জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার বলেন, “দেশি পণ্য বিদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে সবাইকে সমান সুযোগ দেয়া হবে। সরকারের এক্সপোর্ট গ্রো করতে হবে। তা না হলে উন্নয়নশীল দেশে যাওয়া সম্ভব হবে না।”
মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুন বাগিচায় সম্মেলন কক্ষে প্রাক বাজেট আলোচনায় চেয়ারম্যান এ কথা বলেন।
এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সভায় এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সভায় নিট পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আগামী তিন বছরে গার্মেন্ট পণ্য রপ্তানিতে উৎসে কর মওকুফের দাবি করেছে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান। একই সঙ্গে কর্পোরেট কর ১০ শতাংশ রাখার দাবি রাখেন। এছাড়া আরও বেশকিছু দাবি তুলে ধরা হয়।
সভায় বিজিএমইর সভাপতি বলেন, “পোশাক খাতে ৩০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানিতে উৎসে কর আসে ২ থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা। এই সোর্স কর বাতিল করে দিন। পোশাকসহ সব খাতে করপোরেট কর ১০ শতাংশ করে দিন। পাশাপাশি এনবিআরের অডিট ব্যবস্থা অনলাইনভিত্তিক করার জোর দাবি জানাচ্ছি।”
এনবিআরকে দেওয়া লিখিত প্রস্তাবে বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে উৎসে কর শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনা। স্থায়ীভাবে উৎপাদিত রপ্তানি সংশ্লিষ্ট পণ্য ও ল্যাবরেটরি টেস্ট চার্জ, কনসালটেন্সি চার্জসহ৩৯টি সেবা পণ্যের ক্ষেত্রে ভ্যাট মওকুফসহ রিটার্ন দাখিল করা হতে অব্যাহতি প্রদান করা। আগামী বাজেটে সংগঠনটি প্রাতিষ্ঠানিক বা করপোরেট কর ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে।
এছাড়া উৎসে কর কর্তনকে সর্বনিম্ন কর বিবেচনা না করে আগের মতো চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে গণ্য করা, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির বিলে মূসক অব্যাহতি, এলইডি (লাইট এমিটিং ডায়োড) বাতি আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া, ফায়ার ফাইটিং পাম্প ও স্প্রিং কলারসহ অগ্নিনিরাপত্তার সব যন্ত্রপাতি শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানির করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।
রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের অডিট কার্যক্রমের জন্য দলিলাদি দাখিলের সময়সীমা ৩ মাসের পরিবর্তে ৬ মাসের বিধান রাখা।
অপরদিকে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা, কর্মসংস্থান, রপ্তানি ও জাতীয় স্বার্থে পোশাক শিল্পের সক্ষমতা ধরে রাখা ও এর সুরক্ষার জন্য রপ্তানি বিলের উপর শূন্য দশমিক ২ শতাংশ হারে স্ট্যাম্প শুল্ক কর্তন করা হতে তৈরি পোশাক শিল্পকে অব্যহতি প্রদান করা।
এছাড়াও তৈরি পোশাক শিল্পের নিরাপত্তাজনিত কার্যক্রমে ব্যবহৃত সকল উপকরণ সিসি ক্যামেরা ও তার যন্ত্রাংশ, আর্চওয়ে ইত্যাদি আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়া।























