ঢাকা ভোর ৫:২১, বৃহস্পতিবার, ১৯শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

হজ মৌসুম’কে সামনে রেখে সক্রিয় প্রতারক চক্র প্রতারনায় গ্রেফতার ১

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের একটি টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে রাজধানী’তে হজ মৌসুম’কে সামনে রেখে সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রতারক চক্র। সাম্প্রতিক সময়ে এয়ারলাইন্স টিকেট জালিয়াতি চক্রের ০১ প্রতারককে বিভিন্ন আলামতসহ গ্রেফতার করেছে ডিবি। গত ১১ মে ২২ ইং রাজধানীর কলাবাগান গ্রীনরোড হতে গ্রেফতার করা হয় প্রতারক মাহবুবুর উর রশিদ (৫১)কে গ্রেপ্তারের সময় তার হেফাজত হতে বিভিন্ন এয়ালাইন্সের ৮১ টি ভুয়া টিকেট,প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ০২ টি মোবাইল ফোন,২টি কম্পিউটার, ১টি কালো রংয়ের হাড জীপগাড়ি, ১২ টি বিভিন্ন ব্যাংকের চেক ও একটি ডাচ-বাংলা এটিএম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য,গত ১১ মে ২২ ইং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, বেশ কিছু ট্রাভেলিং এন্ড ট্যুর এজেন্সি যারা ব্যক্তিবিশেষ বা সাব-এজেন্টের মাঝে বিভিন্ন দেশের মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও আফ্রিকার দেশগুলোতে যাওয়ার জন্য বিমানের টিকেট আগাম বিক্রি করে। নির্দিষ্ট ফি দেওয়ার পরে তারা যাত্রীদেরকে ই-টিকেটের ফুল আই-টিনারি প্রদান করে যেখানে যাত্রীর নাম, জন্ম তারিখ, পার্সপোট নাম্বার ইত্যাদি দেওয়া থাকে এবং কোথায় প্রস্থানস্থান ও কোথায় গন্তব্যস্থান, ট্রানজিট এই সমস্ত তথ্য দেওয়া থাকে। যাত্রীরা ই-টিকেট বুঝে নিয়ে নিশ্চিন্তে পাসপোর্টের ভিতরে রেখে দেয়। নির্দিষ্ট দিন তারিখে যাত্রীরা ব্যাগ ও লাগেজ নিয়ে বিমান বন্দরে হাজির হয়। ই-টিকেট ও পাসপোর্ট দেওয়ার পর এয়ারলাইন্সের লোকেরা বলেন যে ই-টিকেটের বুকিংটা ঠিক ছিল কিন্তু বুকিং দেওয়ার এক বা দুই দিন পরে পেমেন্টকৃত টাকা রিফান্ড করে তুলে নেওয়া হয়েছে বিধায় টিকেটটি আর বৈধ নেই এবং বাতিল হয়ে গেছে।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, বিমানের টিকেট আগাম বিক্রি করে নির্দিষ্ট ফি দেওয়ার পরে যাত্রীদেরকে ই-টিকেটের পূর্ন ভ্রমন বৃত্তান্ত (চঁষষওঃরহবৎধৎু) প্রদান করে, ই-টিকেটের বুকিংটা ঠিক ছিল কিন্তু বুকিং দেওয়ার টাকা রিফান্ড করে তুলে নেওয়া হয়। সাধারণ মানুষ বিদেশে কেউ চিকিৎসার জন্য যাবে, কেউ যাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি সংক্রান্ত কাজে, ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা পবিত্র হজ্জ, ওমরাহ পালন করতে, কেউ তার নিয়মিত চাকরিতে যোগদান করতে যাবে। এমতাবস্থায় যখন যাত্রীরা দেখে তাদের টিকেট বাতিল হয়েছে এবং পেমেন্টকৃত টাকা রিফান্ড করে তুলে নেয়া হয়েছে তখন যাত্রীরা বিপদের মধ্যে পড়ে যায়। পরবর্তীতে যাত্রীরা ঐ ট্রাভেল এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করলে আবার ৫০ হাজার অথবা ১ লক্ষ টাকা ফি নিয়ে একই রকম টিকেট দেয়। অধিকাংশ সময়ে প্রমাণিত হয়েছে সেই টিকেটটি ভুয়া। এভাবে একটা পর্যায়ে টিকেট এজেন্সির লোকেরা মোবাইল বন্ধ করে অফিস বদল করে লাপাত্তা হয়ে যায়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার জনাব মশিউর রহমান বিপিএম (বার), পিপিএম এর সার্বিক তত্তাবধানে ও অতিঃ উপ-পুলিশ কমিশনার কামরুজ্জামান সরদার এর নিদের্শনায় গুলশান জোনাল টিমের টিম লিডার সহকারী পুলিশ কমিশনার খলিলুর রহমান এর নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় একটি মামলা রুজু হয়েছে বলে জানান উপ-পুলিশ কমিশনার মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন্স ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

এ বিভাগের আরও সংবাদ