০৭:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারে বনভূমিতে উন্মুক্ত কারাগার ও রাস্তা নির্মাণ বন্ধে ৩ সচিবসহ ১৮ কর্মকর্তাকে চিঠি

কক্সবাজারের উখিয়া ও রামুতে পাহাড়-টিলা-ঝর্ণা-ছড়া সমৃদ্ধ রক্ষিত বনভূমিতে উন্মুক্ত কারাগার ও সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব,পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ১৮ সরকারি কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছে পরিবেশ বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘এনভায়রনমেন্ট পিপল’।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার পাগলিরবিল মৌজার আরএস ৬০২ দাগসহ বিভিন্ন দাগের পাহাড়/টিলা শ্রেণীর ভূমিকে গেজেট
নোটিফিকেশন মূলে ১৯৩৫ সালে রক্ষিত বনভূমি হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। এরপর থেকে বন বিভাগ গেজেটভূক্ত বনভূমিতে বনায়ন ও ব্যবস্থাপনা করে আসছে। কিন্তু
ভূমি মন্ত্রণালয় ‘উন্মুক্ত কারাগার’ নির্মাণে ১৬০ একর পাহাড় শ্রেণীর রক্ষিত বনভূমি কারা অধিদপ্তরের নামে বন্দোবস্ত প্রদান করে। কারা কর্তৃপক্ষ সেখানে সীমানা নির্ধারনে কাজ করছে। অথচ এটি বৈলাম, গর্জন, জাম, তেলসুর, চাপালিশ, আকাশমণি, গামারি, আছারগোল, ডুমুর, মোস, কড়ই, বাটনা, ভাদি, বহেরা, বটসহ বিভিন্ন প্রজাতির ছোট বড় লক্ষাধিক গাছ সমৃদ্ধ এক বনাঞ্চল। এ ছাড়া এশিয়ান হাতি, অজগর, হরিণ, বানর, শিয়াল, সাপ, শজারু, শূকরসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্য প্রাণী ও পাখির আবাসস্থল।

অপরদিকে কক্সবাজারের রামুতে সংরক্ষিত বনে শহীদ এটিএম জাফর আলম মাল্টিডিসিপ্লিন একাডেমি থেকে মেরিন ড্রাইভ পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। এটিও একটি সমৃদ্ধ বনাঞ্চল এবং সংরক্ষিত বনভূমি।

এ প্রসঙ্গে পরিবেশ বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এনভায়রনমেন্ট পিপল এর প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ বলেন, ‘উখিয়া-টেকনাফে এমনিতেই হাজার হাজার একর বনাঞ্চল রোহিঙ্গাদের কারণে ধ্বংস করা হয়েছে। এর উপর যাতায়াতের নামে সংরক্ষিত বনের বুক চিরে রাস্তা তৈরি ও উন্মুক্ত কারাগার নির্মিত হলে নির্বিচারে বনাঞ্চল উজাড়, বনভূমি জবরদখল, হাতির বিচরণ ক্ষেত্র ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্থ হওয়াসহ উক্ত এলাকার পরিবেশ ও প্রতিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। আমরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। যার কারণে রক্ষিত ও সংরক্ষিত বনভূমি সংরক্ষনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়ে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া ঝুঁকি মোকাবেলায় কক্সবাজার অঞ্চলে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহনের আগে পরিবেশের ক্ষতির বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ছাত্রদলের নতুন কমিটির আলোচনায় বারবার গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা আবু হান্নান তালুকদার

কক্সবাজারে বনভূমিতে উন্মুক্ত কারাগার ও রাস্তা নির্মাণ বন্ধে ৩ সচিবসহ ১৮ কর্মকর্তাকে চিঠি

প্রকাশিত : ০৬:০৯:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২

কক্সবাজারের উখিয়া ও রামুতে পাহাড়-টিলা-ঝর্ণা-ছড়া সমৃদ্ধ রক্ষিত বনভূমিতে উন্মুক্ত কারাগার ও সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব,পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ১৮ সরকারি কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছে পরিবেশ বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘এনভায়রনমেন্ট পিপল’।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার পাগলিরবিল মৌজার আরএস ৬০২ দাগসহ বিভিন্ন দাগের পাহাড়/টিলা শ্রেণীর ভূমিকে গেজেট
নোটিফিকেশন মূলে ১৯৩৫ সালে রক্ষিত বনভূমি হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। এরপর থেকে বন বিভাগ গেজেটভূক্ত বনভূমিতে বনায়ন ও ব্যবস্থাপনা করে আসছে। কিন্তু
ভূমি মন্ত্রণালয় ‘উন্মুক্ত কারাগার’ নির্মাণে ১৬০ একর পাহাড় শ্রেণীর রক্ষিত বনভূমি কারা অধিদপ্তরের নামে বন্দোবস্ত প্রদান করে। কারা কর্তৃপক্ষ সেখানে সীমানা নির্ধারনে কাজ করছে। অথচ এটি বৈলাম, গর্জন, জাম, তেলসুর, চাপালিশ, আকাশমণি, গামারি, আছারগোল, ডুমুর, মোস, কড়ই, বাটনা, ভাদি, বহেরা, বটসহ বিভিন্ন প্রজাতির ছোট বড় লক্ষাধিক গাছ সমৃদ্ধ এক বনাঞ্চল। এ ছাড়া এশিয়ান হাতি, অজগর, হরিণ, বানর, শিয়াল, সাপ, শজারু, শূকরসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্য প্রাণী ও পাখির আবাসস্থল।

অপরদিকে কক্সবাজারের রামুতে সংরক্ষিত বনে শহীদ এটিএম জাফর আলম মাল্টিডিসিপ্লিন একাডেমি থেকে মেরিন ড্রাইভ পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। এটিও একটি সমৃদ্ধ বনাঞ্চল এবং সংরক্ষিত বনভূমি।

এ প্রসঙ্গে পরিবেশ বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এনভায়রনমেন্ট পিপল এর প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ বলেন, ‘উখিয়া-টেকনাফে এমনিতেই হাজার হাজার একর বনাঞ্চল রোহিঙ্গাদের কারণে ধ্বংস করা হয়েছে। এর উপর যাতায়াতের নামে সংরক্ষিত বনের বুক চিরে রাস্তা তৈরি ও উন্মুক্ত কারাগার নির্মিত হলে নির্বিচারে বনাঞ্চল উজাড়, বনভূমি জবরদখল, হাতির বিচরণ ক্ষেত্র ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্থ হওয়াসহ উক্ত এলাকার পরিবেশ ও প্রতিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। আমরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। যার কারণে রক্ষিত ও সংরক্ষিত বনভূমি সংরক্ষনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়ে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া ঝুঁকি মোকাবেলায় কক্সবাজার অঞ্চলে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহনের আগে পরিবেশের ক্ষতির বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ