ফেনীর জেলা আওয়ামী নেতা ওপৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন ওতার স্ত্রী তাসলিমা কাওসারের অস্বাভাবিক আয়ের যথার্থতা যাচাইয়ে অনুসন্ধানে নেমেছে দূর্ণীতি দমন কমিশন(দুদক)। দাখিলকৃত সম্পদ বিরণী যাচাই ও অনুসন্ধানের জন্য সহকারী পরিচালক মো: সাইদুজ্জামানকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে দূর্ণীতি দমন কমিশন। দায়িত্ব পেয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মেয়র পরিবারের আয়কর নথিতে উল্লেখ করা আয়ের যথার্থতা যাচাইয়ের জন্য সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চিঠি ইস্যু করেছেন। চিঠি প্রাপ্তি সাপক্ষে সোনাগাজী উপজেলা মৎস কর্মকর্তা, প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা,ইউপি সদস্য,ইউপি চেয়ারম্যানের সমন্বয়ে টিম গঠন করে সরজমিনে অনুসন্ধান করে প্রাপ্ত তথ্যাদি সাত কার্য দিবসের মধ্যে দুদক কার্যালয়ে প্রেরনের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেছেন। সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মনজুরুল হক বলেন, দুদকের চিঠি পেয়ে প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা কল্লোল বড়–য়া,মৎস কর্মকর্তা তূর্য সাহা,সোনাগাজী সদর ইউপি চেয়ারম্যান উম্মে রুমা,বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন ও উপজেলা দূর্ণীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি নিতাই চরণ ভৌমিকের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্তকারী দল ইতিমধ্যে তাদের অনুসন্ধান শুরু করেছে।মেয়র রফিকুল ইাসলাম খোকনের আয়রকর নথি সুত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ ও ২০২১-২০২২ করবর্ষে মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকনের স্ত্রী তাসলিমা কাউসার গৃহপালিত হাস মুরগী কবুতর বিক্রি করে ৩১ লাখ ২০ হাজার টাকা,মুরগী ফার্মের ব্যবসার মাধ্যমে ৬ লাখ ৩৯ হাজার টাকা,ডেইরী ফার্মের ব্যবসার মাধ্যমে ১০ লাখ ৭০ হাজার ৮শ ৩৪ টাকা এবং মৎস চাষ হতে ২৫ লাখ ২২ হাজার ৪শ টাকা আয় করেছেন। মেয়র খোকন ২০১৬-১৭ করবর্ষ হতে ২০২০-২১ করবর্ষে গাছ মাছ নারিকেল সুপারি বিক্রি করে আয় করেছে ৪৬ লাখ ৪২ হাজার ৫শ ৯১ টাকা।গত বছরের ২০ জানুয়ারী জমির শ্রেনী পরিবর্তন করে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে দৈনিক সমকালে সংবাদ প্রকাশ হলে দুদক নোয়াখালী কার্যালয়ের উপপরিচালক আরিফ আহমদের নেতৃত্ব একটি তদন্ত কমিটি বিষয়টির অনুসন্ধান করেন। অভিযোগ উঠেছে সরজমিনে তদন্ত না করে ওই কর্মকর্তা মেয়রের অনুগত কয়েকজন ব্যাক্তির সাক্ষ্য গ্রহন করে দায়সারা প্রতিবেদন দাখিল করেন।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আরিফ আহমদ বলেন, সরজমিনে তদন্ত করে স্থানীয়দের বক্তব্য নিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করি।গত ২০ সালের ১ জানুয়ারী প্রায় ১০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নোটিশ দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের সেগুনবাগিচার কার্যালয়ে খোকনকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলেও প্রভাবশালী মহলের তদবিরে পরবর্তী তদন্ত বর্তমানে ফের নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে।এদিকে অভিযোগ উঠেছে মেয়র তার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় তদন্ত দলকে প্রভাবিত করে প্রতিবেদন তার পক্ষে আনার জন্য দৌড়ঝাপ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে তিনি মৎস কর্মকর্তা ও প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার সাথে একাধীকবার বৈঠক করেছেন বলে একটি দায়িত্বশীল সুত্র নিশ্চিত করেছেন। তাছাড়া তদন্ত কমিটির সদস্য সদর ইউপির চেয়ারম্যান উম্মে রুমা মেয়র আস্থাভাজন ব্যক্তি। তাই মেয়র বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত হওয়া নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তদন্ত কমিটির প্রধান প্রাণি সম্পদ কল্লোল বড়–য়া বলেন, তদন্ত কমিটি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে। আয়কর নথিতে উল্লেখ করা মুরগীর ফার্মের অস্তত্বি পাওয়া গেছে কিনা প্রশ্নের উত্তরে তিনি তদন্তের বিষয়ে কোন তথ্য প্রদানে রাজি হননি। আয়কর নথিতে উল্লেখ করা মুরগির ফার্মের অস্তিত্ব বাস্তবে রয়েছে কিনা জানতে সরজমিনে মুহুরী প্রজেক্ট সংলগ্ন মেয়র প্রকল্পে সরজমিনে দেখা যায় যায় গরুর ফার্ম ও মৎস প্রকল্প থাকলেও মুরগীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। প্রকল্পে পাশের চা দোকানদার কামাল উদ্দিন মিলন নিশ্চিত করে বলেন প্রকল্পে মুরগীর ফার্ম নেই। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে মেয়রের বাড়িতে হাস মুরগি কবুতর পালন করা হয় এমন তথ্য কেউ জানাতে পারেনি।সোনাগাজী পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র নুর নবী লিটন বলেন,গৃহপালিত হাস মুরগি কবুতর পালন করে বিপুল পরিমান টাকা আয় করা কিছুতেই সম্ভব না। আমি তার প্রতিবেশী কিন্তু কখনো দেখিনি এবং শুনিনি তার পরিবারের হাস মুরগি কবুতর লালন পালন করতে। মেয়র তার আয়কর নথিতে প্রকৃত আয়ের চিত্র তুলে ধরেননি। তার প্রকৃত আয় আয়কর নথিতে উল্লেখ করা আয়ের চেয়ে কয়েকশ গুন বেশী। সে পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৪০ একর সম্পত্তি ক্রয় করেছে যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। দৃশ্যমান আয় দিয়ে এত বিপুল সম্পত্তি ক্রয় করা কিছুতেই সম্ভব না। পৌরসভায় বাড়ি ঘর নির্মান করতে পৌর করের বাহিরে অঘোষিতভাবে বিপুল চাঁদা আদায়, পৌরসভার বরাদ্ধের তসরুফ, পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্পে নামকাওয়াস্তে কাজ করে টাকা আত্মসাৎ হলো তার অবৈধ আয়ের অন্যতম উৎস। তার অবৈধ আয়ের সব তথ্য ও ক্রয়কৃত সম্পত্তির দলিল নাম্বার সহ উল্লেখ করে ব্যবস্থা নিতে দুদক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি কিন্তু প্রভাবশালী মহলের সহযোগীতায় দুদক তার বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করছেনা।অভিযোগের বিষয়ে জানতে মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকনের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করে ব্যস্ত রয়েছে জানিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে তার ব্যবহৃত নাম্বারে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি উত্তর দেননি।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ
০২:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম :
হাস, মুরগী কবুতর বিক্রি করে আ,লীগ নেতা মেয়র পরিবারের বছর আয় ৩১ লাখ টাকা!
-
ফেনী থেকে মফিজূর রহমান: - প্রকাশিত : ০৫:০১:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২
- 68
ট্যাগ :
জনপ্রিয়






















