সংবাদ সংগ্রহে চট্টগ্রাম আদালতে যাওয়ার পথে গাড়ির হর্ন দেয়া নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে বুধবার (১৭ আগস্ট) বিকালে যমুনা টেলিভিশন চট্টগ্রাম ব্যুরোর প্রতিবেদক আল আমিন শিকদার এবং ভিডিওগ্রাফার আসাদুজ্জামান লিমনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় জড়িত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির বলেন, আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। মামলায় শাহেদুল হক ও ইসহাক আহমেদের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে, সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে এ সমাবেশ থেকে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলাকারী আইনজীবীদের গ্রেফতার ও বার কাউন্সিল সনদ বাতিলের জন্য তিনদিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। অন্যথায়, সারাদেশের সাংবাদিকদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন চালিয়ে নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সমাবেশে সিইউজে সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, চট্টগ্রামে যে কোনো প্রগতিশীল আন্দোলন-সংগ্রামে আইনজীবীদের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন সাংবাদিকরা। দীর্ঘদিনের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যেই আদালত প্রাঙ্গনে আইনজীবী পরিচয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা বিশ্বাস করি দেশবিরোধী কোনো স্বার্থের ইন্ধনে আইনজীবী পরিচয়ে সাংবাদিকদের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। কারণ, জঙ্গি হামলার রায়ের ঘটনার সংবাদ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন। দোষীদের চিহ্নিত করে আইনজীবী সমিতিকে তাদের সদস্যপদ বাতিলসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। হামলাকারীদের তিনদিনের মধ্যে তাদের আইনজীবী সনদ বাতিল না করলে ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে সাংবাদিক সমাজ কঠোর আন্দোলনে যাবে।
সমাবেশে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি আলহাজ্ব আলী আব্বাস বলেন, সারাদেশে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর অব্যাহত হামলা দুঃখজনক। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে বারবার সাংবাদিকদের ওপর এ ধরণের হামলার ঘটনা ঘটছে। দোষীরা যাতে কোন পার না পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তা নিশ্চিত করতে হবে।
সিইউজে সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম বলেন, নগরীর নিউ মার্কেট এলাকায় সাংবাদিক প্রীতম দাশের ওপর হামলার ঘটনার সপ্তাহ না যেতেই আদালত প্রাঙ্গনে আরও দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, ছবিসহ সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকার পরও যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়, তা হবে দু:খজনক। সাংবাদিক সমাজ দেশের আপামর জনসাধারণকে নিয়ে এ দুর্বৃত্তদের রুখে দাঁড়াবে।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ বলেন, দুই সাংবাদিকের ওপর ঠুনকো অজুহাতে দুই দফায় হামলা হয়েছে। আইনজীবী পরিচয়ে কীভাবে আদালত পাড়ায় এ বেআইনি ন্যাক্কারজনক হামলা হলো তা রহস্যজনক। কয়েকজন উশৃঙ্খল আইনজীবী চট্টগ্রাম আদালতে কর্মরত ১০ হাজার আইনজীবীর প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। আইনজীবী সমিতিকেই দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে।
সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক সবুর শুভ’র সঞ্চালনায় এছাড়াও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিইউজের সিনিয়র সহসভাপতি রতন কান্তি দেবশীষ, সহসভাপতি অনিন্দ্য টিটো, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব মহসিন কাজী, সাবেক যুগ্ম মহাসচিব তপন চক্রবর্তী, চট্টগ্রাম টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাসির উদ্দিন তোতা, সাধারণ সম্পাদক লতিফা আনসারী রুনা, বিএফইউজের নির্বাহী সদস্য আজহার মাহমুদ, প্রণব বড়ুয়া অর্ণব, সিইউজের টিভি ইউনিট প্রধান মাসুদুল হক প্রমুখ।






















