বাংলাদেশের কোনো আবেদনে সাড়া না দেওয়ার সিদ্ধান্তই যেন নিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার দুই আম্পায়ার। তাই তো নিশ্চিত আউটের আবেদনেও উঠছে আম্পায়ারদের আঙুল। এই অবস্থার মধ্যে একবার রিভিউ না নেওয়ার ভুল করলেও, দ্বিতীয়বার সেই পথে হাঁটেনি বাংলাদেশ।
ডারবানের কিংসমিডে প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিন দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই প্রোটিয়া অধিনায়ক ডিন এলগারের উইকেট তুলে নিয়েছে টাইগাররা। তবে সরল পথে মেলেনি সেটি। আম্পায়ার প্রথমে নট আউট দেওয়ার পর রিভিউ নিয়ে উইকেট আদায় করেছে মুমিনুল হকের দল।
ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় ফিফটি হাঁকিয়ে দলকে ভালোভাবেই এগিয়ে নিচ্ছিলেন এলগার। শেষ পর্যন্ত ইনিংসের ৩৮তম ওভারের তৃতীয় বলে তাকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তাসকিন আহমেদ। তার ভেতরে ঢোকা ডেলিভারি সোজা আঘাত হানে এলগারের প্যাডে।
কিন্তু বাংলাদেশের জোরালো আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার মারাইস এরাসমাস। সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। রিপ্লে দেখে এলগারকে আউটের সিদ্ধান্ত জানান থার্ড আম্পায়ার। দলীয় ১১৬ রানে সাজঘরে ফেরার আগে ৬৪ রান করেন এলগার।
আগের দিন ৪ ওভার খেলে বিনা উইকেটে ৬ রান করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখান থেকে আজ প্রথম উইকেট জুটি টেকে ১৯তম ওভার পর্যন্ত। দলীয় ৪৮ রানের মাথায় এবাদতের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফেরেন ৫১ বলে ৮ রান করা এরউই।
এটি প্রথমে আউট দেননি আম্পায়ার। তবে রিভিউ নিতে ভুল করেনি বাংলাদেশ। যা আসে টাইগারদের পক্ষে। থার্ড আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত জানাতেই নিজের ট্রেডমার্ক স্যালুট দেন এবাদত। অবশ্য এরউইয়ের আগেই সাজঘরে ফিরতে পারতেন এলগার।
দিনের দ্বিতীয় ওভারে প্রোটিয়া অধিনায়কের বিপক্ষে জোরালো আবেদন করেছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ। কিন্তু আউট দেননি আম্পায়ার। বাংলাদেশ দল রিভিউ নিলে দেখা যায়, হিটিং অংশ ছিল আম্পায়ার্স কল। অর্থাৎ আম্পায়ার আউট দিলে সেটিতে উইকেট পেতো বাংলাদেশ।
এই দফায় রিভিউতে বাঁচার পর আরও দুইবার ক্যাচ দিয়েও জীবন পান এলগার। মিরাজের করা ইনিংসের ২০তম ওভারের প্রথম বলে তার ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল চলে যায় প্রথম স্লিপে দাঁড়ানো নাজমুল হোসেন শান্তর কাছে। কিন্তু সেটি তালুবন্দী করতে পারেননি শান্ত।
পরে এবাদতের করা ২৩তম ওভারের দ্বিতীয় বলে দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়িয়ে ক্যাচ ছাড়েন ইয়াসির রাব্বি। প্রথমে ৩৪ ও পরে ৪৩ রানে জীবন পান এলগার। সেখান থেকেই তুলে নেন চলতি ম্যাচে দ্বিতীয় ও ক্যারিয়ারের ২১তম ফিফটি।
আরেক অপরাজিত ব্যাটার কেগান পিটারসেনের বিরুদ্ধে রিভিউ নিলে উইকেট পেতে পারতো বাংলাদেশ। খালেদের করা ২৬তম ওভারের ভেতরে ঢোকা ডেলিভারি গিয়ে আঘাত হানে কেগানের ভেতরের পায়ের প্যাডে। কিন্তু আউট দেননি আম্পায়ার।
বোলার খালেদ পুরোপুরি নিশ্চিত ছিলেন এটি আউট, কিন্তু রিভিউ নেননি অধিনায়ক মুমিনুল হক। পরে রিপ্লে’তে দেখা যায়, তিনটি লাল অর্থাৎ আউট ছিলেন কেগান। আম্পায়ারের বদান্যতা ও বাংলাদেশের অদক্ষতায় ১৪ রানে বেঁচে যান কেগান।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর
























