়ার পর। রিয়ালের কাছে শেষ ৩০ মিনিটে তিন গোল খেয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বাদ পড়া পিএসজির দুই লেগে দুটি গোলই তো এমবাপ্পের, ফরাসি ফরোয়ার্ডের পায়ে বল গেলে আবার ঠিকই তালিতে-হর্ষধ্বনিতে অভিবাদন জানাচ্ছিলেন পিএসজি সমর্থকেরা।

ফরাসি ক্লাবের সমর্থকদের চোখে খলনায়ক অবশ্য শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও ছিল। ক্লাবের চেয়ারম্যান নাসের আল-খেলাইফি, ক্রীড়া পরিচালক লিওনার্দো, কোচ মরিসিও পচেত্তিনো…সবারই এই মৌসুম শেষে পিএসজি ছেড়ে দেওয়ার গুঞ্জন। ক্লাবের প্রশাসনের ওপরও বিরক্ত আজ মাঠে ব্যানারে লিখে এনেছেন, ‘বিদেয় হও!’ এ সবের মধ্যেই ফুটবল চলেছে, তবে তাতে প্রাণ ছিল না আরকি।

চ্যাম্পিয়নস লিগ ছাড়া তো এই মৌসুমে আসলে পিএসজির লড়াই করার মতো তেমন কিছু ছিল না, চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে এত তাড়াতাড়ি ঝরে পড়ায় ফেব্রুয়ারিতেই মৌসুমটা কার্যত প্রাণহীন হয়ে গেছে প্যারিসিয়ানদের জন্য। লিগে তো আজ নিজেদের ২৮তম ম্যাচে নামার আগেই পয়েন্ট তালিকার দুই নম্বরে থাকা নিসের চেয়ে ১২ পয়েন্ট এগিয়ে ছিল পিএসজি (আজ জিতে এগিয়ে গেল ১৫ পয়েন্টে), লিগের শিরোপা তাই অনেক আগেই নিশ্চিত পিএসজির। শুধু আনুষ্ঠানিকতাটাই বাকি। ফরাসি কাপে পিএসজি বাদ পড়েছে শেষ ষোলোতে। মৌসুমে আর তাহলে থাকল কী!

অর্থহীন ম্যাচে পিএসজির ফুটবলও হয়েছে ম্যাড়মেড়ে। একে তো তেমন কিছু আর পাওয়ার নেই, কোনো লড়াই নেই, তারওপর রিয়ালের কাছে হারের ধাক্কা তো সমর্থকদের মতো খেলোয়াড়েরাও এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি। সেটিরই ফল, প্রাণহীন ফুটবল।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :

ছয় লাশ পোড়ানো মামলার রায় : ১৬ আসামির ভাগ্য নির্ধারণ আজ

জিতেও সমর্থকদের মন পেল না মেসি-নেইমাররা

প্রকাশিত : ০৫:৩৫:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ মার্চ ২০২২

রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে খেই হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে বাদ পড়ার তো এখনো চার দিনও হলো না। তীব্র দহনের এ ব্যথা কী আর এত তাড়াতাড়ি যায়! তবে পিএসজি সমর্থকদের এ ব্যথার আওয়াজে ‘আহা-উঁহু’ নয়, মুখ থেকে দুয়ো বের হলো। শিষ বাজল। যাঁদের কারণে এই পোড়া ক্ষত, সেই মেসি-নেইমারদের শিষ বাজিয়ে-দুয়োতে নিজেদের বিরক্তি-হতাশার কথা জানান দিলেন পিএসজি সমর্থকেরা।

বিরক্তিটা ৯০ মিনিট শেষেও যায়নি। লিগে আজ পয়েন্ট তালিকার তলানিতে থাকা বোর্দোকে নিজেদের মাঠে ৩-০ গোলে হারিয়েছে পিএসজি, কিলিয়ান এমবাপ্পে আর নেইমারের পাশাপাশি গোল পেয়েছেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। কিন্তু ঘোল দিয়ে তো আর দুধের স্বাদ মেটানো যায় না। তিন গোলে জিতেও তাই সমর্থকদের মন জেতা হলো না মেসি-নেইমারদের।

মেসির পায়ে বল গেলেই দুয়ো ভেসে এসেছে পার্ক দে প্রিন্সেসের চারিদিক থেকে, নেইমারের পায়ে বল গেলেও। এমনকি নেইমার ম্যাচে দ্বিতীয় গোলটি করার পরও দুয়োই শুনলেন! মাঝে মধ্যে ভ্রম হচ্ছিল, পার্ক দে প্রিন্সেস পিএসজিরই স্টেডিয়াম তো, নাকি বোর্দোর? প্রশ্নটার উত্তর মিলেছে কিলিয়ান এমবাপ্পের পায়ে বল যাওয়ার পর। রিয়ালের কাছে শেষ ৩০ মিনিটে তিন গোল খেয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বাদ পড়া পিএসজির দুই লেগে দুটি গোলই তো এমবাপ্পের, ফরাসি ফরোয়ার্ডের পায়ে বল গেলে আবার ঠিকই তালিতে-হর্ষধ্বনিতে অভিবাদন জানাচ্ছিলেন পিএসজি সমর্থকেরা।

ফরাসি ক্লাবের সমর্থকদের চোখে খলনায়ক অবশ্য শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও ছিল। ক্লাবের চেয়ারম্যান নাসের আল-খেলাইফি, ক্রীড়া পরিচালক লিওনার্দো, কোচ মরিসিও পচেত্তিনো…সবারই এই মৌসুম শেষে পিএসজি ছেড়ে দেওয়ার গুঞ্জন। ক্লাবের প্রশাসনের ওপরও বিরক্ত আজ মাঠে ব্যানারে লিখে এনেছেন, ‘বিদেয় হও!’ এ সবের মধ্যেই ফুটবল চলেছে, তবে তাতে প্রাণ ছিল না আরকি।

চ্যাম্পিয়নস লিগ ছাড়া তো এই মৌসুমে আসলে পিএসজির লড়াই করার মতো তেমন কিছু ছিল না, চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে এত তাড়াতাড়ি ঝরে পড়ায় ফেব্রুয়ারিতেই মৌসুমটা কার্যত প্রাণহীন হয়ে গেছে প্যারিসিয়ানদের জন্য। লিগে তো আজ নিজেদের ২৮তম ম্যাচে নামার আগেই পয়েন্ট তালিকার দুই নম্বরে থাকা নিসের চেয়ে ১২ পয়েন্ট এগিয়ে ছিল পিএসজি (আজ জিতে এগিয়ে গেল ১৫ পয়েন্টে), লিগের শিরোপা তাই অনেক আগেই নিশ্চিত পিএসজির। শুধু আনুষ্ঠানিকতাটাই বাকি। ফরাসি কাপে পিএসজি বাদ পড়েছে শেষ ষোলোতে। মৌসুমে আর তাহলে থাকল কী!

অর্থহীন ম্যাচে পিএসজির ফুটবলও হয়েছে ম্যাড়মেড়ে। একে তো তেমন কিছু আর পাওয়ার নেই, কোনো লড়াই নেই, তারওপর রিয়ালের কাছে হারের ধাক্কা তো সমর্থকদের মতো খেলোয়াড়েরাও এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি। সেটিরই ফল, প্রাণহীন ফুটবল।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর