অদ্য ০৯ জুন ২২ ইং অভিযুক্ত আসামী মোঃ আব্দুল আলীম,সাবেক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, গাবতলী, বগুড়া, বর্তমানে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, সোনাইমুরী,নোয়াখালী,উপজেলা ও জেলা জেলা- কুড়িগ্রাম ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে সরকারের প্রায় ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের দায়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)সমন্বিত জেলা কার্যালয়,বগুড়ার উপপরিচালক বাদী হয়ে মামলা করেছেন।
অভিযুক্ত মোঃ আব্দুল আলীম,সাবেক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তিনি তার ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করে সরকারি দুই কোটি ত্রিশ লক্ষ উনসত্তর হাজার সাতশত তিরানব্বই হাজার (২,৩০,৬৯,৭৯৩/৬০ )টাকা আত্মসাত করেছেন।সরকারী দন্ডবিধির ৪০৯ ধারা তৎসহ ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় তার বিরুদ্ধে এই মামলা টি দায়ের করা হয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়, গাবতলী, বগুড়া এর সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়,বগুড়া হতে ২৭৮+১৯৬ = ৪৭৪টি প্রকল্পের বিপরীতে (২,১৭,৪০,৩৪৭/৮০ +১,৫৩,২৭,৭২৭/২০) = ৩,৭০,৬৮,০৭৫/- (তিন কোটি সত্তর লক্ষ আটষট্টি হাজার পঁচাত্তর) টাকা উপবরাদ্দ প্রাপ্ত হয়ে প্রতিটি প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ৭৮,২০২/৬৯ টাকা সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি বরাবর অগ্রিম প্রদান করা হয়।
পরবর্তীতে আসামী মো: আব্দুল আলীম প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে প্রকল্প পরিদর্শন করে প্রকল্পের কাজ পাওয়া যায় বিধায় অগ্রিম বরাদ্দকৃত অর্থ সমন্বয় রেজিস্টারে সমন্বয় করা যেতে পারে মর্মে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, গাবতলী বরাবর নোট উপস্থাপন করেন। “যেহেতু পরিদর্শন করে প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত পেয়েছেন সেহেতু সমন্বয় রেজিস্টার প্রস্তুত/সম্পন্ন করুন” মর্মে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, গাবতলী উক্ত নোট অনুমোদন করেন। অতঃপর বর্ণিত প্রকল্পের সমাপনী (চূড়ান্ত) প্রতিবেদন পরিচালক (মূওপ), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবন, মহাখালী, ঢাকা বরাবর প্রেরণ করা হয়।
২০১৭-১৮ অর্থবছরে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে প্রকল্পসমূহের কাজ হয়েছে কিনা তা জানানোর জন্য গাবতলী উপজেলাধীন ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং গাবতলী পৌরসভার মেয়র বরাবর পত্র প্রেরণ করা হয়। তৎপ্রেক্ষিতে ৮টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং গাবতলী পৌর মেয়র কর্তৃক প্রদত্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, ২৯৫ টি প্রকল্পের কোন প্রকার কাজ হয়নি, তন্মধ্যে কতিপয় প্রকল্পের অস্তিত্ব নেই।
এছাড়া অনুন্ধানকালে প্রকল্পসমূহ দৈবচয়নের মাধ্যমে কতিপয় প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। সরেজমিন পরিদর্শনে উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়নি মর্মে দেখা যায়।
অনুসন্ধানকালে অস্তিত্ব না থাকা এবং প্রকল্পের কাজ না হওয়া প্রকল্পগুলোর অনুকূলে বরাদ্দকৃত অর্থ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি বরাবর ছাড় করা হয়েছিল মর্মে প্রকল্প বাস্তবায়ন অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো: আব্দুল আলীম জানান।
কিন্তু উক্ত প্রকল্পগুলোর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি/সেক্রেটারি কে ছিলেন এবং কার বরাবর উক্ত বরাদ্দকৃত টাকা অগ্রিম হিসেবে প্রদান করা হয়েছে অর্থাৎ উক্ত টাকা কে গ্রহণ করেছেন সেই বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি এ বিষয়ে কোন গ্রহণযোগ্য উত্তর দিতে পারেননি।
এতে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয় যে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলায় বরাদ্দকৃত প্রকল্পসমূহের মধ্যে ২৯৫ টি প্রকল্পের কোন কাজ না করে ভূয়া প্রকল্প কমিটি দেখায়ে প্রতারণা, জাল-জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে কতিপয় ব্যক্তির সাথে পরস্পর যোগসাজশে উক্ত প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দকৃত মোট (৭৮,২০২/৬৯×২৯৫) টাকা = ২,৩০,৬৯,৭৯৩/৬০ (দুই কোটি ত্রিশ লক্ষ উনসত্তর হাজার সাতশত তিরানব্বই টাকা ষাট পয়সা) টাকা আত্মসাত করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, উল্লিখিত প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের প্রাক্কালে অভিযুক্ত আসামী মো: আব্দুল আলীম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, গাবতলী, বগুড়া প্রকল্পসমূহ সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রকল্পের অস্তিত্ব আছে এবং বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা আছে মর্মে নোট উপস্থাপন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উক্ত নোটে অনুমোদন প্রদান করেন।
এক্ষেত্রে প্রকল্পের ২,৩০,৬৯,৭৯৩.৫৫ টাকা আত্মসাতের সাথে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: আব্দুল আলীম এর জড়িত থাকার বিষয়টি প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হওয়ায় তার বিরুদ্ধে উল্লিখিত অপরাধের কারণে দন্ডবিধির ৪০৯ ধারা তৎসহ ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের অনুমতির জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রধান কার্যালয়, ঢাকায় প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়। তৎপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন আসামী মো: আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে বর্ণিত ধারায় একটি মামলা রুজুর অনুমোদন প্রদান করা হয়।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

























